তিনে তিন আবাহনী

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে আবাহনী লিমিটেড। কাল মিরপুরে লিগের তৃতীয় রাউন্ডে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ১৪ রানে হারিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এ নিয়ে লিগের তিন ম্যাচেই জিতল ধানমন্ডির ক্লাবটি। আবাহনীর জয়ের দিতে সঙ্গ হয়েছে তাদের প্রতিবেশী ক্লাব শেখ জামাল। ফতুল্লায় ১০৬ রানের পুঁজি নিয়েই শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে ৯৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে ধানমন্ডির ক্লাবটি। ১২ রানের নাটকীয় ব্যবধানে জিতে আসরে প্রথমবার হাসি নিয়ে মাঠ ছেড়েছি টি-টোয়েন্টি লিগের চ্যাম্পিয়নরা। কালকের অন্য ম্যাচে সাভারে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে গুঁড়িয়ে জিতেছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। রূপগঞ্জকে ১৬৩ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ২৩৬ রান তোলে আবাহনী। রান তাড়ায় ইয়াসির খেলছেন অপরাজিত ১০৬ রানের ইনিংস। কিন্তু বিফলে গেছে তার সেঞ্চুরিটা। নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ২২২ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে ইয়াসিরের দল ব্রাদার্স। ইনিংসের শুরু থেকে ধুঁকতে থাকা আবাহনী লড়ার মতো রান পায় শেষ দিকে সাইফ ও মাশরাফির জুটিতে। ৪৫ বলে ৫৯ রান করে অপরাজিত থাকেন সাইফ, এবারের লিগে প্রথম খেলতে নেমে মাশরাফি ১৫ বলে ২৬। পরে ছোট রান আপে বোলিং করে মাশরাফি নিয়েছেন ২ উইকেট। সাইফের উইকেট ১টি।

টস জিতে বোলিংয়ে নেমে ব্রাদার্স যথেষ্ট ভুগিয়েছে আবাহনীর টপ অর্ডারকে। ওপেনার জাহিদ জাভেদ ফেরেন ১ রানে। আঙুলে চোট পেয়ে বাইরে চলে আসা জহুরুল ইসলাম আবার ব্যাটিংয়ে ফিরেও আউট হয়েছেন ১৪ রানে। আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ শ্রীলঙ্কান ওপেনার কৌশল সিলভার বদলে এই ম্যাচে আবাহনী খেলিয়েছে ওয়াসিম জাফরকে। কিন্তু অভিজ্ঞ এই ভারতীয় ব্যাটসম্যানও দলকে চাপে ফেলেছেন ২৬ বলে ৮ রান করে।

নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেন চেষ্টা করেন দলকে উদ্ধারের। মন্থর গতিতে হলেও গড়ে তোলেন জুটি। তবে দুজনের কেউই পারেননি ইনিংসকে পূর্ণতা দিতে। ৭২ বলে ৪৪ রান করে আউট হন শান্ত। পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেননি সাব্বির রহমানও। এক প্রান্তে পড়ে থাকা মোসাদ্দেক পারছিলেন না ইনিংসতে গতি দিতে। সাইফ নামার পর বাড়ে রানের গতি। ৯৫ বলে ৫৪ করে মোসাদ্দেক যখন আউট হলেন আবাহনীর ২০০ হবে কি না তা নিয়েই জেগেছিল সংশয়। লোয়ার অর্ডারে ভরসা জোগালেন সাইফ ও মাশরাফি। জ্বলে উঠলেন দুজনই। মোহাম্মদ শরীফের বিমারে ছক্কা মারেন মাশরাফি, এক বল পর চার মারেন ইনসাইড আউট শটে। মেহেদি হাসানের টানা তিন বলে বাউন্ডারি আসে সাইফের ব্যাটে। শরীফকে মাথার ওপর দিয় উড়িয়ে ইনিংস শেষ করেন সাইফ। দুজনের জুটিতে শেষ ৩২ বলে আবাহনী করে ৬২ রান।

ব্যাটিংয়ের শেষটা দারুণ করার পর বোলিংয়ের শুরুতেও জ্বলে ওঠেন এই দুজন। মাশরাফির থ্রোতে মিজানুর রহমানের আউটে ব্রাদার্স হারায় প্রথম উইকেট। পরে অভিজ্ঞ জুনায়েদ সিদ্দিককে ফেরান বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। সাইফ ফিরিয়ে দেন তিনে নামা হামিদুল ইসলামকে। নতুন বলে রুবেল হোসেনের দুর্দান্ত স্পেলও চাপে ফেলে দেয় ব্রাদার্সকে। প্রথম স্পেলে রুবেলের বোলিং ফিগার ছিল ৫-৩-২-০! ত্রয়োদশ ওভারে ৩২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর উইকেটে যান ইয়াসির। শুরু হয় লড়াই। ¯্রােতের প্রতিকূলে এগিয়ে নেন দলকে। উইকেট ধরে রাখার পাশাপাশি সুযোগ বুঝে হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারিতে। তবে লম্বা সময় ইয়াসিরকে ভরসা দিতে পারেননি কোনো সতীর্থ। তার কাজ তাই হয়ে উঠেছে কঠিন। একটির পর একটি জুটিতে সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতেই আবার হারাতে হয়েছে উইকেট। শেষ দিকে রান-বলের টানাপড়েন যখন বাড়ছে, আবারও মাশরাফি ও সাইফ করেছেন নিয়ন্ত্রিত বোলিং। ছোট রান আপে প্রথম স্পেলে লাইন-লেংথ ধরে রেখে বল করেছেন মাশরাফি। শেষ দিকে আবার দারুণ কিছু বাউন্সার ও ওয়াইড ইয়র্কারে চমকে দিয়েছেন ব্রাদার্সের ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টার পরও জয়ের মুখ দেখেছি তারা। কাল ১১২ বলে ইয়াসির ১০৬ রানের যে ইনিংসটা খেলেছেন সেটা বৃথাই গেছে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটা তিনি সাজিয়েছেন ৮টি চার দুটি ছক্কায়।

 

"