বাদ ইমরুল কায়েস

কান্নায় ভেঙে পড়লেন তাসকিন আহমেদ

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষিত হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড। চমক হিসেবে আবু জায়েদ রাহির অন্তর্ভুক্তি। বাদ পড়েছেন তাসকিন আহমেদ ও ইমরুল কায়েস।

কাল শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে নির্বাচকরা যখন বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করছেন, তাসকিন আহমেদ তখন পাশের একাডেমি ভবনে। স্বপ্নের বিশ্বকাপ দলে নিজের নাম না দেখে বড়সড় ধাক্কাই খেয়েছেন এ পেসার। আবেগ লুকিয়ে রাখতে পারেননি।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেঁদেছেন। অশ্রুজল মুছতে মুছতে জানিয়েছেন, চেষ্টা চালিয়ে যাবেন সাধ্যমতো, ‘আমার কিছু বলার নেই। তারা যা ভালো মনে করেছে তাই করেছে। এই আড়াই মাস আমি যা কষ্ট করেছি তা আগে কখনো করিনি।’

‘আমি আমার কাজ করে যাব। সবাই তো ভালোই (দল নির্বাচন) চায়, খারাপ চায় না কেউ। সামনে আরো সুযোগ আছে। চেষ্টা চালিয়ে যাব সামনে সুপার লিগ ভালো করে খেলার। যেটা ভালো মনে করেছে সেটাই করেছে। সবাই দোয়া করবেন, আমি চেষ্টা করে যাব।’

বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দল হয়ে পড়েছে চোটজর্জর। গোড়ালির চোটে পড়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। কিছুটা চোট আছে সাইফউদ্দিনের। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এনে দলে পরিবর্তন করার সুযোগ আছে। আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে তাসকিনকে।

বিশ্বকাপ দলে তাসকিনকে না রাখার কারণ হিসেবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন সামন এনেছেন চোট পরবর্তী ফিটনেসের ঘাটতিকে। ফিট হয়ে ফর্ম ফিরে পেলে তাকে বিবেচনা করার সুযোগ আছে, যেহেতু ২২ মে পর্যন্ত দলে পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে।

‘তাসকিন কিন্তু ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। পরে লম্বা বিরতি। নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য চিন্তা করেছি, আবার চোটে পড়েছে। এখন পর্যন্ত পুরোপুরি ফিট না, ফিজিও রিপোর্ট অনুযায়ী। তাসকিনকে স্কিল ফিট হিসেবে চাচ্ছিলাম। একটা ম্যাচ খেলেছে লিগে, তবে ফিটনেস আপ টু দ্য মার্ক না। যেহেতু সময় আছে, যদি ফিট হয়ে যায় দরকার হলে ব্যাকআপ হিসেবে আমরা রাখব।’ মিনহাজুল আবেদিন বললেন এভাবেই।

গত ১ ফেব্রুয়ারি বিপিএলে সিলেট সিক্সার্সের শেষ ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় গোড়ালিতে চোট পান তাসকিন। ছিঁড়ে যায় লিগামেন্ট। বিপিএলে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এ পেসার ছিটকে যান নিউজিল্যান্ড সফরের দল থেকে।

গোড়ালির চোটে আড়াই মাস মাঠের বাইরে থাকার পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরে প্রচুর শর্ট বল করেন তাসকিন। লেন্থ দুর্বল হওয়ায় গতির ফায়দা নেয় প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা। লো-স্কোরিং ম্যাচে খরুচে বোলিংয়ের পর প্রশ্ন উঠে তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়েই। ৫ ওভারে দেন ৩৬ রান। পরের ম্যাচে তাকে একাদশেই রাখেনি শিরোপা জয়ের পথে থাকা লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে তাসকিন নির্বাচকদের সন্তুষ্ট করতে না পারলেও তার পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়নি।

 

"