মেসি-রোনালদোর দুই রকম রাত

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

লিওনেল মেসিকে আটকানো যায় সেই উপায় আগে থেকেই বলে দিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইতিহাসের সেরা কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। তবে বার্সেলোনা অধিনায়ককে আঘাত না করার অনুরোধ করেছিলেন কিংবদন্তি। ফার্গির বারণ শোনেননি ক্রিস স্ম্যালিং। প্রথমার্ধের মাঝপথে ঠিকই মেসিকে আঘাত করেছেন ম্যানইউ ডিফেন্ডার।

পরশু রাতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে এসেই তাদের হারিয়ে দিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে কাতালান জায়ান্টরা জিতেছে ১-০ ব্যবধানে, লুক শ’র আত্মঘাতী গোলে।

কষ্টার্জিত এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল বার্সেলোনা। আগামী মঙ্গলবার ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে ড্র করলেও সমস্যা হবে না বার্সার। অন্যদিকে, স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বার্সার মাঠে জয়ের বিকল্প নেই ইংলিশ ক্লাবটির। রক্ষণাত্মক ফুটবলের ধারক ও বাহক হয়ে উঠা ম্যানইউর জন্য কাজটা কঠিনই হওয়ার কথা।

বার্সেলোনার বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুতেই রক্ষণাত্মক কৌশলের আশ্রয় নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ ওলে গানার সুলশার। কিন্তু আঁটসাঁট রক্ষণ খেলানোর যে ছক সুলশার বানিয়েছেন সেটা বুমেরাং হয়ে গেছে প্রথম বাঁশির কয়েক মিনিট পরই। বার্সার আক্রমণ সামলাতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসে তারা। নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে খলনায়ক বনে গেলেন লুক শ।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১২ মিনিট! ডি-বক্সে লুইস সুয়ারেজকে ক্রস দিয়েছিলেন মেসি। উরুগুয়েন স্ট্রাইকার বলে ছুঁয়েছেন মাথা। কিন্তু লুক শ’র গায়ে লেগে বল পেরিয়ে যায় গোল লাইন। রেফারি বাজান গোলের বাঁশি। কিন্তু লাইন্সম্যান পতাকা তোলেন অফসাইডের। ভিএআর ছাড়া উপায় ছিল না। পর্যবেক্ষণের পর দেখা গেল লাইন্সম্যানেরই ভুল হয়েছে। লিড নেয় কাতালানরা।

গোল হজমের পর রক্ষণ ছেড়ে বেরিয়ে আসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে কয়েকটা আক্রমণ করলেও সেগুলো গোলমুখে ছিল না। ফরওয়ার্ডদের ব্যর্থতায় ম্যাচেও আর ফিরতে পারেনি রেড ডেভিলসরা। ব্যবধান বাড়াতে পারেনি বার্সেলোনাও। তাই ভাগ্যবশত আত্মঘাতী গোলের ওপর দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় এরনেস্তো ভালভার্দের দল।

তবে অন্য ম্যাচে সব শঙ্কা উড়িয়ে মাঠে ফিরেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে গোলও করেছেন পর্তুগিজ তারকা। কিন্তু রোনালদোর ফেরার আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। এগিয়ে থেকেও যে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি তার দল জুভেন্টাস। পরশু রাতে ঘরের মাঠ আমস্টারডামে তুরিনের বুড়িদের ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে আয়াক্স। নিখাদ ফুটবল সমর্থকদের মতে, জুভেন্টাস যে ম্যাচে হারেনি সেটাই বেশি। পুরো ম্যাচেই যে দুর্দান্ত খেলেছে ডাচ ক্লাবটি। তবু পরিচিত দর্শকদের সামনে ড্র করার সান্ত¡না নিয়ে খুশি থাকতে হলো আয়াক্সকে।

ড্রয়ের ম্যাচ থেকে জুভেন্টাসের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি রোনালদোর অ্যাওয়ে গোলটা। ফিরতি লেগে গোলশূন্য ড্র করলেই চলবে তাদের। সেক্ষেত্রে অ্যাওয়ে গোলের সুবিধায় সেমিফাইনালে উঠে যাবে তুরিনের বুড়িরা। আগামী ১৬ এপ্রিল জুভেন্টাসের মাঠ তুরিন স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ইয়োহান ক্রুইফ এরিনায় ম্যাচটা জমে উঠেছিল শুরু থেকেই। উত্তেজনার রেণু ছড়ানো ম্যাচে গোলের মুখ খুলল প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে। হোয়াও কানসেলোর ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে আয়াক্সের জাল কাঁপান রোনালদো। এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচে গোল করলেন ‘সিআর সেভেন’। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে রোনালদোর রেকর্ড (সর্বোচ্চ) ১২৫তম গোল।

জুভেন্টাসের এগিয়ে যাওয়ার উচ্ছ্বাস বাতাসে মিশে যেতে সময় লাগেনি। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরেই সমতায় ফেরে আয়াক্স। স্কোর লাইন ১-১ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরওয়ার্ড ডেভিড নেরেস। জুভেন্টাস ডিফেন্ডারদের পায়ের ফাঁক গলিয়ে মাটি কামড়ানো শটে আয়াক্সকে ম্যাচে ফেরান তিনি।

ম্যাচের বাকি সময় জুভেন্টাসের রক্ষণ বিভাগের ভালোই পরীক্ষা নিয়েছে আয়াক্সের আক্রমণভাগ। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের। আপ্রাণ চেষ্টা করেও দ্বিতীয়বার গোলের দেখা পায়নি তারা। তাই ডাচ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে অজেয় থাকার গৌরবটা ধরে রাখতে সক্ষম হলো জুভেন্টাস। এ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে ৯ বার খেললেও একটিতেও হারেনি তারা।

 

ফলাফল

ম্যানইউ ০-১ বার্সেলোনা

আয়াক্স ১-১ জুভেন্টাস

 

"