‘অযোগ্যরাই মাশরাফির সমালোচনা করে’

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

গ্রেট ফাস্ট বোলার স্যার অ্যান্ডি রবার্টস বাংলাদেশের ক্রিকেটের নিয়মিত খোঁজ রাখেন। বিশেষ করে তার প্রিয় শিষ্য মাশরাফির। যাকে তিনি কৌশিক (ডাকনাম) বলে ডাকেন। বলতে গেলে রবার্টসের অধীনেই ম্যাশের ক্যারিয়ারের উত্থান। কিন্তু মাশরাফিকে নিয়ে সম্প্রতি নিন্দুকেরা সমালোচনা করায় চটেছেন রবার্টস। এক কথায় তাদের ধুয়ে দিলেন ২০১৪ সালে নাইট উপাধি পাওয়া রবার্টস।

দেশের একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলকে তিনি বলেন, ‘আমি বিস্মিত ওদের কথা শুনে। অবাক হই যে ছেলেটা এত ইনজুরি, এত সংঘাতের মধ্য দিয়ে প্রায় ২০ বছর ক্রিকেট খেলছে, তাকে নিয়ে এভাবে কথা বলছে কেউ। আসলে তাদের কোনো ধারণা নেই ক্রিকেট আর কৌশিকের সম্পর্কে। ও যতটা সাধনা করে এতটা পথ এসেছে, তাতে করে ও ক্রিকেটবিশ্বে সবার জন্য উদাহরণ। কারণ আপনি সাধনা আর ত্যাগ করতে না জানলে বড় ক্রিকেটার হতে পারবেন না, যা কৌশিক করেছে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটি পেসারদের খনি। বিশ্বের সেরা ফাস্ট বোলাররা সেখান থেকেই এসেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে উঠে আসে না বিশ্বমানের ফাস্ট বোলার। কেন? এ প্রশ্নের জবাবে স্যার অ্যান্ডি রবার্টস বলেন, ‘দেখো, একটা সময় এশিয়া থেকে পাকিস্তানে ভালো ফাস্ট বোলার পাওয়া গেছে। আর ভারত তো কদিন হলো পাচ্ছে। তোমাদেরও অপেক্ষা করতে হবে। সেভাবে বোর্ডেরও পরিকল্পনা নিতে হবে।’

২০০১ সালে বাংলাদেশে বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে এসেছিলেন। দীক্ষা দিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, তালহা জুবায়ের, মোহাম্মদ শরীফদের। সুযোগ পেলে বাংলাদেশে আবার আসতে চান এই ক্যারিবীয় কিংবদন্তি।

মাশরাফির সমালোচনাকারীদের তিনি ধুয়ে দিয়েছেন এভাবে, ‘অযোগ্য লোকরাই না জেনে বুঝে মাশরাফি সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে।’ তার মতে, ক্রিকেটে মাশরাফির যে ত্যাগ, তা বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য অনন্য উদাহরণ।

৭০ ও ৮০ দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ব ক্রিকেটের সিংহাসনে এককভাবে রাজত্ব করেছে। বিশেষ করে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন দলটি ছিল অপ্রতিরোধ্য। বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের ঈর্ষণীয় সাফল্য সর্বপ্রথম ক্লাইভ লয়েড, স্যার ভিভ রিচার্ডস, স্যার অ্যান্ডি রবার্টস, ম্যালকম মার্শাল, মাইকেল হোল্ডিং, ডেসমন্ড হেইন্স, গর্ডন গ্রিনিজের মতো গ্রেট ক্যারিবীয়দের নিয়ে অর্জিত হয়। যাদের নিয়ে প্রথমবার নির্মিত হয় ক্রিকেটবিষয়ক চলচ্চিত্র ‘ফায়ার ইন ব্যাবিলন’।

সে সময় ক্রিকেট বিশ্বে শাসন করা ব্যক্তিরা কেমন রোমাঞ্চিত ছিলেন রুপালি পর্দায়? বেসরকারি ওই টিভি চ্যালেনে সেই স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্যার অ্যান্ডি রবার্টস। তিনি বলেন, ‘সে সময় হঠাৎ করেই বিশ্বকে ক্যালিপসো ক্রিকেটের গ্রেস করছিল। কিন্তু আমরা ছিলাম ভিন্ন। ক্রিকেটের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ ছিল অনেক, যা এখনকার ক্রিকেটারদের মধ্যে নেই। তাই আমাদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছিল।’

"