শুরুতেই উত্তরার চমক

জয়ে শুরু চ্যাম্পিয়নদের

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জয় দিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করেছে আবাহনী লিমিটেড। কাল বিকেএসপিকে ৬০ রানের হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। লিগের উদ্বোধনী দিনে আবাহনীর জয়টা প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু চমক দেখিয়েছে প্রথম বিভাগে ওঠে আসা উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথম ম্যাচেই শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে শিকারে পরিণত করেছে তারা। উত্তরা জিতেছে ৯ রানে। অন্য ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৩ উইকেটের নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

আবাহনীকে শুরুতে অবশ্য চেপে ধরেছিল ৯ অভিষিক্ত ক্রিকেটার নিয়ে মাঠে নামা বিকেএসপি। পরে চ্যাম্পিয়নদের উদ্ধার করেন জহুরুল ইসলাম। ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে জয়ের নায়ক হয়ে থাকলেন তিনি। লিগের নতুন আসরের প্রথম সেঞ্চুরিটা দেখিয়েছে জহুরুলের ব্যাট। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলে ১২১ রানে অজেয় ছিলেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ার এটা জহুরুলের তৃতীয় শতক। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে আবাহনী তোলে ৯ উইকেটে ২১৬ রান। জবাব দিতে নেমে ৫৫ বল বাকি থাকতে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায় আবাহনী।

আবাহনীর ইনিংসে জহুরুল ছাড়া মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন করেন ৫৫ রান। মোসাদ্দেক হোসেন ১৩। বিকেএসপির দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়নদের বাকি ৮ ব্যাটসম্যানের কেউ যেতে পারেনি দশকের ঘরে। ব্যাটসম্যানদের সাজঘরে আসা-যাওয়ার মিছিলে সাইফ ও জহুরুলের পঞ্চম উইকেটে ১১২ রানের জুটিই মূলত পথ দেখিয়েছে আবাহনীকে। জুটি ভাঙতেই ফের মড়ক লাগে তাদের। ১৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৪৭ বলে ১২১ রানে অপরাজিত ছিলেন জহুরুল।

মাঝারি রানের লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাট করতে নামা বিকেএসপির জন্য কাজটা কঠিন হয়ে ওঠে ব্যাটিং দুরূহ উইকেট ও আবাহনীর শক্তিশালী বোলিংয়ের কারণে। মূলত অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দল পারেনি সেই চ্যালেঞ্জর জবাব দিতে। শুরুতে সাইফ ও রুবেল হোসেনের আগ্রাসী বোলিং চাপে ফেলে দেয় তরুণ ব্যাটসম্যানদের। পরে একের পর এক উইকেট নিয়েছেন আবাহনীর স্পিনাররা। ওপেনিংয়ে রাতুল খান ৩৭ রান করতে বল খেলেছেন ৭৫টি। সাতে নেমে দলের সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩৮ করেছেন অধিনায়ক আবদুল কাইয়ুম। সেভাবে জয়ের সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি বিকেএসপি। তবে বল হাতে আবাহনী ব্যাটসম্যানদের ভালোই পরীক্ষা নিয়েছে বিকেএসপি।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব-শেখ জামাল

উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব : ৫০ ওভার ২৪৯/৪ (তানজিদ ৬৪, আনিসুল ৪৭, সজীব ৬১*, রাজা ১৮, মিনহাজ ৩৮, মোহাইমিনুল ১৪*; শকিল ১/৪৪, শহিদুল ১/৪৭, নাসির ০/৩১, আফ্রিদি ০/৫৪, সানি ০/৫০, তানবীর ২/২২)

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব : ৫০ ওভার ২৪০/৯ (ইমতিয়াজ ৮, ফারদিন ৩৯, রাকিন ১১, নাসির ৪৮, সোহান ৬৫, তানবীর ১, জিয়া ২৭, সানি ২৮, শহিদুল ৬, শাকিল ১*, আফ্রিদি ০*; নাহিদ ২/৫০, রশিদ ৩/৪৪, সাজ্জাদ ০/৪৭, মোহাইমিনুল ০/৮, পায়েল ৩/৬৫, রাজা ১/২৪)

ফল : উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব ৯ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা : আবদুর রশিদ

 

ব্রাদার্স ইউনিয়ন-লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ

ব্রাদার্স ইউনিয়ন : ৫০ ওভার ২২০/৮ (মিজানুর ১, জুনায়েদ ১৫, মাহমুদ ৩৪, হামিদুল ১৬, ইয়াসির ৬৫, জানি ৪, শরিফউল্লাহ ৩৫, শরীফ ২৪*, হাবিবুর ২০, মেহেদি ৩*; শহীদ ১/৩৭, ধাওয়ান ১/৬০, মুক্তার ২/৩৮, আসিফ ১/৪১, নাবিল ২/৪১)

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ : ৪৯.৫ ওভার ২২১/৭ (আজমির ৩৮, মোহাম্মদ নাঈম ২১, শাহরিয়ার ৫৯, নাঈম ১, আসিফ ৩৮, ধাওয়ান ২২, জাকের ১৭, মুক্তার ১১*, শহীদ ৩*; হাবিবুর ০/৩২, মেহেদি ০/৩১, জানি ৩/৬৪, শরীফ ২/৩৫, শরিফউল্লাহ ১/২৭, নাঈম জুনিয়র ১/৩২)

ফল : লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৩ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা : শাহরিয়ার নাফীস

 

আবাহনী লিমিটেড-বিকেএসপি

আবাহনী : ৫০ ওভার ২১৬/৯ (জহুরুল ১২১*, কৌশল সিলভা ৭, মোসাদ্দেক ১৩, সাব্বির ২, সাইফ ৫৫, জাভেদ ৯, সানজামুল ১, রুবেল ৪, অপু ০*, সুমন ১/৪৯, নাসের ৩/৪৯, কাইয়ুম ০/৩৪, মুরাদ ২/৫৪, নওশাদ ১/২৯, শামিম ০/১০)।

বিকেএসপি : ৪০.৫ ওভার ১৫৬ (রাতুল ৩৭, পারভেজ ৫, মাহমুদুল ৪, আমিনুল ৮, আকবর ৩, শামিম ১৮, কাইয়ুম ৩৮*, নওশাদ ৩, সুমন ১০, মুরাদ ১, নাসের ১২; সাইফ ১/১২, রুবেল ১/২০, মোসাদ্দেক ১/২৮, আরিফুল ১/১৭, অপু ৩/৩০, সানজামুল ২/৪১, সাব্বির ১/৩)।

ফল : আবাহনী লিমিটেড ৬০ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা : জহুরুল ইসলাম

 

"