অজি-পাকিস্তান স্নায়ুযুদ্ধের দ্বৈরথ

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০

আরিফ সোহেল

ইংল্যান্ডের টাউনটনে ম্যাচ। ভেঙে বললে টনটনে। হতে পারে তেমনই। অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তানের ‘টনটনে’ স্নায়ুযুদ্ধের দ্বৈরথ আজ। দারুণ একটি ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় মুখিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে বৃষ্টি যেভাবে তেড়ে-ফুড়ে হানা দিচ্ছে; তাতে ম্যাচ হবে তোÑ থাকছে এই মহাশঙ্কাও। কারণ বৃষ্টিবাধায় একের পর এক ম্যাচ ধুয়ে-মুছে একাকার হয়ে যাচ্ছে।

ম্যাচের হিসাবটা অস্ট্রেলিয়ার জন্যই জটিল। চ্যাম্পিয়ন দল হারের রেশ নিয়ে মাঠে নামছে। ভারতের বিপক্ষে হারের ম্যাচের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বল টেম্পারিংয়ের বিতর্কও। এখানে আসামি অ্যাডাম জ্যাম্পা। বিষয়টি বিশ্বকাপ মঞ্চের এখন হট আইটেম। ভারতের বিপক্ষে বোলিংয়ের সময় পকেটে কিছু একটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলেন জ্যাম্পা। যদিও অধিনায়ক অ্যারোন ফিঞ্চের দাবি, সতীর্থের পকেটে হ্যান্ড ওয়ার্মার ছিল, অন্যকিছু নয়। ওই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড তদন্তের নির্দেশ দেয়নি। আইসিসিও নির্বিকার। তারপরও আজ একটু বাড়তি চাপ নিয়েই মাঠে নামতে হচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

প্রতিপক্ষ পাকিস্তান কিছুটা ফুরফুরে। বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক পয়েন্ট পাওয়ার আগে তারা ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে-মুড়িয়ে দিয়েছিল। এটি ক্রিকেট আলোচনায় বড় করে উঠে এসেছে। এই জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারের দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের।

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের পারদ আকাশ ?ছুঁয়েছে পাকিস্তানের। তাই চ্যাম্পিয়নদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না দলটির অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ। আত্মবিশ্বাসী ৩৮ বছর বয়সি অলরাউন্ডার হাফিজ বলেছেন, ‘দশ দলকেই হারানোর ক্ষমতা রাখে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে অনেক দলই সমপর্যায়ের। অস্ট্রেলিয়াও দারুণ ক্রিকেট খেলছে, তবে তারাও হারছে। আমরা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছি।’

সংখ্যাতত্ত্ব অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ নিয়েছে। ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে মুখোমুখি ১৪টি লড়াইয়ে মাত্র একবার জিতেছে পাকিস্তান। আর সবশেষ লড়াইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান। সেখানেই সমীকরণটা পক্ষে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ারই। ১০৩ ওয়ানডে ম্যাচে ৬৭ ম্যাচ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তান মাত্র ৩২টিতে। আর বিশ্বকাপের ৯টি লড়াইয়েও অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে; জিতেছে ৫টি। সেখানে পাকিস্তানের জয় ৪টি।

মঞ্চটা যখন বিশ্বকাপ, সেখানে অস্ট্রেলিয়া কেন; কোনো দলকেই ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। হাফিজ আরো বলেছেন, ‘পাঁচবার শিরোপা জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই।’

আজ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের চতুর্থ ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচটি বৃষ্টি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। পাকিস্তানের সেমিফাইনালের স্বপ্ন উজ্জ্বল করতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই। হাফিজের ভাষ্য, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় অনুপ্রাণিত করছে। যদিও এটা সত্যি ওদের বিপক্ষে আমাদের রেকর্ড ভালো নয়। তবে ক্রিকেটে প্রতিটি দিনই নতুন। সেই দিনে যে কেউই জিততে পারে।’

ভারতের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ পয়েন্ট টেবিলে খানিকটা হোঁচট খেয়েছে। সম্ভাবনার আলোর ঔজ্বল্য কিছুটা মলিন হয়েছে। তবে এখনো বিশ্বকাপ ধরে রাখার যথেষ্ট সুযোগ আছে অস্ট্রেলিয়ার। সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ বলেছেন, ‘না; এখনই অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে বেশি কিছু বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। সামনে অনেক ম্যাচ বাকি। বিশ্বকাপে সফল হওয়ার মতো শক্তি এবং ব্যাটিংয়ে গভীরতা দুই-ই রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার।’ স্টিভ বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার এই হারের পরে হতাশ হওয়া উচিত নয়। এই হার থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় রয়েছে। সেমিফাইনালের আগে ব্যাটিং-বোলিংয়ের কোথায় সমস্যা হচ্ছে; তা খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সাবেক অধিনায়কের কথা কতটুকু টিম ম্যানেজমেন্ট মানবে তা একাদশ দেখেই বলা যাবে। স্টিভ ওয়াহ মনে করেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান একাদশে পরিবর্তন অনিবার্য। একাধিক পরিবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে।’ অবশ্য টিম ম্যানেজমেন্ট না চাইলেও আজ পরিবর্তিত একাদশ নিয়েই নামতে হবে। পেশিতে টান ধরায় পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামা হচ্ছে না অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিসের। তার বিকল্প হিসেবে মিচেল মার্শের নাম ঘোষণা করেছেন নির্বাচকরা।

এদিকে, ক্রিকেটবোদ্ধারা ম্যাচটিকে মহাযুদ্ধ বানিয়ে ফেলেছেন। চিরাচরিত ঔদ্ধত্য নিয়ে একদিকে অবিশ্বাস্য পাকিস্তান। অন্যদিকে অপ্রতিরোধ্য, দুরন্ত অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ দলে পাচ্ছেন ওয়ার্নার-ম্যাক্সওয়েল-স্মিথের মতো ধুন্ধুমার ব্যাটার। তারা দাঁড়িয়ে গেলেই অন্যদের দর্শক সারিতে থাকলেই চলবে। ক্রিজে টিকে গেলে তারা কতটা ভয়ংকর এবং ধ্বংসাত্মক হতে পারেন, সেটা সবারই জানা। বিশ্বকাপের ঠিক আগে স্মিথ আর ওয়ার্নারের যোগ দেওয়াটা টিম অস্ট্রেলিয়াকে প্রাণিত করেছে।

 

"