দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচও পরিত্যক্ত

কার্ডিফে বৃষ্টির জয়

প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

কার্ডিফে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ছিল কাল ভোর থেকেই। কখনো খানিকটা বেড়েছে বৃষ্টির বেগ, কখনো কমেছে। এক পর্যায়ে থেমেছেও। কিন্তু সেটা কেবল ক্ষণিকের জন্য। মাঝ দুপুরে ফের কেঁদে উঠল আকাশ। তাতে বল ব্যাটে লাগা তো দূরের কথা, টসটাই হলো না। ফলে ঘোষণা এলো, বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচ। বিশ্বকাপের আগে এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ, পাকিস্তানের দ্বিতীয় ও শেষ।

ওয়েলসের রাজধানীতে বেগ কখনোই খুব তীব্র ছিল না। তবে পড়েছে টানা। ব্রিটিশরা যেটাকে ‘আর্লি সামার রেইন’ বলে থাকে। কালো মেঘের আড়াল থেকে কয়েকবার সূর্য উঁকি দিয়েছে বটে। কিন্তু ঝির ঝির বৃষ্টি ছিলই। স্থানীয় সময় রোববার দুপুর দেড়টার দিকে প্রথমবারের মতো থামে বৃষ্টি। কিন্তু মিনিট ১৫ পর ফের নামে।

অবশ্য কার্ডিফের প্রস্তুতি ম্যাচে পাল্লা ভারী ছিল বাংলাদেশেরই। সর্বশেষ চার দেখায় পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের পাল্লা যেমন ভারী ছিল, সেইসঙ্গে ভেন্যুটি ছিল পয়মন্ত। এই শহর আর মাঠের সঙ্গে যে টাইগারদের মধুর সব স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ২০০৫ সালের ১৮ জুন এই মাঠেই তখনকার পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে মাটিতে নামিয়ে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। আশরাফুলের সেঞ্চুরির কাছে সেদিন নতজানু হয়েছিল রিকি পন্টিংয়ের দল। এক যুগ পর ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এই সোফিয়া গার্ডেন্সেই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বৈশ্বিক আসরে প্রথম সেমিফাইনালে নাম লেখায় বাংলাদেশ। এই মাঠে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল বাংলাদেশই।

কালকের ম্যাচটা পরিত্যক্ত হওয়ায় ক্ষতি হয়েছে উভয় দলেরই। বিশ্বকাপ অভিযানে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়া হলো না আয়ারল্যান্ডে তিন জাতির সিরিজ জিতে বিশ্বকাপের দেশে পা রাখা বাংলাদেশের। এদিকে, ইংলিশদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর বিশ্বকাপের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে যাওয়া সরফরাজ বাহিনীর সামনে এ ম্যাচটি ছিল খরা কাটিয়ে বড় মঞ্চে নামার সুযোগ। আগামীকাল দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে এই মাঠেই ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। পাকিস্তানের মতো ভারতও গা গরমের প্রথম ম্যাচে বাজেভাবে হেরেছে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের মতো পরিত্যক্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দিনের অপর ম্যাচও। ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ডে অবশ্য এ ম্যাচে টস হয়েছে। মাঠে বলও গড়িয়েছে। তবে কয়েক দফার বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার আগে ১২.৪ ওভারে প্রোটিয়ারা বিনা উইকেটে তুলে ফেলেছিল ৯৫ রান। রানের জন্য ভীষণ ক্ষুধার্ত ঘোষণা দেওয়ার পর মাঠেও কাজটা করে দেখিয়েছেন হাশিম আমলা। ৪৬ বলে ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার উদ্বোধনী সঙ্গী ডি ককের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৭ রান। পাঁচ বোলার ব্যবহার করেও কোনো উইকেট ফেলতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। মূল মঞ্চে বোলিং যে ক্যারিবীয়দের বেশ ভোগাবে, সেটার আভাস বুঝি এ ম্যাচেই পাওয়া গেল।

 

"