প্যারাগুয়েকে রুখে দিল কাতার

ইকুয়েডরে উরুগুয়ের এক হালি

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্ব ভেবেছিল ম্যাচটা হবে সমানে-সমানে, সেয়ানে-সেয়ানে। কিন্তু খেলা শেষে একঘেয়েমিই সঙ্গী ফুটবলপ্রেমীদের। প্রাপ্তি বলতে, উরুগুয়ের আসাধারণ শৈল্পিক ফুটবল ও দুর্দান্ত ডিফেন্স বুঝাল এবারের কোপা আমেরিকায় সুয়ারেজ-কাভানিরা লম্বা রেসের ঘোড়া। যার নির্যাস, ইকুয়েডরকে ৪-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিল অন্যতম ফেভারিট উরুগুয়ে। লাতিন আমেরিকাকেন্দ্রিক টুর্নামেন্ট হলেও যেহেতু বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই ইউরোপের ক্লাবগুলোয় খেলেন, তাই এই টুর্নামেন্টে লাতিন আমেরিকার স্কিল ও ইউরোপীয় ঘরানা দুটোর মিশেল ঘটে। তাই তো ফিফা বিশ্বকাপের পাশাপাশি কোপা আমেরিকাও ব্যাপক জনপ্রিয় ফুটবল অনুরাগীদের কাছে।

বেলো হরিজন্তেতে কাল উরুগুয়ের হয়ে গোলের খাতা খোলেন নিকোলাস লদেইরো। ষষ্ঠ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত স্কিলে মার্কারদের বোকা বানিয়ে অনবদ্য গোল করেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। এরপর ৩৩ মিনিটে স্ট্রাইকার এডিনসন কাভানির অনবদ্য শট এবং গোল। বিরতির খানিক আগেই ৪৪ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের স্কিল দেখার সৌভাগ্য মেলে দর্শকদের। বেশ কিছু কাল মাঠের বাইরে থেকে ফিরে এসেই কোপায় নিজের জাত চিনিয়ে দেন বার্সা তারকা। অসাধারণ গোল করে ব্যবধানকে ৩-০ করেন তিনি। বিরতির পর আর্তুরো মিনার হাস্যকর আত্মঘাতী গোলে হালি পূরণ হয় উরুগুয়ের। ম্যাচে বল পজেশন থেকে টার্গেট শট সবকিছুতেই উরুগুয়ের চেয়ে যোজন পিছিয়ে ছিল ইকুয়েডর। গোটা ৯০ মিনিটে আক্ষরিক অর্থে একটি বলও গোলমুখী করতে পারেনি ইকুয়েডরিয়ানরা। উপরন্তু হোসে কুইন্তেরোকে বাজে ট্যাকলে লালকার্ড দেখতে হয়। ফলে ২৪ মিনিট থেকে দশজনের দল নিয়ে খারাপ ফুটবল উপহার দেয় হারনান গোমেজের দল। উরুগুয়ের যেখানে টার্গেট শট ৭টি, সেখানে ইকুয়েডরের মাত্র ১টি। তাও অতি দুর্বল। ম্যাচে ৯টি কর্নার পেয়েছিল সুয়ারেজ-কাভানিরা। সেখানে মাত্র একটি কর্নারেই সন্তুষ্ট থাকতে ইকুয়েডরকে। এদিকে, দিনের প্রথম ম্যাচে প্রথমবার আমন্ত্রিত হয়ে মাঠে নেমেই বাজিমাত করেছে কাতার। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ড্র করে মাঠ ছেড়েছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। ঐতিহাসিক মারাকানায় পেনাল্টি থেকে গোল করে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে নেন অস্কার কার্ডোজা। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় প্যারাগুয়ে। বিরতি থেকে ফিরে ৫৬ মিনিটে দলের লিড দ্বিগুণ করেন ডারলিস গঞ্জালেজ। তখন মনে হচ্ছিল এশিয়ার দলটি হয়তো আরো গোল হজম করবে। কিন্তু নাটকীয়তা যে তখনো বাকি! কিছু ঝলক দেখানোর পণ নিয়েই যে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছিল আগামী বিশ্বকাপের আয়োজকরা। মাত্র ৯ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে সমতায় ফেরে কাতার। ৬৮ মিনিটে আলময়েজ আলি আর ৭৭ মিনিটে বলেম খৌখি গোল করলে সমতায় ফেরে কাতার। শেষ দিকে দুই দলই গোল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় তবে জালের সন্ধান পায়নি। আর তাই তো পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।

 

"