ইনিংস হার এড়ানোর চ্যালেঞ্জ

টেলরের ডাবল সেঞ্চুরি

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রথম দুদিন খেয়ে নিয়েছে বৃষ্টি। ওয়েলিংটনের আকাশের কান্না থেমেছে। টস হয়েছে, বল গড়িয়েছে মাঠে। পাঁচ দিনের টেস্টের দৈর্ঘ্য নেমে এসেছে তিন দিনে। তবু হার ঠেকাতে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। কাল দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন টাইগাররা শেষ করেছে ৩ উইকেটে ৮০ রানে। নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এখনো ১৪১ রানে পিছিয়ে। ইনিংস হার এড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের জন্য। এই টেস্ট বাঁচাতে আজ পঞ্চম ও শেষ দিনের পুরোটা সময় কাটিয়ে দিতে হবে সফরকারীদের। এ জন্য পুঁজি হিসেবে বাংলাদেশ পাচ্ছে ৭ উইকেট।

প্রথম টেস্টে রানোৎসবে মেতেছিল নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের বোলারদের সবটুকু শুষে নিয়ে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছে কিউইরা। দুই ইনিংস মিলিয়ে তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সৌম্য সরকারের সেঞ্চুরির পরও বিব্রতকর হার এড়াতে পারেনি টাইগাররা। হ্যামিল্টনের পর বেসিন রিজার্ভেও ইনিংস হার চোখ রাঙাচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। নিউজিল্যান্ডের সুইং ও বাউন্সার ভালোই পরীক্ষা নিচ্ছে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের। মাহমুদউল্লাহদের হোয়াইটওয়াশ করতে নিউজিল্যান্ডের দরকার সাতটি উইকেট।

ধবলধোলাই থেকে বাংলাদেশ বাঁচিয়ে দিতে পারে বৃষ্টি। টাইগাররা হয়তো খুব করেই চাইছে পঞ্চম ও শেষ দিনেও যেন বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে আসে তাদের জন্য। না হলে সবুজ-স্যাঁতসেঁতে উইকেটে লড়াই করতে বেশ বেগ পেতে হবে মাহমুদউল্লাহদের। দ্বিতীয়বার ব্যাটিং করতে নেমে কিউই পেসারদের সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে টাইগাররা। ২২১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা। ২২ রানে ২ এবং ৫৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে তারা। দারুণ ছন্দে থাকা তামিম কাল আউট হয়ে গেছেন মাত্র ৪ রানে। তার সঙ্গী সাদমান ইসলাম করেছেন ২৯ রান। নিজের ছায়া হয়ে থাকলেন দলের বিশেষজ্ঞ টেস্ট ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকও। ফিরতিবার ব্যাটিংয়ে এসে দুই অঙ্ক ছুঁয়েই বিদায় নিয়েছেন তিনি।

আশার প্রদীপ হয়ে চতুর্থ দিন শেষে টিকে থাকলেন মোহাম্মদ মিঠুন ও সৌম্য সরকার। দুজনই ব্যাট করছেন আদর্শ টেস্ট মেজাজে। ২৫ রানে অজেয় আছেন মিঠুন। ১২ রানে অপরাজিত থেকে শেষ দিনের খেলা শুরু করবেন সৌম্য। ইনিংস হার ঠেকানোর প্রাথমিক লড়াইয়ে শুরুর প্রতিরোধটা এ দুজনকেই করতে হবে। যেটা করার কথা ছিল তামিম ও সাদমানকে ট্রেন্ট বোল্টের ভেতরে ঢোকা বলটা রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে স্টাম্প আগলে রাখতে পারেননি তামিম; হয়েছেন বোল্ড। একটু পরে বোল্টের বলেই তৃতীয় সিøপে টিম সাউদির ক্যাচ ফিরে গেছেন মুমিনুল। সাদমান কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও টিকতে পারেননি। কাঁধ বরাবর আসা ম্যাট হেনরির বাউন্সারটা পুল করতে দিয়ে উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিংয়ের গ্লাভসে পরিণত হয়েছেন তরুণ এই ওপেনার।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেখানে টিকে থাকতে সংগ্রাম করেছেন, সেখানে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা কী স্বচ্ছন্দে রান তুলেছেন। যদিও প্রথম ইনিংসে তাদের শুরুটা ছিল না। ৮ রানের মধ্যে দুই উইকেট তুলে নিয়ে কিউইদের চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। সেটা অবশ্য দীর্ঘায়িত করতে পারেনি টাইগারররা। রস টেলর ও কেন উইলিয়ামসনের তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রাথমিক ধাক্কাটা ভালোভাবেই সামলে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। এ দুজন মিলে যোগ করেছেন ১৭২ রান। তাইজুল ইসলামের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে উইলিয়ামসন ৭৪ রানে ফিরলেও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেন টেলর। তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন তো বটেই, তুলে নিয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরি!

অথচ এই টেলরকে ২০ রানেই বিদায় করতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু আবু জায়েদ রাহির করা ১৫তম ওভারে দুবার সুযোগ দিয়ে বেঁচেছেন ‘লোকাল হিরো’। দুবার ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া টেলর চতুর্থ উইকেটে হেনরি নিকলসকে নিয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে করেছেন ২১৬ রান। এই জুটি গড়ার পথে সেঞ্চুরি করেছেন নিকোলসও। তাকে ফিরিয়েছেন তাইজুল। ২৩ রানে অজেয় ছিলেন কলিন ডি গ্রান্ডহোম। তবে ওয়াটলিং আউট হতেই বাংলাদেশের কাঁধে ৬ উইকেটে ৪৩২ রানের বোঝা চাপিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড।

 

"