স্বাগতিক রেকর্ড অক্ষুণ্ন কোপায় চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আরিফ সোহেল

ঘরের মাঠে ব্রাজিলই বাঘ; ব্রাজিলই চ্যাম্পিয়ন- ইতিহাসে আবার প্রমাণিত হয়েছে। নিজ আঙিনায় যখন কোপা আমেরিকা; তখনই শিরোপার সৌরভে সুরভিত সাম্বাপ্রেমীরা। এর আগে ১৯৪৯, ১৯২২ ও ১৯৮৯ সালের আয়োজক হয়ে শিরোপা ঘরেই রেখেছিল সেলকাওরা। ২০১৯ সালও তার ব্যত্যয়-ব্যতিক্রম হয়নি। রোববার মধ্যরাতে পেরুকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক ব্রাজিল। আয়োজক দেশ হিসেবে প্রতিবার কোপা আমেরিকা জেতার এক অনন্য রেকর্ডও অক্ষত রেখেছে। আর কেটেছে দীর্ঘ ১২ বছরের শিরোপা জয়ের খড়া।

ফাইনালের ফ্রেমে স্মৃতি রোমন্থনে ভেসে আসছিল ২০১৬ সালের গল্পও। ওই বছর এই পেরুর কাছে হেরেই কোপা আমেরিকার গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। না, রথও বসেনি; কলা বেচাও হয়নি পেরুর। বরং তিন বছর আগের হারের কঠিন প্রতিশোধ নিয়েছে ব্রাজিল। পরশু প্রথমার্ধেই ব্রাজিল ২-১ এগিয়েছিল। আর শেষমেশ ব্যবধান ৩-১।

আলোচনা-বিচার-বিশ্লেষণময় মাঠে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। শক্তিমত্তা, কৌশলগত স্ট্যাটিজিতে নিরঙ্কুশ ছিল ব্রাজিল এবং তা লিগ পর্ব থেকেই। গতি ও পাসে নিখুঁত ছিল আলভেজরা। দ্রুতগতির ফুটবলের সঙ্গে ছিল নিখাদ পাসিং ও প্লেসিং। তাদের পায়ের শৈল্পিক কারুকাজ, দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতার কাছে খাবি খাচ্ছিল পেরুর রক্ষণভাগ। ফলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে যেতে সময়ের একফোঁড়ও লাগেনি। সাঁড়াশি আক্রমণের বিপরীতে কঠিনতম রক্ষণদুর্গ ছিল নিñিদ্র-নিরাপত্তার বৃত্তায়ণে ঘেরা। ফলে জমাট রক্ষণপ্রহরীদের চোখ এড়িয়ে গোলরক্ষক আলিসনের কাছে খুব একটা পৌঁছাতে পারেননি পেরুর ফরওয়াডরা।

টোটাল দল হিসেবে চোখ ধাঁধিয়েছে ব্রাজিল। মাঠের নিয়ন্ত্রণ-আক্রমণ; সবটাই হয়েছে তাদের মতো। সেখানে ক্যাসিমিরো, ফার্নান্দিনহো, কুতিনহো, এভারটন, ফিরমিনো, জেসুস, আলভেজরা ফুটবলের শৈল্পিক বাগানে সৌরভ ছড়িয়েছেন।

ফাইনালে গ্যাব্রিয়েল জেসুস একটি গোল করলেন, আরেকটি করালেন। পরে লাল কার্ডও দেখেছেন। কিন্তু ব্রাজিল অপ্রতিরোধ্য গতি থামেনি। তিতের শিষ্যরা দারুণ ছন্দে থেকেই শিরোপা নিজেদের ঘরেই রেখে দিয়েছে। পেরুকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রায় এক যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

দুর্দান্ত সূচনা ছিল ফাইনালে। গতি-ছন্দে-সাহসী আক্রমণে ভেবাচ্যাকা খেয়ে বসেছিল পেরুভিয়ানরা। ফলে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই গোল করে এগিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। নিখুঁতভাবে দুজনকে কাটিয়ে এভারটনকে বাড়ান জেসুস। টুর্নামেন্টে সব ম্যাচেই আলো ছড়ানো এভারটন সেই সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেননি। ৪ মিনিটের ব্যববধানে কৌতিনহো ও ফিরমিনো সহজ দুটি গোল মিস করে। আর বিস্ময়করভাবে ৪৪তম মিনিটে পেরুর পাওলো গেরেরার গোলে ১-১ সমতায় ফিরে তা ধরে রাখতে পারেনি। ওই গোলের রেশ থাকতেই দলকে দারুণ এক গোলে এগিয়ে দিয়েছেন জেসুস। ৭০ মিনিটে দ্বিতীয় কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন জেসুস। কিন্তু বিপত্তি ঘটেনি। বরং ৯০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলসংখ্যা বাড়িয়েছে ব্রাজিল। সর্বশেষ ব্রাজিল ২০০৭ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জয় করেছিল। সেমিফাইনালে তারা হারিয়েছে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে।

 

"