ইউরোপা লিগ ফাইনালে ‘অল ইংলিশ’

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

মাত্রই তিন দিন আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করল দুই ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুল ও টটেনহাম হটস্পার। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের মতোই ইউরোপা লিগের ফাইনালকেও ‘অল ইংলিশ’ বানিয়ে ফেলল আর্সেনাল ও চেলসি।

পরশু রাতে দারুণ জয়ে শিরোপার মঞ্চ নিশ্চিত করে দুই ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনাল ও চেলসি। ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো ইউরোপের শীর্ষ দুই প্রতিযোগিতায় সব ইংলিশ দল ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে। ম্যাচের শুরুতে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা জাগিয়েছিল ভালেন্সিয়া। তবে পিয়েরে এমরিক আউবেমেয়াংয়ের হ্যাটট্রিকে ফিরতি লেগেও জিতে ইউরোপা লিগের ফাইনালে ওঠেছে আর্সেনাল। আরেক সেমিফাইনালে ফ্রাঙ্কফুর্টকে টাইব্র্রেকারে হারিয়েছে চেলসি।

স্প্যানিশ ক্লাবটির মাঠে পরশু রাতে শেষ চারের ফিরতি পর্বে ৪-২ গোলে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায় উনাই এমেরির দল। প্রথম লেগে এমিরেটস স্টেডিয়ামে ৩-১ গোলে জিতেছিল আর্সেনাল।

একই সময়ে শুরু হওয়া চেলসি ও ফ্রাঙ্কফুর্টের মধ্যে সেমিফাইনালের আরেক ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। দুই লেগ মিলে স্কোরলাইন ২-২ হলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময় হয়ে গড়ায় টাইব্রেকারে। তাতে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় মাওরিসিও সাররির দল।

প্রথম লেগের হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মাঠে নামা ভালেন্সিয়ার শুরুটা হয়েছিল দারুণ। দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে রদ্রিগোর দূরের পোস্টে বাড়ানো বল ফাঁকায় পেয়ে সøাইড করে জালে ঠেলে দেন ফরাসি ফরওয়ার্ড কেভিন গামেইরো।

ম্যাচে তাদের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ অবশ্য স্থায়ী হয়নি। ৬ মিনিট পরেই আউবামেয়াংয়ের দারুণ গোলে সমতায় ফেরে আর্সেনাল। সতীর্থের হেডের পর বল বুক দিয়ে ডি-বক্সে বাড়িয়ে জোরালো শটে পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ান তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে দুই লেগ মিলে ব্যবধান বাড়িয়ে ফাইনালের টিকিট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে আর্সেনাল। বাঁ-দিক থেকে লুকাস তররেইরার পাস ডি-বক্সে পেয়ে একজনকে কাটিয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান আলেকজান্ডার লাকাজেত্তে।

৫৮তম মিনিটে গামেইরোর দ্বিতীয় গোলে ভালেন্সিয়ার ফিকে হয়ে যাওয়া নতুন করে জাগে। তবে ৬৯তম মিনিটে আউবেমেয়াং আবারও লক্ষ্যভেদ করলে লড়াই থেকে এক রকম ছিটকে পড়ে স্বাগতিকরা। ম্যাচে ৩-২ ও দুই লেগ মিলে ৬-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্সেনাল।

আর ৮৮তম মিনিটে হেনরিখ মিখিতারিয়ানের পাস পেয়ে কোনাকুনি শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন আউবেমেয়াং। মৌসুমে গ্যাবনের এই ফরওয়ার্ডের মোট গোল হলো ২৯টি। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ২৮তম মিনিটে এগিয়ে যায় চেলসি। এদেন আজারের পাস পেয়ে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার রুবেন লোফটাস চিক।

দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে বসনিয়ার ফরওয়ার্ড লুকা ইয়োভিচের গোলে ম্যাচে ফেরে ফ্রাঙ্কফুর্ট। দুই লেগ মিলে স্কোরলাইন ২-২ হওয়ায় রোমাঞ্চকর শেষের সম্ভাবনা জাগে। তবে বাকি সময়ে ও অতিরিক্ত সময়ে কেউই পার্থক্য গড়ে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতে চেলসি।

ক্লাব পর্যায়ে ইউরোপের শীর্ষ দুই প্রতিযোগিতায় এবারই প্রথম কোনো এক দেশের চারটি দল ফাইনালে উঠল। আগামী ২৯ মে আজারবাইজানের বাকুতে শিরোপা লড়াইয়ে নামবে চেলসি ও আর্সেনাল।

"