নতুন রানি ‘ক্রিকেটার’ বার্টি!

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

রোঁলা গ্যাঁরোর শৈল্পিক ক্যানভাস প্রতীক স্ক্রিনে ভেসে উঠল ট্রফি হাতে ‘ক্রিকেটার’ অ্যাশলি বার্টির ছবি। টেনিস আঙিনায় ক্রিকেটার বার্টির জয়োৎসব; ভাবা যায়! ঘটেছে তাই। এক সময়ের অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বার্টিই এখন ফরাসি ওপেনের নতুন রানি। ফাইনালে এক ঝাটকায় উড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের সব প্রতিরোধ। জিতেছেন সরাসরি সেটের ব্যবধানে।

প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা হাতে হাস্যোজ্জ্বল অ্যাশলি বার্টি বলেন, ‘ভেবেছিলাম টেনিসের পাট চুকিয়ে ক্রিকেটার হব। প্রস্তুতি নিয়ে উইকেটেও নেমেছিলাম। খেলছিলামও প্রমীলাদের বিগ ব্যাশ লিগ। ভালোই চলছিল ক্রিকেট নিয়ে পাক্কা ২ বছর। কিন্তু আবার প্রাণের টানে টেনিসে ফিরে এলাম। বোধহয় তারই পুরস্কার পেলাম আজ (শনিবার)।’

ফাইনাল শেষে মাইক্রোফোন হাতে বার্টি আরো বলেন, ‘অবিশ্বাস্য লাগছে। বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম কিছুক্ষণ। নিখুঁত ম্যাচ খেললাম। নিজের ওপর গর্ব হচ্ছে। কারণ অস্ট্রেলীয়দের জন্য ফরাসি ওপেন বরাবরই বিশেষ কিছু। আগেও এখানে ট্রফি জেতার কাছাকাছি এসেছিলাম। আমার কাছে গেল দুই সপ্তাহ স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।’

মাত্র ৭০ মিনিটে ফাইনালে বাজিমাত করেছেন অস্ট্রেলিয়ান অ্যাশলি বার্টি। ফরাসি ওপেনের ফাইনালে শনিবার চেক প্রজাতন্ত্রের মার্কেতা ভন্ড্রোসোভাকে সরাসরি সেটে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার কাছে পাত্তাই পাননি মার্কেতা (৬-১, ৬-৩)। ২৩ বছর বয়সী বার্টি ২০১১ সালে সামান্থা স্টোসুরের যুক্তরাষ্ট্র ওপেন জয়ের পরে প্রথম অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যাম দখল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাও দীর্ঘ ৪৬ বছর পর! ১৯৭৩ সালে মার্গারেট কোর্টের পরে বার্টির উত্থান চমকপ্রদ।

মাত্র ৫ বছর বয়েসে টেনিসে হাতেখড়ি বার্টির। জুনিয়র হিসেবে ২০১১ সালে উইম্বলডনে গার্লস সিঙ্গলস জেতেন। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বরেও উঠে এসেছিলেন সেই সময়। তবে সিনিয়র হিসেবে তার প্রথম সাফল্য আসে ডাবলসে। কেসি ডেলাকুয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে ৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের ডাবলসের রানার্স আপ হন। যার মধ্যে অস্ট্রেলীয় ওপেনও ছিল। তখন তার বয়স মাত্র ১৬। এরপর ২০১৪ সালের শেষ দিকে বার্টি ঠিক করেন টেনিস থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি নিয়ে ক্রিকেট খেলবেন। অথচ ক্রিকেটে তার প্রথাগত কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না। মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্রিসবেন হিটে সই করেন তিনি। বেশিরভাগ সময় ক্রিকেটেই কাটান। ২০১৬ সালে ফের প্রাণের টানে টেনিসে ফেরেন। পরের বছরই বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম কুড়িতে উঠে আসেন। গেল মৌসুমে বার্টি প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ডাবলস খেতাব জিতেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে। সঙ্গী ছিলেন কোকো ভ্যান্ডেওয়েগে। সেই দৌড় ধরে রেখেই এবার সিঙ্গলসেও খেলোয়াড়ি জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছুঁয়ে নিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের অন্যতম সেরা চ্যাম্পিয়ন রড লেভার আগেই বলেছিলেন, ফরাসি ওপেন জিততে পারেন বার্টি। কিংবদন্তির ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি প্রমাণ করেছেন বার্টি। অথচ এই বার্টিই সেমিফাইনালে একটা সময় ম্যাচ খোয়ানো থেকে তিন গেম দূরে ছিলেন! যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চমক আমান্ডা আনিসিমোভা প্রায় জিতেই যাচ্ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ সামলে আরো এক তরুণীকে হারিয়েছেন বার্টি। ১৯ বছর বয়সী ভন্ড্রোসোভা ফাইনালে ওঠার পথে একটিও সেট খোয়াননি। তাতেই স্পষ্ট ছিল কী রকম দূরন্ত ছন্দে আছেন তিনি। কিন্তু আগ্রাসী বার্টি তাকে কোনো সুযোগই দেননি ম্যাচে ফিরে আসার। ভন্ড্রোসোভা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বার্টি দাপটের সঙ্গে তা সামলান। কোনো প্রতিরোধের সুযোগই দেননি। ফরাসি ওপেনে জয়ের ফলে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়েও দুই নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি, যা ১৯৭৬ সালে ইভোন গুলাগঙের পরে অস্ট্রেলীয় নারী হিসেবে সেরা।

হারের পরে বার্টির উদ্দেশে ভন্ড্রোসোভা বলেছেন, ‘অভিনন্দন তোমায়। আজ (শনিবার) একটা শিক্ষা দিলে আমায়। যদিও আজ (শনিবার) আমি জিততে পারিনি। তবে সব কিছু নিয়ে আমি খুব খুশি।’

সত্যিই শুধু ভন্ড্রোসোভাকেই নয়, টেনিস বিশ্বের উঠতি খেলোয়াড়দের শিক্ষা দিয়েছেন বার্টি। ক্রিকেট থেকে ২০১৬ সালে যখন তিনি টেনিসে ফিরে আসেন, তার বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং ছিল ৬২৩। সেখান থেকে ৩ বছরের মধ্যে দুই নম্বরে উঠে আসার অবিশ্বাস্য সাফল্যের পাশে জুড়ে গেলÑ ফরাসি ওপেনের নতুন রানির খেতাব।

 

"