জয়ের বিকল্প নেই প্রোটিয়াদের

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০

সাহিদ রহমান অরিন

বর্ণবৈষম্যে নিষেধাজ্ঞার অভিশাপ নিয়ে প্রথম চার বিশ্বকাপ খেলা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। অবশেষে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ১৯৯২ সালে রঙিন পোশাকের প্রথম বিশ্বকাপ দিয়ে অভিষেক হয় তাদের। ক্রিকেট মহাযজ্ঞের পঞ্চম আসর থেকে গতবারের আসর অবধি অন্যতম ফেভারিট হয়েই খেলতে নেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু নকআউট পর্বে এসে বারবার খেই হারিয়ে ফেলায় ‘চোকার্স’ ট্যাগটা সুপার গ্লুর মতো স্থায়ীভাবে লেগে গেছে তাদের পিঠে। ফলে এবার আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে গণনায় ধরেননি কেউই।

অবশ্য তাতে নাকি লাভই হয়েছে ফাফ ডু প্লেসি-হাশিম আমলাদের। দ্বাদশ আসরের প্রথম বল মাঠে গড়ানোর এমনটাই দাবি করেছিল প্রোটিয়ারা। সংবাদ সম্মেলনে ডু প্লেসি জানিয়েছিলেন, ফেভারিট ট্যাগ না থাকায় এবার নির্ভার হয়ে খেলতে পারবেন তারা। প্রত্যেকটা ম্যাচকে উপভোগ করতে পারবেন। এতেই নাকি ধরা দেবে সাফল্য। কিন্তু কীসের কী? বিশ্বকাপকে উপভোগ করতে গিয়ে নিজেরাই এখন ‘ভোগের বস্তুতে’ পরিণত হয়েছে। যারাই দক্ষিণ আফ্রিকাকে সামনে পাচ্ছে, মনের আনন্দে গিলে খাচ্ছে।

চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই হেরে রীতিমতো কোণঠাসা দক্ষিণ আফ্রিকা। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে অসহায় আত্মসমপর্ণের পর পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ ও ভারতের কাছেও। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপে এর আগে এতটা বাজে শুরু হয়নি প্রোটিয়াদের। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া কাগিসো রাবাদা-ইমরান তাহিরদের অবস্থা এতটাই বেগতিক যে, আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারলেই সেমিফাইনালে উঠার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যাবে তাদের।

একে তো ব্যাটিং স্তম্ভ এবি ডি ভিলিয়ার্স নেই, তার ওপর প্রধান পেস অস্ত্র ডেল স্টেইনের ছিটকে পড়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশ্বকাপের সূচনালগ্ন থেকেই ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গতি তারকা লুঙ্গি এনগিডির ইনজুরি।

এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার উল্টো পথে হাঁটছে উইন্ডিজ। বিশ্বকাপের আগে বড় তারকারা ফেরায় ২৩ বছর পর সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন বুনছে ক্যারিবীয়রা। তাদের স্বপ্নযাত্রাটা এখনো পর্যন্ত বেশ মসৃণ। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ফের কপাল পুড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার।

 

"