ফিফা নারী বিশ্বকাপ ২০১৯

গোল উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রের অনন্য নজির

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

নারী ফুটবল বিশ্বকাপে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। থাইল্যান্ডকে ১৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ফুটবল বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের নজির গড়েছে মার্কিন মেয়েরা। স্ট্রাইকার অ্যালেক্স মরগান একাই করেছেন ৫ গোল।

মঙ্গলবার রাতে ফ্রান্সের রাঁসে ম্যাচ শুরুর ১২ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গোলের খাতা খোলেন মরগান। ৮৭ মিনিটে গিয়ে সম্পূর্ণ হয় তার ৫ গোলের বৃত্ত। প্রথমার্ধে যদিও মাত্র একটিই গোল আসে ২৯ বছর বয়সি সুন্দরীর পা থেকে। বাকি ৪ গোল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। মরগানের পর প্রথমার্ধের ২০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রোজ লাভেলে। এরপর ৩২ মিনিটে লিন্ডসে হোরানের গোলে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে যায় তিনবারের বিশ্বজয়ীরা। প্রথমার্ধে থাইল্যান্ডের ওপর তাদের আধিপত্য দেখেই দ্বিতীয়ার্ধ সম্পর্কে একটা আগাম ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুনরায় বিপক্ষ ডিফেন্সের লকগেট খুলে ফেলে মার্কিন মেয়েরা। চতুর্থ গোলটি আসে সামান্থা মেওয়িসের কাছ থেকে। এরপর অবিচল মার্কিন হামলায় বিধ্বস্ত হতে থাকে থাই রক্ষণ। নিয়মিত ব্যবধানে স্কোরবোর্ড সচল রাখে মার্কিনিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ৭ জন ফুটবলার এদিন নাম তোলেন স্কোরশিটে। দ্বিতীয়ার্ধে মেওয়িসের প্রথম গোলের পর ৫৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল তুলে নেন মরগান। এরপর একে একে গোলের খাতায় নাম তোলেন মেগান র?্যাপিনো, ম্যালরি পাঘ, কার্লি লয়েডরা। এরই মাঝে ৭৪, ৮১ ও ৮৭ মিনিটে আরো ৩ গোল করে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ গোলের বৃত্ত সম্পূর্ণ করেন ম্যাচের নায়িকা মরগান।

দুটি করে গোল করেন রোজ লাভেলে ও সামান্থা মেওয়িস। মরগানের পা থেকে আসে একটি অ্যাসিস্টও। অতিরিক্ত সময়ে থাই মেয়েদের সমাধিতে এপিটাফ লেখেন কার্লি লয়েড।

ম্যাচ শেষে অ্যালেক্স মরগান বলেন, ‘বিশ্বকাপের জন্য আমরা ঠিক কী প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি, সেটা মাঠে প্রমাণ করার ছিল। আমার মনে হয়, আমরা সেটা করে দেখাতে পেরেছি।’ থাইল্যান্ডকে ১৩-০ গোলে চূর্ণ করার পথে এদিন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জার্মানির ১১-০ গোলের জয়ের নজির ছাপিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের মেয়েরা। নারীদের অভিষেক বিশ্বকাপে তাইওয়ানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ৭-০ গোলের জয় এত দিন সর্বোচ্চ ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে হারানোর রেকর্ড হিসেবে টিকে ছিল। এদিন সেসব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেলেন মরগান-লাভেলেরা।

তাদের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর থাই কোচ বলেন, ‘আমরা কিছুইই করতে পারিনি। বিপক্ষ দল সব বিভাগে টেক্কা দিয়েছে আমাদের। কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে চাই না। ফলাফল মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই।’

"