বাংলাদেশের-নেপাল দুঃখ

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

নেপালকে কখনোই হারাতে পারেনি বাংলাদেশ জাতীয় দল। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পাঁচবারের দেখায় চারবারই জিতেছে নেপাল। গত বছরের নভেম্বরে অলিম্পিক বাছাই পর্বের ম্যাচে এই দলটির সঙ্গে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। সেই অনুপ্রেরণা কাজে দিল না বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলের। সাফ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কাল বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নেপাল।

গতকাল শনিবার নেপালের সাপ্তাহিক ছুটি। তাই দর্শকের কমতি ছিল না বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গশালায়। স্টেডিয়ামমুখী দর্শকদের হতাশ করেননি সাবিত্রা ভান্ডারি, মঞ্জলি কুমারীরা। উপহার দিয়েছেন ৩টি গোল। সহজ জয়ে হাসলেন হিমালয় কন্যারা। নেপালের একটি গোল করেছেন সাবিত্রা ভান্ডারি, অন্যটি মঞ্জলি কুমারী। আরেকটি গোল আত্মঘাতী। টুর্নামেন্টে দুই গ্রুপ সেরা হয়েছে নেপাল; বাংলাদেশ রানার্সআপ।

গ্রুপ সেরা হতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের বিকল্প ছিল না। নেপালকে শুধু ড্র করলেই হতো। কিন্তু কীসের ড্র! বাংলাদেশ দাঁড়াতেই পারল না ম্যাচে। অতিথিদের উড়িয়ে দিয়েছেন নেপালের স্ট্রাইকার সাবিত্রা ভান্ডারি। যেমন গতিময় স্ট্রাইকার, তেমন তার পায়ের দক্ষতা। নিজে একটি দুর্দান্ত গোল করেছেন, আরেকটি গোল করিয়েছেন। সাবিত্রা ঘরোয়া ফুটবলে খেলেন নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্স ক্লাবে। ২০১৭ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে হয়েছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা নারী স্ট্রাইকার। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সাবিত্রার প্রিয় খেলোয়াড়। গোল করে উদ্?যাপনও করেছেন ‘রোনালদো স্টাইলে’। সাবিত্রাকে আটকাতেই সারাক্ষণ হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। যখনই বল নিয়ে বক্সে ঢুকেছেন সাবিত্রা, আতঙ্কে ভুগেছেন গোলরক্ষক রুপনা চাকমা। যদিও ৩ গোলের দুটিই বাংলাদেশ হজম করেছে গোলকিপার রুপনার হাস্যকর ভুলে।

বাংলাদেশের বেশির ভাগ ফুটবলার অনূর্ধ্ব-১৬ দলের। সেই হিসেবে তারুণ্যের সঙ্গে চ্যালেঞ্জটা ছিল বয়স্ক নেপালিদের। সেই চ্যালেঞ্জে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। রক্ষণভাগে আঁখি খাতুন যা একটু খেলেছেন, কিন্তু মাসুরার ভুলে বাংলাদেশ খেয়েছে প্রথম গোল। বয়স আর অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ ভালো খেলেছে শুরুর ৫ মিনিট। কিন্তু এরপর থেকে মাঝমাঠ, ফরওয়ার্ড লাইনে কেউই বল বেশিক্ষণ দখলে রাখতে পারেননি। মিস পাসও ছিল।

ম্যাচের ৫ মিনিটেই ভান্ডারির আক্রমণ। কিন্তু গোলরক্ষক রুপনাকে একা পেয়েও গোল দিতে পারেননি। বলটা শেষ পর্যন্ত ক্লিয়ার করেন শিউলি আজিম। কিন্তু পরের মিনিটে আর আটকাতে পারেননি ভান্ডারিকে। জটলায় নেওয়া ভান্ডারির শট হেডে ক্লিয়ার করতে যান মাসুরা। গোলরক্ষক লাইন ছেড়ে বেড়িয়ে আসায় বল ঢোকে জালে। ২৩ মিনিটে আবারও সাবিত্রার আক্রমণ, বল নিয়ে বক্সে ঢুকেই রুপনাকে ফাঁকি দিয়ে কোনাকুনি শটে করেন নিজের প্রথম গোল। যেটি সাবিত্রার ২৪তম আন্তর্জাতিক গোল। আর ২৭ মিনিটে সাবিত্রার ক্রসে দারুণ প্লেসিংয়ে স্কোর লাইন ৩-০ করেন মঞ্জলি। ৫৮ মিনিটে সাবিত্রার নিশ্চিত আক্রমণ গোললাইন সেভ করেন ডিফেন্ডার মাসুরা। বাকি সময়ে রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থেকেছেন আঁখিরা। অবশ্য বাংলাদেশ একটা গোল ফিরিয়ে দিতে পারত নেপালকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে সিরাত জাহান স্বপ্নার দুর্দান্ত ক্রসটা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

 

"