বল হাতেই নিন্দুকদের জবাব দিলেন মুস্তাফিজ

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০

সাহিদ রহমান অরিন

আইরিশ বোলারদের পেয়ে রানের ফোয়ারা ছোটানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা বাংলাদেশি বোলারদের সামনে পড়লেই যেন স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে ভুলে যান। দুই দলের আগের দেখায় তাও ২৬১ রান করতে পেরেছিল ক্যারিবীয়রা। কাল সেটিও হয়নি। ডাবলিনের মালাহাইডে টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৯ উইকেটে ২৪৭ রানে থমকে গেছে ক্যারিবীয়রা।

ফাইনালে উঠার লক্ষ্যে মাঝারি টার্গেট তাড়া করতে নেমে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১১৭ রান। তামিম-সৌম্য-সাকিব তিন বাঁহাতিকেই ফেরত পাঠিয়ে টাইগারদের ইনিংসে খানিকটা কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছেন অ্যাশলে নার্স। অ্যামব্রিসের হাতে ধরা পড়ার আগে সৌম্য তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম অর্ধশত। দুই বন্ধুপ্রতীম সতীর্থ সাকিব-তামিম শুরুটা ভালো করলেও ত্রিশের আগেই থামতে হয়েছে।

তিন জাতির সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্যয়বহুল বোলিং করায় গত কয়েক দিনে বেশ ক’বার কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানকে। তবে নিন্দুকদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কাটার মাস্টার কাল দেখিয়ে দিয়েছেন, তিনি ফিরতে জানেন। সকাল বেলার সিমিং কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে সোমবার শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করছেন, নিয়মিত উইকেটও পেয়েছেন। ৯ ওভারে ১ মেডেনে ৪৩ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম বোলার মুস্তাফিজ। একটু ব্যয়বহুল হলেও গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দেওয়া মাশরাফি বিন মর্তুজার কৃতিত্বও কম নয়। ওয়ানডে অধিনায়ক ৬০ রানে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ১টি করে উইকেট পেলেও অসাধারণ বোলিং করেছেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজও। আগের ম্যাচের মতো এ দিনও তারা ভীষণ কৃপণ, বিশেষ করে সাকিব। সাইফউদ্দিনের ইনজুরিতে একাদশে ঠাই পাওয়া আবু জায়েদের অভিষেকটা অবশ্য ভালো হয়নি। ৯ ওভারে ৫৬ রানে ছিলেন উইকেটশূন্য। ইনিংস শেষে মাঠ ছেড়েছেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

আগের দেখায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ান ওপেনিং জুটি তুলেছিল কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮৯ রান। কাল তাদের এ স্কোরটাই হয়েছে ৩ উইকেট হারিয়ে। স্কোরবোর্ডে শতরান জমা করার আগেই নেই ৪ উইকেট। আগের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৮ রান করা সুনিল অ্যামব্রিসকে দ্রুতই ফিরিয়ে দিয়েছেন ম্যাশ। সৌম্য সরকারের দারুণ ক্যাচ হওয়ার আগে উইন্ডিজ ওপেনারের রান ২৩। বেশি দূর এগোতে পারেননি ড্যারেন ব্রাভোও। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ার আগে করেন মাত্র ৬ রান। একটা সময় ক্যারিবীয়রা এতটা চাপে পড়ে যায় যে, ১২.২ ওভারের পর বাউন্ডারি মারতে লেগেছে ১০৪ বল। এ চাপ থেকে আর বের হতে পারেনি তারা।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে যা উদ্ধার করেছে শাই হোপ-জেসন হোল্ডারের পঞ্চম উইকেট জুটি। ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে থাকা হোপ বাংলাদেশের বিপক্ষে শতক হাঁকানো যেন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন। আজও এগোচ্ছিলেন শতকের দিকে। কিন্তু সেটি হয়নি। মাশরাফির বলে মুশফিকের গ্লাভসে ধরা পড়ার আগে সেঞ্চুরি থেকে ১৩ রান দূরে ছিলেন হোপ। আগের ম্যাচে উইন্ডিজ অধিনায়ক হোল্ডারকে ফিরিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আজও সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হলো। আউট হওয়ার আগে হোল্ডার করেছেন ৬২। হোপ-হোল্ডারের জুটি যোগ করেছে সই-সই ১০০ রান। এ দুজন ছাড়া আর তেমন কোনো ইনিংস আসেনি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে। সংগ্রহটাও তাই ২৪৭ রানের বেশি হয়নি। আগের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৬২ রানের লক্ষ্য যদি বাংলাদেশ ৮ উইকেট হাতে রেখে জেতে, তবে এ ম্যাচে কেন নয়? আর এ ম্যাচ জিতলেই স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত হবে মাশরাফিদের। ক্রিকেট বিধাতা টাইগারদের দিকে মুখ তুলে চেয়েছেন কি-না কে জানে।

 

"