স্বপ্নের খুব কাছাকাছি ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আরিফ সোহেল

চার বছরের স্বপ্ন রঙিন দিনের খুব কাছাকাছি স্বাগতিক ইংল্যান্ড। আজ সেমিফাইনালে নামছে তাদের প্রিয় এজবাস্টনে। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। স্বপ্নপথে আজ কাঁটা বিছিয়ে আছে অস্টেলিয়া। বিশ্বকাপে ফাইনাল তাদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতোই। শেষ হাসি হাসতেও পারে ইংল্যান্ড। ২০১৬-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতাটা তাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া অনেকটা নির্ভার তাদের ব্যাটার-বোলারদের সঞ্চিত গোলা-বারুদ নিয়ে। তবে অগ্নিপরীক্ষার এ ম্যাচে দীর্ঘ চার বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্রিটিশরা শতভাগ উজার করে খেলবে।

রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বকাপে সর্বশেষ সাত আসরের কোনো সেমিফাইনালেই হারেনি অস্ট্রেলিয়া। তবে ২০ বছর আগে এজবাস্টনে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে টাই করেছিল তারা। যদিও রান রেটে এগিয়ে থাকার কারণে ওই ম্যাচ থেকে ফাইনালের টিকিট পায় অস্ট্রেলিয়া।

এবারও মানসিকভাবে এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কারণ চলমান টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে গত মাসে লর্ডসে তারা অ্যাশেজ প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে ৬৪ রানে অসিরা। দুই পেসার বাঁহাতি জেসন বেহরেনডর্ফ ও মিচেল স্টার্কের ভাগাভাগি করে ৯ উইকেট শিকারের পর অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ইংলিশ বোলারদের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে ব্যাট হাতে তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি।

২০১৬ সালের সেই ফাইনালের ১০ জন ক্রিকেটার এবারের ইংল্যান্ড দলেও আছেন। তার ওপর ইংল্যান্ড ২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন। ২০০৪ এবং ২০১৩ সালে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু শেষ ২৭ বছরে বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। অতীতে দুবার তারা সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের কাছে পরাজিত হয়।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সাফল্যের জন্য ইংল্যান্ড অনেকটাই নির্ভর করতে হবে জো রুটের ওপরে। আর রুট নিজে মনে করেন, তারা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। রুট বলেছেন, ‘বহু দিন পর আমরা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সেমিফাইনালে খেলব। নিঃসন্দেহে এটা একটা বিরাট ব্যাপার আমাদের কাছে। এ রকম সুযোগ বারবার আসে না। তা ছাড়া এই দলের অনেকেই ২০১৬-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছিল। সেই ফাইনালের অভিজ্ঞতাটাও আমাদের এজবাস্টনে দারুণ কাজে দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’ রুট বলেছেন, ‘বেশ ভালো ছন্দেই আমরা টুর্নামেন্টে খেলা শুরু করেছিলাম। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে দলের মনোবল চিড় খেয়েছিল। এটা স্বীকার করতেই হবে। সেখান থেকে দারুণভাবে নিজেদের ফিরে পেয়ে ভারত আর নিউজিল্যান্ডকে কিন্তু আমরা হারিয়েছি। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেও আমাদের ভালো লড়াই না করার কোনো কারণ নেই। আমরা বৃহস্পতিবার নিজেদের সেরা খেলাটা খেলার লক্ষ্যেই কিন্তু মাঠে নামব।’

ম্যাচটিতে অবশ্য ইংলিশ দলের হয়ে খেলতে পারেননি তাদের ‘সৌভাগ্যবান’ ক্রিকেটার জেসন রয়। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে বিশ্রামে থাকতে হয়েছে তাকে। তবে সুস্থ হয়ে তার ফেরার পরই বদলে যায় ইংল্যান্ড দলের চেহারা। পরের দুই ম্যাচে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছেন তিনি। যার সুবাদে শেষ চার নিশ্চিত হয় স্বাগতিক দলের।

অস্ট্রেলিয়ান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার বলেছেন, “আমি তোমাদের কাছে সত্যি কথাই বলতে চাই। অবশ্যই পিটার খেলছে এবং এটা শতভাগ সত্যি। এটা তার প্রাপ্য। প্রাথমিক দলে তার সুযোগ না পাওয়াটা ছিল দুর্ভাগ্য। এ মুহূর্তে দারুণ ছন্দে আছে হ্যান্ডসকম্ব। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়েও সে ভালো খেলেছে। মিডল অর্ডারে তাকে পেয়ে দলের ভারসাম্য ফিরে এসেছে।” তিনি আরো বলেছেন, ‘ঘরোয়া আসরে ওয়েড দারুণভাবে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। যদি সে দলে সুযোগ পায় তবে অভিজ্ঞতার নিরিখে বলাই যায় তার ব্যাপারে আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী।

 

"