বিদায় ফন পার্সি

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

২০১৪ বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে স্তব্ধ করে দেওয়া সেই গোলটার কথা মনে আছে? যে গোলের পর ‘ফ্লাইং ডাচ্ম্যান’ পদবি পেয়ে গিয়েছিলেন রবিন ফন পার্সি! সেদিন ডেলে ব্লিন্ডের কাছে থেকে এত বড় ক্রস আশা করেননি রবিন ফন পার্সি। বয়স ৩০ পেরিয়েছে, দৌঁড়ে ধরা খুব একটা কঠিন হবে না... যা আছে কপালে! অনেকটা এমন ভেবেই সার্জিও রামোসকে ফাঁকি দিয়ে বক্সে ঢুকে দিলেন উড়ন্ত এক লাফ। এরপরের ইতিহাস তো জানেনই।

ফুটবলকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পর ফেইনুর্দে যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা, ঘুরে দাঁড়ালেন তখনই। কোচ ফন মারউইক যতটুকু সুযোগ দিলেন ততটুকুই কাজে লাগালেন। সেটুকু যথেষ্ট ছিল আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের জন্য। ফন পার্সির মধ্যেই নিজের ভবিষ্যৎ বার্গক্যাম্পকে দেখে ফেললেন ওয়েঙ্গার। মাত্র আড়াই মিলিয়ন দিয়ে ফেইনুর্দ থেকে কিনে আনলেন পার্সিকে। এক রকম ‘বন্দিদশা’ থেকে মুক্ত হওয়ার আশায় ছিলেন পার্সিও।

শুরু হলো ডাচ্ তরুণের ব্রিটিশ জীবন। খেলার ধরন থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন বটে, তবে বেঞ্চে বসে থাকার অসহ্য যন্ত্রণা থেকে নয়। ওয়েঙ্গারও বুঝলেন, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভরসা রাখলেন পার্সিতেই। প্রতিদান পেলেন হাতেনাতে। কিন্তু বেরসিক চোট আঘাত হানল বারবার। আর্সেনালে ভালোবাসা পেয়েছেন, নিজে হয়েছেন স্ট্রাইক ফোর্স, গানার্সদের কাছে হয়েছেন দেবতুল্য। কিন্তু শিরোপার নেশা বড্ড বড় নেশা। তার ছোঁয়া পেতেই আর্সেনকে ওয়েঙ্গারকে পার্সি বলে বসলেন, এবার আমায় যেতে যাও। পার্সি পাড়ি জমালেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে।ওল্ড ট্রাফোর্ডে গিয়েই গায়ে জড়িয়েছিলেন ‘২০’ নম্বর জার্সি। ‘রেড ডেভিল’দের ২০ নম্বর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এনে দেবেন বলেই এই নম্বর নেওয়া। পার্সি কথা রেখেছিলেন। ২০তম ইংলিশ লিগ শিরোপা বুঝিয়ে দিলেন ম্যানইউ সমর্থকদের।

ফন পার্সি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলেছেন মাত্র ৩ বছর। তারপর দুই বছর ছিলেন তুরস্কে। তুরস্ক ঘুরে আবারও ফিরলেন ঘরে। ঘর মানে সেই ফেইনুর্দে, যেখানে পার্সির স্বপ্ন বোনার শুরু। বুনতে বুনতে তা হয়ে উঠল বিশাল কাব্যগাথা। বিদায় বেলায় সব স্মৃতিকে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ার ব্যবস্থাই করেছিল ফেইনুর্দ। শেষ ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন ফন পার্সি, তার শেষ ম্যাচে জয় পায়নি ফেইনুর্দ। বিদায়ে তাই বিষাদের রং ছিল। কিন্তু কিংবদন্তির বিদায় থেকে বেশি বিষাদ আর কিসে হতে পারে? ইউরোপজুড়ে ইচ্ছামতো ছুটে বেড়ানোর পর থামলেন জন্মস্থানে ফিরে। একজন ক্রীড়াবিদের জন্য সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ও আনন্দের বিষয় তো এটাই। বিদায় ‘ফ্লাইং ডাচ্ম্যান’!

 

"