এক ম্যাচে দুই নাঈমের শতক

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

রানবন্যার একটা ম্যাচই উপহার দিল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। সেঞ্চুরি তুলে নিলেন রূপগঞ্জের দুই ব্যাটসম্যান নাঈম। একজন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম। অন্যজন উঠতি ক্রিকেটার মোহাম্মদ নাঈম। কাল দুই নাঈমের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৫৭ রানের পাহাড় গড়ে রূপগঞ্জ। জবাব দিতে নেমে সাব্বিরের সেঞ্চুরির সুবাদে হিমালয় ডিঙানোর আভাস দিয়েছিল শাইনপুকুর। শেষ অবধি রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিতে পারেনি তারা। ৩৩৪ রানে গুটিয়ে গেছে শাইনপুকুর; ২৩ রানে জিতল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

কাল ১০৮ বলে মোহাম্মদন নাইম করেছেন ১২২ রান। অভিজ্ঞ নাঈম ইসলাম ১০৮ করেছেন ৯৮ বলে। ৪৭ বলে ৪৮ রান করে আজমির আউট হওয়ার পর জুটি বাঁধেন দুই নাঈম। এই জুটিতে আসে ৯৩ রান। ৪০ বলে ফিফটি ছুঁয়েছেন মোহাম্মদ নাঈম। ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রথম শতকের স্বাদ তিনি পেয়েছেন ৮১ বলে। ইনিংসে ৮টি চার ও ৬টি ছক্কা মেরেছেন ১৯ বছর বয়সি এই তরুণ। নাঈম ইসলাম সেঞ্চুরি পেয়েছেন ৯৩তম বলে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের নবম সেঞ্চুরিতে ছিল চার ১১টি, ছক্কা দুটি। চারে নেমে ভারতীয় অলরাউন্ডার ঋশি ধাওয়ান ২৩ বলে করেন ৩২।

পর্বতসম লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করে শাইনপুকুর। ভারতীয় উদয় কাউলের সঙ্গে সাব্বিরের উদ্বোধনী জুটি ১০০ ছুঁয়ে ফেলে দল ১৩ ওভারেই। জুটিতে বেশি আগ্রাসী ছিলেন সাব্বির। ডানহাতি ওপেনার ২২ বলেই করে ফেলেন ফিফটি। ৩৫ বলে ২৯ রান করে যখন উদয় আউট হলেন, সাব্বিরের রান তখন ৭৩। তিনে নেমে অধিনায়ক আফিফ হোসেন বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তবে দলের ইনিংস গতিময় ছিল সাব্বিরের ব্যাটে। ২১ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেন ৮৬ বলে। ৮ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংসটি থেমে যায় শতক ছোঁয়ার পরের বলেই। তৌহিদ হৃদয় এরপরও চেষ্টা করে গেছেন। মিডল অর্ডারে সঙ্গ পাননি শুভাগত হোম, ধীমান ঘোষদের কাছ থেকে। ষষ্ঠ উইকেটে সোহরাওয়ার্দী শুভর সঙ্গে হৃদয়ের জুটিতে আবার ম্যাচে ফেরে উত্তেজনা। ৬৩ বলে দুজন যোগ করেন ৮০ রান। ২৮ বলে ৩৪ করে আউট হন শুভ। শেষ ৬ ওভারে শাইনপুকুরের প্রয়োজন ছিল ৭২ রান। কিন্তু ৮১ বলে ৮৩ করে হৃদয় আউট হয়ে গেলে শেষ হয়ে যায় তাদের সম্ভাবনা। শেষ দিকে সুজন হাওলাদারের ১০ বলে ২২ রানের ইনিংসে কমে হারের ব্যবধান।

কাল মিরিপুরে ঢাকা লিগের অন্য ম্যাচে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন শেষ জামালকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ফতুল্লায় নবাগত উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবকে ১৮৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড। আবাহনীর ২৮৫ রানের জবাব দিতে নেমে ৯৬ রানে গুটিয়ে গেছে উত্তরা।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আবাহনী-উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব

আবাহনী : ৫০ ওভার, ২৮৫/৬ (জহুরুল ৪৫, শান্ত ৮৩, মোসাদ্দেক ৬৪, সাব্বির ৬১*; নাহিদ ৩/৭০, রশিদ ১/৩৬, মোহাইমিনুল ১/৩৭)

উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব : ৩৩ ওভার, ৯৬ (আনিসুল ১৬, মোহাইমিনুল ১৬, রাজা ১৫, শাকির ২৪, রশিদ ১২*; রুবেল ৩/১৬, নাজমুল ১/১৯, আরিফুল ২/১৪, সানজামুল ১/১৮, সাব্বির ২/৪)

ফল : আবাহনী ১৮৯ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা : সাব্বির রহমান

 

লিজেন্ডস রূপগঞ্জ-শাইনপুকুর

রূপগঞ্জ : ৫০ ওভার, ৩৫৭/৭ (আজমির ৪৮, মোহাম্মদ নাঈম ১২২, নাঈম ইসলাম ১০৮, থাওয়ান ৩২; সুজন ২/৭৫, দেলোয়ার ২/৬৭, হামিদুল ২/৪৫, সাব্বির ১/৩৭)

শাইনপুকুর : ৪৯ ওভারে ৩৩৪ (উদয় ২৯, সাব্বির ১০০, হৃদয় ৮৩, শুভ ৩৪; শহিদ ১/৮৬, নাবিল ৩/৫১, ধাওয়ান ১/৬৬, আসিফ হাসান ২/৬৬, মুক্তার ১/৫৯)।

ফল : রূপগঞ্জ ২৩ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা : মোহাম্মদ নাঈম

 

শেখ জামাল-ব্রাদার্স ইউনিয়ন

শেখ জামাল : ৪৭.৫ ওভার, ১৮০ (রাকিন ৩৪, তানবীর ৩২, সানি ৪২; শরীফ ২/৩৫, মেহেদি ৩/২৫, শরিফউল্লাহ ১/৪১,

শাখাওয়াত ৩/৩৫)

ব্রাদার্স ইউনিয়ন : ৩৬.৫ ওভার, ১৮৩/৩ (মিজানুর ৭১, জনি ৫০*, ইয়াসির ৩২*; শহিদুল ২/৩০, তানবীন ১/৫১)

ফল : ব্রাদার্স ইউনিয়ন

৭ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা : মিজানুর রহমান

 

"