নারী ফুটবলের আঁতুরঘর

কলসিন্দুরে তৈরি হচ্ছে নতুন ফুটবলার

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

শামসুল হক মৃধা, ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) থেকে

বাংলাদেশ নারী ফুটবলের আঁতুরঘর হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ফুটবলার। এই বিদ্যালয় থেকে বর্তমানে মারিয়া, সানজিদা, তহুরাসহ ১৩ জন খেলোয়াড় জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জয়ে রয়েছে কলসিন্দুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেয়েদের দাপট। ২০১১ সালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দিয়ে নারী ফুটবলের সূচনা করে সীমান্তকন্যারা। ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। শুরু হয় উচ্চমাধ্যমিকের পথচলা। সেখানেও গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তিনবার চ্যাম্পিয়ন এবং দুবার জাতীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হয়েছে কলসিন্দুরের মেয়েরা। এই পথপরিক্রমায় সহযোগিতায় ছিল এলাকাবাসী, সুশীলসমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসন। সেখান থেকে মেয়েদের শুরু হয় জাতীয় পর্যায়ে পথচলা। বয়সভিত্তিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সুযোগ পায় কলসিন্দুরের বেশ কিছু ফুটবলার। সাফল্যও পায় মেয়েরা। মাঝে কলসিন্দুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বন্দ্বে খেলা বন্ধ করে দেয় প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় মেয়েদের জন্য কোচ নিয়োগ করে খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় জুয়েল মিয়া নামের একজনকে মেয়েদের কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে উচ্চ বিদ্যালয়। মফিজ মাস্টারের পদোন্নতি হযে অন্যত্র বদলি হওয়ায় বর্তমানে খেলা বন্ধ রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। তবে কলসিন্দুরের ফুটবলের ইতিহাস ধরে রাখার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ জন এবং উচ্চমাধ্যমিকের প্রায় ৩০ জন মেয়েকে প্রশিক্ষণ করাচ্ছে কোচ জুয়েল মিয়া। তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেয়েদের ফুটবল টিমের টিম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন সহকারী অধ্যাপক মালা রানী সরকার। কলসিন্দুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে কোচ জুয়েল মিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় নারী ফুটবল দলে সুযোগ পেয়েছে শামসুন্নাহার জুনিয়র, রোজিনা, আমেনা, পূর্ণিমাসহ কয়েকজন মেয়ে। মেয়েদের সুবাধে সরকারি হচ্ছে কলসিন্দুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়। কলসিন্দুরের ফুটবলের এই অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখার জন্য এগিয়ে আসছে এলাকাবাসীও। তাদের দাবি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলাটা চালু করলে আরো ভালো ফুটবলার তৈরি হতো। মেয়েদের প্রশিক্ষণের মাঠের অবস্থা তেমন ভালো নেই। মাঠটি সংস্কার করতে পারলে ভালো কিছু হতো বলে জানান মেয়েদের কোচ জুয়েল মিয়া। কলসিন্দুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি সরকারি করায় ফুটবলার মেয়েরা এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে এসেছে নতুন উৎসাহ ও স্বপ্ন। তারা যেকোনো মূল্যে ফুটবলার তৈরি অব্যাহত রাখতে চায়। এ ব্যাপারে মেয়েদের টিম ম্যানেজার মালা রানী সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ আমাদের প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কনেছেন, দেশের সুনাম ধরে রাখতে আমরাও যেকোনো মূল্যে ফুটবলার তৈরি অব্যাহত রাখব। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, মেয়েদের নিয়ে আমার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, শিগগিরই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।

 

"