আবাহনীর টানা চতুর্থ জয়, মোহামেডানের প্রথম হার

বৃষ্টি আইনে জিতল প্রাইম ব্যাংক

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব অধিনায়ক এনামুল হক। এক আসর পর ফিরেই সেঞ্চুরি করলেন অভিমান্যু ঈশ্বরণ। প্রায় সাড়ে তিন শ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় লড়াইয়ে ছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। তবে তাদের চেষ্টায় জল ঢেলে দিল বৃষ্টি। বৃষ্টি আইনে জিতে গেল প্রাইম ব্যাংক।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ রাউন্ডে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ২৯ রানে জিতেছে এনামুলের দল। এটি তাদের তৃতীয় জয়। অন্যদিকে তৃতীয় ম্যাচে হারল প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টির চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল।

শেখ জামালের ইনিংসের ৩৭ ওভার ১ বল পর বৃষ্টি নামলে আর খেলা সম্ভব হয়নি। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে সে সময় জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ২৩৬ রান। নুরুল হাসান সোহানের দল করেছিল ৪ উইকেটে ২০৬ রান।

বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই রুবেল মিয়াকে হারায় প্রাইম ব্যাংক। ঈশ্বরণের সঙ্গে ১৯৪ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে দলকে দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করান এনামুল।

দুই ব্যাটসম্যান খেলে যান প্রায় এক ছন্দে। ৫২ বলে ৫০ স্পর্শ করেন এনামুল। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে একাদশ সেঞ্চুরি ছুঁতে খেলেন ১১৮ বল। ঈশ্বরণ পঞ্চাশে যান ৫৫ বলে, রান তিন অঙ্কে নিতে খেলেন ১০৫ বল।

আগে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান এনামুল। বিদায়ও নেন আগে। লেগ স্পিনার তানবীর হায়দারের বলে শহিদুল ইসলামকে ক্যাচ দিয়ে থামেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। ১২০ বলে খেলা তার ১০১ রানের ইনিংসটি গড়া ৮ চারে।

শেষদিকে দ্রুত রান তোলা ভারতীয় টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান ঈশ্বরণ ১২৬ বলে ১০ চার ও এক ছক্কায় ফেরেন ১৩৩ রান করে। ডেথ ওভারে ঝড় তুলেন আরিফুল হক। ৩২ বলে তিন ছক্কা ও চারটি চারে এই অলরাউন্ডার অপরাজিত থাকেন ৬৭ রানে। তার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে শেষ ৯ ওভারে ১১৫ রান যোগ করে প্রাইম ব্যাংক।

বড় রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি শেখ জামালের। ৫৯ রানের মধ্যে ফিরে যান টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান। নাসির হোসেনের সঙ্গে ১১৬ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন সোহান। ৭৬ বলে ১০ চার আর দুই ছক্কায় ৭৬ রান করা নাসিরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আবদুর রাজ্জাক।

ক্রিজে জমে গিয়েছিলেন কিপার-ব্যাটসম্যান সোহান। ব্যাটিংয়ের অপেক্ষায় ছিলেন জিয়াউর রহমান। সমীকরণ কঠিন হয়ে গেলেও আশা বেঁচে ছিল শেখ জামালের। তবে শেষ চেষ্টা করতে দিল না বৃষ্টি।

দিনের আরেক ম্যাচে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয় পেয়েছে আবাহনী। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ২০৪ রানের লক্ষ্য ৯ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় মোসাদ্দেক হোসেনের দল। তাতে টানা চতুর্থ হারের স্বাদ পায় শাইনপকুর।

এ ছাড়া মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মোহামেডানকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। ২৯৬ রানের লক্ষ্য চার বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় নাঈম ইসলামের দল। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো হারল মোহামেডান। দলকে পথ দেখানো ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন রূপগঞ্জ অধিনায়ক নাঈম।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

 

শাইনপুকুর- আবাহনী

শাইনপুকুর : ৫০ ওভার ২০৩/৯ (সাদমান ১৬, সাব্বির ১০, উদয় ০, হৃদয় ৩৯, আফিফ ৪৮, শুভাগত ১২, ধীমান ২২, শুভ ২৪*, দেলোয়ার ২, টিপু ৫, শরিফুল ৭*; মাশরাফি ০/১৪, রুবেল ২/২৮, সৌম্য ০/২৭, নাজমুল ২/৪১, সানজামুল ১/৪২, মোসাদ্দেক ৩/৪১, শান্ত ০/১)

আবাহনী : ৪৮.৩ ওভার ২০৬/৫ (জাফর ৭৬, সৌম্য ৩৩, শান্ত ৪২, মিঠুন ১৫, মোসাদ্দেক ২, সাব্বির ১৩*, মুনিম ২১*; দেলোয়ার ০/২৬, শুভাগত ১/২৭, টিপু ০/৩৪, শরিফুল ৩/৪৪, শুভ ০/৪৭, আফিফ ০/১৭, সাব্বির ০/৯)

ফল : আবাহনী ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা : ওয়াসিম জাফর

 

প্রাইম ব্যাংক-শেখ জামাল

প্রাইম ব্যাংক : ৫০ ওভার ৩৪৪/৬ (এনামুল ১০১, রুবেল ০, ঈশ্বরণ ১৩৩, জাকির ০, আল আমিন ৮, আরিফুল ৬৭*, কাপালী ১৬, নাহিদুল ৮*; শহিদুল ১/৬৯, তাইজুল ১/৫৭, শাকিল ০/৭৬, জিয়া ১/৭১, শাহবাজ ০/৩১, নাসির ০/১১, তানবীর ২/২৭)

শেখ জামাল : (৩৭.১ ওভার লক্ষ্য ২৩৬) ৩৭.১ ওভারে ২০৬/৪ (ইমতিয়াজ ২৬, ফারদিন ১৭, বিশত ৯, নাসির ৭৬, সোহান ৫৪*, তানবীর ১৬*; মোহর ০/২৩, মনির ১/২৩, নাহিদুল ২/৫১, রাজ্জাক ১/৫২, আরিফু ০/২৮, কাপালী ০/২৪)

ফল : ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ২৯ রানে জয়ী ম্যাচসেরা : অভিমান্যু ঈশ্বরণ

 

মোহামেডান-লিজেন্ডস রূপগঞ্জ

মোহামেডান : ৫০ ওভার ২৯৫/৭ (অভিষেক ৬, মজিদ ১০৭, তুষার ১৯, রকিবুল ২৯, শুক্কুর ২৫, নাদিফ ৬৪, সোহাগ ১৭, ডি সিলভা ২৩*, শহীদ ৩/৭০, ধাওয়ান ১/৪৮, আসিফ ০/৪৪, মুক্তার ১/৬৭, নাবিল ০/৪৯, নাঈম ০/১৬)

লিজেন্ডস রূপগঞ্জ : ৪৯.২ ওভার ২৯৬/৬ (আজমির ৩, মোহাম্মদ নাঈম ৩৩, মুমিনুল ৫৫, শাহরিয়ার ২৫, নাঈম ৮৫, ধাওয়ান ৫১, জাকের ৩৪*, মুক্তার ১*; শফিউল ২/৬৫, সোহাগ ০/৫৫, সাকলাইন ০/৫৫, আলাউদ্দিন ১/৬০, অভিষেক ০/১৮, ডি সিলভা ০/৪১)

ফল : লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৪ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা : নাঈম ইসলাম

 

"