রাহির ক্যারিয়ার সেরা বোলিং

কঠিন লক্ষ্য সহজেই অর্জন

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০

সাহিদ রহমান অরিন

আচমকা বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই পেয়ে দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন আবু জায়েদ রাহি। তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চায়ের দোকান থেকে কর্পোরেট অফিস, রেলস্টেশন থেকে খেলার মাঠ কম তর্ক-বিতর্ক হয়নি। দেশের সাত বিভাগ থেকে প্রতিনিধি থাকলেও সিলেট বিভাগ থেকে কোনো প্রতিনিধি নেইÑ সেই অভাব করতেই ‘বাংলার লন্ডন’ (সিলেট) থেকে অরিজিনাল লন্ডনে বিশ্বকাপ খেলতে পাঠানো হচ্ছে রাহিকেÑ এমন ব্যঙ্গাত্মক খোঁচাও সহ্য করতে হয়েছে ২৫ বছর বয়সী পেসারকে। সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফাইনাল নিশ্চিতের ম্যাচে ওয়ানডে অভিষেক ঘটলেও ৯ ওভারে ৫৬ রান খরচায় ছিলেন উইকেটশূন্য। পরে ইনিংস শেষে মাঠ ছেড়েছেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এরপর থেকে তো তাকে হটিয়ে তাসকিন আহমেদকে অন্তর্ভুক্তির দাবি আরো জোরালো হতে শুরু করে।

গেল চার সপ্তাহে নিজের ওপর দিয়ে ‘ঘূর্ণিঝড় ফণী’র চেয়েও ভয়াবহ ঝড় বয়ে গেলেও দমে যাননি রাহি। কাল দেশের জার্সি গায়ে ওয়ানডেতে দ্বিতীয়বার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েই জাত চেনালেন এই তরুণ তুর্কি। আইরিশদের বিপক্ষে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। ইনিংস শেষে এ ডানহাতি পেসারের বোলিং ফিগার ৯ ওভারে ৫৮ রানে ৫ উইকেট। একাদশ বাংলাদেশি হিসেবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েছেন তিনি। মূলত তার অদম্য গতির প্রদর্শনীতেই নিয়ম রক্ষার ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৩০০র নিচে বেঁধে ফেলতে পেরেছে ম্যাশ বাহিনী।

গতকাল বুধবার ডাবলিনের ক্যাসেল অ্যাভিনিউয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯২ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। ওপেনার পল স্টার্লিংয়ের ম্যারাথন সেঞ্চুরি (১৩০) ও অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের ৯৪ রানের সুবাদে টাইগারদের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দেয় আইরিশরা। প্রথম ৪০ ওভার নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা বাংলাদেশ ইনিংসের শেষাংশে এসে রান বিলিয়েছে অকাতরে! রান দাতাদের মিছিল থেকে এক রাহিই ছিলেন আলাদা।

লক্ষ্য তাড়ায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টাইগারদের সংগ্রহ ২৩ ওভারে ২ উইকেটে ১৬৫ রান। বয়েড র‌্যানকিনের গতির কাছে পরাস্ত হওয়ার আগে দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ৪৬তম অর্ধশত। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিমায় অর্ধশত তুলে নিয়েছেন টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা লিটন দাসও (৭৬)। ক্রিজে ছিলেন সাকিব আল হাসান (১৭*) ও মুশফিকুর রহিম (৫*)।

এর আগে প্রথমবার নামা রুবেল হোসেনের সাফল্যে এদিন প্রথম উইকেটের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ম্যাককোলামকে (৫) লিটনের ক্যাচ বানান নতুন বলে হাত ঘোরানোর সুযোগ পাওয়া রুবেল। বালবার্নিকে (২০) সাজঘরে পাঠিয়ে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন আবু জায়েদ রাহি। এরপরে শুধুই ক্যাচ মিস আর টাইগারদের দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প। পরপর দু বলে সাব্বির ও সাইফউদ্দিনের হাতে জীবন পাওয়া পল স্টার্লিং হাঁকিয়েছেন সপ্তম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ১৪১ বলে ১৩০ রানে থেমেছেন এই স্টাইলিশ ওপেনার। বড় জুটির সঙ্গী উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড অবশ্য সেঞ্চুরির খুব কাছ থেকে ফিরেছেন। শুরুতে জীবন পেয়েছিলেন তিনিও। সেটাকে কাজে লাগিয়ে ৯৪ রান করেন তিনি। স্টার্লিংয়ের সঙ্গে পোর্টারফিল্ডে জুটি ১৭৪ রানের। এ জুটি ভাঙেন রাহি, পোর্টারফিল্ডকে লিটনের ক্যাচ বানিয়ে। পরে আরো তিনবার উইকেট পাওয়ার উল্লাসে মাতেন এ ফাস্ট বোলার। মিরাজের জায়গায় আসা মোসাদ্দেক ৮ ওভারে ৩২ রান দিয়ে উইকেটের দেখা পাননি। তবে তিনি ছিলেন সবচেয়ে কম খরুচে। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা সাইফউদ্দিন পেয়েছেন ২ উইকেট। দারুণ বোলিং করে ৯ ওভারে ৪৩ রান দিয়েছেন। অধিনায়ক মাশরাফি কাল বোলিংয়ে এসেছিলেন মাঝ ইনিংসে। ৮ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য কেটেছে অধিনায়কের। কে জানে, হয়তো শুক্রবারের ফাইনালের জন্যই সেরাটা তুলে রেখেছেন ওয়ানডে কাপ্তান!

"