টস হলো জমল লড়াই

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

ওয়েলিংটনের আকাশ ভালোই কেঁদেছে। দুই দিনের বর্ষণে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় টেস্ট ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ম্যাচটা মাঠে গড়াবে কি না তা নিয়েই জেগেছিল সংশয়। সব উৎকণ্ঠা ছাপিয়ে কাল ঠিক টস হলো; বল গড়াল মাঠে। যে টেস্ট নিয়ে এত আলোচনা সেটা জমে ওঠল শুরুতেই। তৃতীয় দিন শুরু হওয়া টেস্টের প্রথম ইনিংসে তামিম ইকবালের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ২১১ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। হঠাৎ ধসে পড়ার ধকল কিছুটা হলেও বল হাতে পুষিয়ে নিয়েছে টাইগাররা। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে ৩৪ রানে নিউজিল্যান্ডের ২ উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই বৃষ্টিভেজা টেস্টে আপাতত টাইগারদেরই এগিয়ে রাখতে হচ্ছে।

ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দিন থেকেই পিছু নিয়েছে বৃষ্টি। প্রথম দুই দিন ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বেরসিক বৃষ্টি। তৃতীয় দিনের শুরুতে ওয়েলিংটনের আকাশ না থাকলেও শেষ বিকেলে চেনা দৃশ্য। নিউজিল্যান্ডকে ইনিংসের শুরুতেই চেপে ধরেছিলেন বাংলাদেশের দুই পেসার আবু জায়েদ রাহি ও ইবাদত হোসেন। কিন্তু কিউইদের বাঁচিয়ে দিয়েছে বৃষ্টি। টাইগার পেসারদের ছন্দে বাঁধ সেধেছে ক্রিকেটের আজন্ম শত্রু। শেষ সেশনের ২৫.২ ওভার বাকি থাকতে দিনের খেলা বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হন আম্পায়াররা।

টসটা জেতা জরুরি ছিল। কিন্তু দিনের প্রথম লড়াইয়ে হেরেছে টাইগাররা। মুদ্রা নিক্ষেপের লড়াইয়ে জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ব্যাট তুলে দেন স্বাগতিক দলপতি কেন উইলিয়ামসন। ব্যাট হাতে হ্যামিল্টনে প্রথম ইনিংসের ভাগ্য পাল্টাতে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুটা ভালোই হয়েছিল টাইগারদের। হ্যামিল্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসের সঙ্গে ওয়েলিংটনের প্রথম ইনিংসেও মিল রেখে ব্যাট করেছে বাংলাদেশ দল। ওপেনিং জুটি ৭৫ রান ওঠার পরও বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ২০০ ছাড়ানোর পরপরই।

প্রথম দুই দিন বৃষ্টির মধ্যে উইকেট ঢেকে রাখায় তা কিছুটা নরম হবে এবং বোলারদের সাহায্য করবে এমনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সকালের সেশনে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাদমানের ব্যাটিং দেখে তা বোঝা যায়নি। ২১তম ওভার পর্যন্ত টিকেছে তাদের জুটি। সাদমান বরাবরের মতো কালও ভালো শুরু পেয়েও উইকেট কামড়ে পড়ে থাকতে পারেননি। ২৭ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন প্রথম সিøপে। মধ্যাহ্ন ভোজের আগে নিল ওয়াগনারের হাতে বল তুলে দেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক উইলিয়ামস। এরপর থেকেই বিপর্যয় শুরু বাংলাদেশের।

হ্যামিল্টন টেস্টে শর্ট বল অস্ত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ধরাশায়ী করেছিলেন ওয়াগনার। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে ট্রেন্ট বোল্টও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ওয়েলিংটনে শর্ট বলের পরিমাণ আরো বাড়বে। ওয়াগনার বোলিংয়ে এসেই তা সত্য প্রমাণ করতে শুরু করেন। আর বাংলাদেশের টপঅর্ডার বরাবরের মতোই ওয়াগনারের এই চেষ্টায় সাহায্য করেছেন। দেশের বাইরে কখনো সেভাবে জ্বলে ওঠতে না পারা মুমিনুল হক এবারও ব্যর্থ হলেন। ব্যক্তিগত ১৫ রানে ওয়াগনারের শর্ট অব লেংথের বল সামলাতে না পেরে হয়েছেন আউট। নিজের পরের ওভারে এই কিউই পেসার মোহাম্মদ মিঠুনকেও (৩) তুলে নেন সেই শর্ট বলেই। এই দুই ব্যাটসম্যানের কেউই শর্ট বল সামলাতে পারেননি। মুমিনুল ছাড়তে গিয়ে আর মিঠুন পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন। ১ উইকেটে ১১৯ রান তোলা বাংলাদেশ সহসাই ৩ উইকেটে ১২৭ রানে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

মধ্যাহ্নভোজ শেষে দ্বিতীয় সেশনেও পাল্টায়নি দৃশ্যটা। শর্ট বলে উইকেটের পতন আরকি। দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরুর দ্বিতীয় ওভারে ওয়াগনারের বাউন্সার পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে ফেলেন তামিম। স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে করেছেন দলের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭৪। এই নিয়ে টানা তিন ইনিংসে (১২৬, ৭৪, ৭৪) রান পেলেন তামিম। তবে শেষ দুটি ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপ থাকবে এই ওপেনারের।

দ্বিতীয় সেশনে খেলা হয়েছে ২৬ ওভার। এই সেশনে ৮৪ রান তোলার বিনিময়ে বাকি ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। যে দল ১ উইকেটে ১১৯ রান তুলেছিল তারাই ৪৯ রান তুলতে পরের ৫টি উইকেট হারায়। অর্থাৎ ১৬৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট পরেছে বাংলাদেশের। ওয়াগনার বাউন্সার দিয়ে টপঅর্ডার ও মিডলঅর্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর শেষটা টেনেছেন বোল্ট। ৫৯তম ওভারে ৩ বলের ব্যবধানে তাইজুল ও মুস্তাফিজুর রহমানকে তুলে নেওয়ার পরের ওভারে এসে আবু জায়েদকে ফিরিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ শেষ ৪ উইকেটে হারিয়েছে মাত্র ৬ রানে। তবে আসল ক্ষতি যা করার করেছেন সেই ওয়াগনারই। ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে টপঅর্ডার ও মিডলঅর্ডারে ধাক্কা দেন তিনি। তিনটি শিকার বোল্টের। বাকি ৩ উইকেটের মালিক কিউইদের তিন পেসার।

 

"