‘আমিরকে থাপ্পড় মেরেছিলেন আফ্রিদি’

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

পরশু টন্টনে মোহাম্মদ আমিরের ৫ উইকেট পাওয়ার দিনেই আবার উঠে এলো অস্বস্তিকর প্রসঙ্গ, যা ফাঁস করলেন পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাক। পাকিস্তানের কলঙ্কমাখা ২০১০ ইংল্যান্ড সিরিজের অনেক আগেই আমির স্পট ফিক্সিংয়ে জড়ানোর কথা স্বীকার করেছিলেন। এমনটাই দাবি আবদুল রাজ্জাকের।

পাকিস্তানের একটি নিউজ চ্যানেলে তিনি বলেন, ‘তৎকালীন অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি চড় মারার পরে আমির স্পট ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করে নেন। আফ্রিদি আমায় রুম থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই আমি থাপ্পড়ের শব্দ শুনতে পাই। এরপর আমির রুম থেকে বেরিয়ে আমায় সব সত্যি কথা বলে দেয়।’

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সেই সময়ের প্রশাসকদেরও সমালোচনা করেন রাজ্জাক, ‘আমার মনে হয় সেই সময় আইসিসির কাছে নিজেদের দক্ষতা দেখাতে না গিয়ে পিসিবির উচিত ছিল অভিযুক্ত তিন ক্রিকেটারের দিকে নজর দেওয়া। তাদের অভিযোগ অস্বীকার করা সত্ত্বেও দেশে ফেরত আনা। ওদের এক বছরের জন্য নির্বাসিত করাও উচিত ছিল। এসব না করে শেষ পর্যন্ত পিসিবি বিশ্বের সামনে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।’

৩৯ বছর বয়সি রাজ্জাকের দাবি, ইংল্যান্ডে কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার অনেক আগেই সালমান ইচ্ছা করে ডট বল খেলছিলেন। রাজ্জাকের ভাষ্য, ‘আমি সব জানিয়েছিলাম আফ্রিদিকে। কিন্তু ও বলেছিল, এসব আমার মনের ভুল। সবকিছু ঠিকই আছে। কিন্তু আমি যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (২০১০ সালে) একটা ম্যাচে সালমানের সঙ্গে ব্যাট করতে নামি, আমি নিশ্চিত ছিলাম দলকে ও ডুবিয়ে ছাড়বে।’ রাজ্জাক সালমানকে বলেন, সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক তাকে দিতে। কিন্তু তার পরামর্শ মতো খেলেননি সালমান। ‘ও যখন এই কৌশলে খেলতে অস্বীকার করল, আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। যখন বুঝতে পারলাম ও কিছু একটা করতে যাচ্ছে তখন কড়া ভাষায় বললাম স্ট্রাইক আমায় দিতে। তারপরও প্রত্যেক ওভারে ও ইচ্ছা করে দুই-তিন বল ডট খেলে আমাকে স্ট্রাইক দিচ্ছিল। আমি এসব দেখে হতাশ হয়ে পড়ি, চাপের মুখে আউটও হয়ে যাই’- যোগ করেন রাজ্জাক।

উল্লেখ্য, সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির এবং মোহাম্মদ আসিফকে স্পট ফিক্সিং মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। প্রথমে তাদের বরখাস্ত করা হয় ২০১০ সেপ্টেম্বরে। পরে ২০১১-এর শুরুর দিকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাসিত হন তারা। তিন ক্রিকেটারই শাস্তি কাটিয়ে ক্রিকেটে ফিরে এসেছেন। তবে এর মধ্যে শুধু আমিরকেই পাকিস্তান দলে ডাকা হয় বিশ্বকাপের জন্য।

 

"