শেখ জামাল-ব্রাদার্সের জয়

শীর্ষে থাকল রূপগঞ্জ

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

চোট কাটিয়ে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নির্বিষ থাকলেন তাসকিন আহমেদ। তবে বাকিদের দারুণ বোলিংয়ের নাগালেই থাকল রূপগঞ্জের জয়ের লক্ষ্য। পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল উত্তরাকে ১৮০ রানে আটকে রেখে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে লিগ পর্ব শেষ করল তারা। তাতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকেই সেরা ছয়ের সুপার লিগ শুরু করবে নাঈম ইসলামের দল।

ছোট লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনিং জুটিতেই লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ তুলে ফেলে ৯৬ রান। নাঈম শেখ ৬৩ রান করে মোহাইমেনুলের বলে বোল্ড হলে ভাঙে জুটি।

আরেক ওপেনার মেহেদী মারুফের সঙ্গে মুমিনুল হকের ৮৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৪০ দশমিক ৪ ওভারে জয়ের বন্দরে নোঙর করে তারা। মেহেদী ৬২ ও মুমিনুল ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করেও ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রানের বেশি তুলতে পারেনি।

রূপগঞ্জের বাঁহাতি স্পিনার নাবিল সামাদ ১০ ওভারে মাত্র ২৯ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট। হয়েছেন ম্যাচসেরা। ভারতীয় পেসার রিশি ধাওয়ান দুটি ও মোহাম্মদ শহিদ নেন একটি করে উইকেট।

বিশ্বকাপ দলে থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে প্রথম খেলতে নামা তাসকিন ছাড়া সবাই করেছেন হিসেবি বোলিং। তবে খরুচে ছিলেন এ ডানহাতি পেসার। ৫ ওভারে দেন ৩৬ রান। পাননি কোনো উইকেট।

দিনের আরেক ম্যাচে নাসির হোসেনের আঘাতে ১৪ রানে নেই আবাহনীর তিন উইকেট। ধুঁকতে থাকা দলকে পথ দেখালেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অধিনায়কের ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংসে আকাশী-নীলরা পেল ২১১ রানের পুঁজি। পরে ব্যাট হাতেও প্রতিরোধ গড়লেন নাসির। দলের বিপদের মুখে খেললেন ৪৫ রানের ইনিংস। তাতে ৩ উইকেটে জয় তুলে সুপার লিগে খেলার সম্ভাবনা জাগাল শেখ জামাল।

হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর মাঠে ফিরে নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না নাসির। অবশেষ বিকেএসপির মাঠে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বাঁচা-মরার ম্যাচে তাকে দেখা গেল চেনা চেহারায়। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে হাতে উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কারও।

ছোট লক্ষ্য পেলেও আবাহনীর শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে শেখ জামালের ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে যায় ১২ রানে ২ উইকেট হারালে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ইমতিয়াজ হোসেন ও অনুতাপ মজুমদার ৬৯ রানের জুটি গড়ে জয়ের পথেই রাখেন দলকে।

দলীয় দেড়শোর কাছে গিয়ে ৫৬ রানের ইনিংস খেলে অনুতাপ বোল্ড হন সাইফউদ্দিনের বলে। নাসিরও ফেরেন দ্রুত। ৪৫ রান করা এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান বোল্ড হন সৌম্য সরকারে বলে।

৭ রানের ব্যবধানে থিতু দুই ব্যাটসম্যান আউট হলে আবার চাপে পড়ে শেখ জামাল। লেগস্পিনিং অলরাউন্ডার তানবীর হায়দারের প্রতিরোধ সহজ করে দেয় জয়ের পথ। ৭ বল আগেই দলকে জিতিয়ে ৩৮ রানে থাকেন অপরাজিত।

টেলএন্ডার এনামুল হক অপরাজিত থাকেন ১৫ রান করে। অষ্টম উইকেট জুটিতে অবিচ্ছিন্ন থেকে তারা যোগ করেন ৩৩ রান। তার আগে সপ্তম উইকেট জুটিতে জিয়াউর রহমানকে (১৬) নিয়ে ৩৪ রান যোগ করেন তানবীর।

সাইফউদ্দিন, সানজামুল ও সৌম্য নেন দুটি করে উইকেট। একটি উইকেট নিয়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু। ৯ দশমিক ৫ ওভার বোলিং করে ৪০ রান দিয়ে উইকেটহীন থাকেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

আগের দশ ম্যাচের আটটিতেই হার। একের পর এক হারে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। নিচের দিক থেকে দুই নম্বরে তারা। কাল আরেকটি হারের শঙ্কা জাগিয়ে খাদে পড়তে পড়তে শেষ পর্যন্ত জিতেই মাঠ ছেড়েছে দলটি। টপ ও মিডল-অর্ডারের কল্যাণে খাদের কোনা ছুঁয়ে তারা জিতেছে ১ উইকেটে। প্রাইম দোলেশ্বরের দেওয়া ২৫১ রানের লক্ষ্য টপকাতে এক বল হাতে রেখে জয় পায় ব্রাদার্স।

 

"