‘গল্পটা অন্যরকম হতে পারত’

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০

আরিফ সোহেল

স্বপ্নঘেরা কার্ডিফেই শনিবার স্বপ্নের সমাধি রচিত হয়েছে। অদ্ভুত ভেন্যুতে যাচ্ছেতাই ফিল্ডিং-বোলিংয়ের মাশুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। চেয়ে চেয়ে দেখতে হয়েছে বিশ্বকাপে ইংলিশদের সর্বোচ্চ ৩৮৬ রানের পর্বত। প্রথম ইনিংসের রেকর্ড সংগ্রহই নিশ্চিত করে দেয় জয়-পরাজয়ের সব সমীকরণ। ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ।

ক্যানভাসে আঁকা হ্যাটট্রিক জয়ের স্বপ্ন, কার্ডিফের পয়মন্তর ইতিকথা সবটাই ভুলে যায় লাল-সবুজের ভক্তরা। মান বাঁচানো ব্যাটিংই ছিল তখন আরোধ্য। সেখানেও বিপর্যয়। এক সাকিব আলোর বাতিঘর হয়ে ব্যাট উঁচিয়ে ধরেছেন মাত্র। তুলে নিয়েছেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। কিন্তু বাকিদের কাছ থেকে প্রযোজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় বাংলাদেশ পেয়েছে বড় লজ্জা।

এমন পরাজয়ে খানিকটা হতাশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরুর পর দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০-৩০ রান কম করার আক্ষেপের কথা বলেছিলেন। আর কার্ডিফের ম্যাচ শেষে বলেন, ‘৫০ রান বেশি দিয়ে ফেলেছি। ব্যাটসম্যানদের কাছে ৩৮৭ রান তাড়া করতে চাওয়া অনেক বেশি হয়ে যায়। আমরা ইংল্যান্ডের ইনিংসের প্রথম ৪-৫ ওভার শুধু ভালো করেছি। এরপর তারা পুরো ম্যাচই নিয়ন্ত্রণ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওরা যদি ৩৩০ রানও করত তাহলে আমাদের রান তাড়ার গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। তিন নম্বরে সাকিব দুর্দান্ত ব্যাটিং করছে। তার বোলিংটাও আমাদের অনেক কাজের। এখনো ৬টা ম্যাচ বাকি আছে। আশা করি সেগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে পারব আমরা।’

টসে জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় মাশরাফি বলেন, ‘এ পিচটা দেড় দিনের বেশি সময় কাভার দিয়ে ঢাকা ছিল বলেই আমরা একটুও ভাবিনি। মাঝে মধ্যে উইকেট নিতে হলে ভাগ্যও প্রয়োজন হয়। আজ (শনিবার) আমাদের ভাগ্য পাশে ছিল না।’ বলতে দ্বিধা নেই বিশ্বকাপে প্রথম দুটি ম্যাচে অসাধারণ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথমটি জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের প্রান্ত প্রায় ছুঁয়ে গিয়েও থেমে গিয়েছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে হারলেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল চোখে লাগার মতো। সেই তুলনায় কার্ডিফে মাশরাফিদের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে সাকিব। ৭৫ ও ৬৪ রান করা বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছেন অসাধারণ সেঞ্চুরি (১২১)। তিন ম্যাচে ২৬০ রান নিয়ে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সাকিব। সেই সাকিব কার্ডিফে অদ্ভুত সীমানার জন্য বোলিংয়ে সমস্যা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘ব্যাটিং-বোলিংয়ে দিন খারাপ যেতে পারে। মোয়ার মতো ক্যাচও হাত থেকে ফসকে যেতে পারে। কিন্তু গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে খারাপ দিন আসার সুযোগ নেই। ক্রিকেটের এ জায়গাটায় বড় দলের সঙ্গে সামর্থ্যরে পার্থক্য ঘটার কোনো কারণ নেই। অথচ অদ্ভুত মাঠের কারণে ফিল্ডিংয়ে সাবলীল ছিল না বাংলাদেশ। তাতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ রান বেশি করেছে ইংল্যান্ড।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চলমান বন্ধুর পথে দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের অনেক নজিরই আছে বাংলাদেশ দলের। কার্ডিফে বাজে ফিল্ডিংয়ের মাঝেও যেমন মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচটা ছিল দুর্দান্ত।

কন্ডিশন আর মাঠের আয়তন যাই হোক তা মানিয়ে তো নিতেই হবে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টার্গেট সেমিফাইনালে খেলা। সেই পথের দ্বার কিন্তু ক্রমে ছোট হয়ে আসছে। গাঝাড়া দিয়ে ওঠার এটাই সময়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর বিশ্বকাপের বাকি ছয় ম্যাচের জন্য ঘুরে দাঁড়াতেই হবে বাংলাদেশকে। পরিস্থিতি যা তাতে এ মুহূর্তে কৌশলে পরিবর্তন আনাটা খুব জরুরি। আগামীকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই বাংলাদেশ দলের একাদশ পরিকল্পনায় পুনর্বিন্যাস অনিবার্য মনে করেছেন অনেক ক্রিকেটবোদ্ধা।

বিশ্বকাপে বরাবরের মতো সুপার-ডুপার তামিম ইকবাল ফ্লপ। পারছেন না নামের প্রতি সুবিচার করতে। একই পথে হাঁটছেন মিডল অর্ডারের নবীন মিঠুন আলিও। সাকিব-মুশফিক ছাড়া অন্যদের কাছে দলের অনেক পাওনা রয়েছে। অথচ সেখানে হিসাব মিলছে না। মাহমুদউল্লাহ-সৌম্য-মোসাদ্দেক-মিরাজদের আরো ভালো ব্যাটিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে। ম্যাচ জিততে প্রয়োজন তাদের ধারাবাহিকতাও।

উইকেট ঢাকা, বৃষ্টির সম্ভাবনাÑ যাই থাকুক টসে জিতে ইংল্যান্ডের মতো দলকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো ঠিক হয়নি। সামনে মাথায় রাখতে হবে এই বিষয়টিও। মোট কথা বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে নতুন করে ভাবতে হবে টাইগারদের।

 

"