ব্যাটে-বলে রকিবুলের চমক, কৌশলে জিতল খেলাঘর

মুস্তাফিজের আগুন নেভাল বৃষ্টি

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চার বছর পর মাঠে ফিরেই বল হাতে জ্বলে উঠলেন মুস্তাফিজুর রহমান। কাল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই তুলে নিলেন দুই উইকেট। পরে আরো এক ব্যাটসম্যানকে শিকার বানিয়ে প্রথম স্পেল শেষ করেন ৫ ওভার ২০ রানে ৩ উইকেট ঝুলিতে নিয়ে।

১৭৭ রানের ছোট পুঁজি নিয়েও শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন মুস্তাফিজ। তবে শেষরক্ষা হয়নি। শামসুর রহমান শুভর প্রতিরোধের পর ডাকওয়ার্থ ও লুইস মেথডে ২১ রানের জয় তুলে সেরা ছয়ের সুপার লিগ খেলার সম্ভাবনা জাগিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। সকালে কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় কমে আসে ম্যাচের দৈর্ঘ্য। অফস্পিনার সঞ্জিত সাহার দুর্দান্ত বোলিংয়ে নির্ধারিত ৪৮ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রানের বেশি তুলতে পারেনি শাইনপুকুর।

জবাব দিতে নেমে গাজী ২১ দশমিক ৫ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ১০৬ রান তোলার পর শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পানিতে প্লাবিত হয়ে যায় পুরো মাঠ। পরে বৃষ্টি আইনে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গাজী।

দিনের অন্য ম্যাচে দলের বিপদে প্রথমে ব্যাট হাতে রকিবুল হাসান। পরে বল হাতে মোহাম্মদ আশরাফুল ও সোহাগ গাজীর চমক। তিন তারকার দারুণ পারফরম্যান্সে ভর করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দাপুটে জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

কাল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ১৩৩ রানে হারায় মোহামেডান। সেঞ্চুরি করেন রকিবুল আর আশরাফুল নেন তিন উইকেট। সাভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৯৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে মোহামেডান। জবাবে ১৫০ রানের বেশি যেতে পারেনি প্রাইম ব্যাংক। মোহামেডানের শুরুটা মোটেও রঙিন ছিল না। স্কোরবোর্ডে এক রান জমা হতে না হতেই নিজের খাতা খোলার আগে আউট হয়ে যান ইরফান শুক্কুর। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪৪ রান তোলার পর ফেরেন অভিষেক মিশ্র। ভালো শুরুর পর ৩৬ রান করে আউট হয়ে যান লিটন দাসও। মোহাম্মদ আশরাফুল ৪ ও অধিনায়ক নাদিফ চৌধুরী ১১ রানে ফিরলে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই ৫ উইকেট নেই হয়ে যায় মোহামেডানের। প্রতিকূল অবস্থায় দলের হাল ধরেন রকিবুল। সঙ্গী হিসেবে পান রজত ভাটিয়াকে। রকিবুলের সেঞ্চুরির পথে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ভারতীয় ভাটিয়া। জুটিতে ১৪৬ রান যোগ করে আউট হন ভাটিয়া। ফেরার আগে ৬০ বলে চারটি চার ও তিন ছক্কায় করে যান মহাগুরুত্বপূর্ণ ৬৬ রান।

আর অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে রকিবুল যখন আউট হন, তার নামের পাশে তখন ১০২ রান। শেষ দিকে সোহাগ গাজীর ১৪ বলে ৩৩ রানের একটি ছোট ঝড় তিনশোর কাছাকাছি স্কোর এনে দেয় মোহামেডানকে।

বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালোই করেছিলেন দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় (২৬) ও নাজমুল হোসেন মিলন (১৯)। কিন্তু জুটিতে ৪৮ রান তোলার পর দুই রানের ব্যবধানে সোহাগ গাজীর জোড়া আঘাত। সেই আঘাত আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি প্রাইম ব্যাংক। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১০৪/৬ পরিণত হয় স্কোরবোর্ড। ৩৯ দশমিক ১ ওভারের সময় ১৫০ রান ও প্রাইম ব্যাংকের এক উইকেট হাতে থাকতে আলো স্বল্পতায় খেলা স্থগিত হয়। পরে বৃষ্টিতে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় খেলা। প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষার শেষে খেলা আর শুরু করতে না পারায় বৃষ্টি আইনে মোহামেডানকে ১৩৩ রানে জয়ী ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। আশরাফুলের তিন উইকেটের সঙ্গে চার উইকেট নেন সোহাগ গাজী।

দিনের তৃতীয় ম্যাচে বৃষ্টিকে দারুণভাবে কাজে লাগালেন খেলাঘরের ব্যাটসম্যানরা। জিততে হলে যেখানে ওভারপ্রতি ৫ দশমিক ৩ হারে রান তুলতে হতো, সেখানে প্রথম ২০ ওভারে তারা রান তুললেন ৪ দশমিক ২ গড়ে, অক্ষত রাখলেন ৯ উইকেট। তার পুরস্কার মিলল বৃষ্টি হানা দেওয়ার পর। উইকেট বাঁচিয়ে খেলে ডাকওয়ার্থ ও লুইস মেথডে ১২ রানে ব্রাদার্সকে হারিয়েছে খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি। বৃহস্পতিবার শেষ ম্যাচে তারা শাইনপুকুরকে হারাতে পারলে রেলিগেশনে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে পারবে। কাল ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্রাদার্স ২০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তোলে ৮৪ রান। এরপর বৃষ্টিতে প- হয়ে যায় খেলা। উইকেট ধরে রাখতে পারায় বৃষ্টি আইনে জয়টাও নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের।

"