ইংল্যান্ডের ভুলে ইউরোর ফাইনালে নেদারল্যান্ডস

হল্যান্ড ৩ : ১ ইংল্যান্ড

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমজমাট লড়াইয়ের শেষটা ইংল্যান্ডের জন্য হলো ভীষণ বিব্রতকর ও হতাশাজনক। অতিরিক্ত সময়ে নিজেদের হাস্যকর ভুলে হজম করল ২টি গোল। তাতে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া নেদারল্যান্ডস ঘুরে দাঁড়িয়ে পাওয়া দারুণ জয়ে উঠে গেল উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে।

পর্তুগালের গিমারাইসে বৃহস্পতিবার রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ৩-১ গোলে জিতেছে নেদারল্যান্ডস। প্রথমার্ধে মার্কাস রাশফোর্ডের গোলে ডাচরা পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে সমতা টানেন মাতাইস দ্য লিট। এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে ১৯৮৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নরা।

আগামীকাল পোর্তোয় প্রতিযোগিতাটির অভিষেক আসরের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডস। গত বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকে সুইজারল্যান্ডকে একই ব্যবধানে হারায় বর্তমান ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা।

গত কয়েক বছরের ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে থাকা নেদারল্যান্ডস ম্যাচের শুরু থেকে অধিকাংশ সময় বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগও তৈরি করেছিল ২০১৬ সালের ইউরো ও গত বছরের রাশিয়া বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়া দলটি; কিন্তু সাফল্য মেলেনি। এর মাঝে ৩২তম মিনিটে রাশফোর্ডের সফল স্পট কিকে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডি-বক্সে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরওয়ার্ডকে আয়াক্স ডিফেন্ডার মাত্তিয়াস ডি লাইট ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। জাতীয় দলের হয়ে ২১ বছর বয়সি রাশফোর্ডের এটি ৩২তম ম্যাচের সপ্তম গোল। এর মধ্যে ৪টি গোল করেছেন শেষ সাত ম্যাচে।

বিরতির পরও প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ ধরে রাখা নেদারল্যান্ডস ৭৩তম মিনিটে কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পায়। মেমফিস ডিপাইয়ের কর্নারে সবার ওপরে লাফিয়ে হেডে দলকে সমতায় ফেরান দ্য লিট। ৮৩তম মিনিটে জেসি লিনগার্ড জালে বল পাঠালে উল্লাসে মাতে ইংল্যান্ড। কিন্তু ভিএআরের সাহায্য নিয়ে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

আর এ পর্বেই মারাত্মক দুটি ভুল করে বসে রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। শেষ পর্যন্ত যা পার্থক্য গড়ে দেয়। ৯৭তম মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে ডিফেন্ডার জন স্টোনস বল ক্লিয়ার না করে সময় নষ্ট করলে তার পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে শট নেন ডিপাই। ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড; কিন্তু বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ছুটে এসে কুইন্সি প্রোমেসের শটে বল কাইল ওয়াকারের পায়ে লেগে জালে জড়ায়।

১১৪তম মিনিটে ডাচদের তৃতীয় গোলেও যথেষ্ট দায় ছিল ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার স্টোনসের। বল বিপদমুক্ত না করে তিনি ডি-বক্সের মুখে সতীর্থ রস বার্কলিকে পাস দেন। চেলসির এই মিডফিল্ডার আবার অবাক করে দিয়ে ডি-বক্সেই বল বাড়ান আর তা ধরে পেনাল্টি স্পটের কাছে বাড়ান ডিপাই। জোরালো শটে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন সেভিয়ার ফরওয়ার্ড প্রোমেস। শিরোপা লড়াইয়ের দিনেই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।

 

"