জবাবটা মাঠেই দিলেন ডি মারিয়া

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক
ama ami

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বের আগে টমাস টুখেলের কপালের ভাঁজটা বেশ চড়াও মনে হচ্ছিল। কারণটা আক্রমণভাগের দুই সারথি নেইমার ও এডিনসন কাভানির চোট। এ দুজনকে ছাড়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে প্রথম লেগে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) কেমন করে সেটাই দেখার ছিল।

নেইমার-কাভানিবিহীন পিএসজিও দেখিয়ে দিল। প্রথম ফরাসি ক্লাব হিসেবে ওল্ড ট্রাফোর্ড জয় করে ইতিহাস গড়ল টুখেলের দল। অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, কিলিয়ান এমবাপ্পেরা বুঝতেই দিলেন না লাতিন আমেরিকার দুই তারকার শূন্যতা। পরশু তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ইউনাইটেডকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে পিএসজি। দারুণ এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেল প্যারিসের ক্লাবটি। আগামী ৬ মার্চ পার্ক ডু প্রিন্সেসে ফিরতি লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

টানা ১১ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকা ইউনাইটেডকে মাটিতে নামানোর পিএসজির একক নায়ক কেউ নন। ডি মারিয়া, এমবাপ্পে, ড্যানি আলভেজদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে অগ্নিপরীক্ষায় অনায়েসেই উতরে গেছে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নরা। তবে সব ছাপিয়ে পাদ প্রদীপে থাকলেন শুধুই ডি মারিয়া। সেটা অবশ্য কোনো গোল করতে পারার জন্য নয়, ৬০ মিনিটে এমবাপ্পের গোলের উৎস হওয়ার কারণেও নয়।

আর্জেন্টাইন উইঙ্গার যে ম্যাচটা খেলেছেন সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে! স্বাভাবিকভাবেই ওল্ড ট্রাফোর্ডের স্বাগতিক সমর্থকরা ভালোভাবে বরণ করে নেননি। তাই বলে ভর্ৎসনা জুটবে ডি মারিয়ার ভাগ্যে! পানি-বিয়ারের বোতল ছোড়ে, গলা ফাটিয়ে পিএসজি উইঙ্গারকে দুয়ো দিয়েছেন ইউনাইটেড ভক্তরা। কারণ রেড ডেভিলসদের সঙ্গে ডি মারিয়ার সম্পর্কের শেষটা হয়েছিল খুব বাজেভাবে।

সেই ক্ষোভটা যেমন গ্যালারিতে ঝেরেছেন সমর্থকরা, জবাবটা ডি মারিয়া দিয়েছেন মাঠে। এদিন প্রাক্তন ক্লাবের বিরুদ্ধে দুর্দান্তই খেললেন আর্জেন্টাইন উইঙ্গার। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে জ্বলে উঠেছেন ডি মারিয়া। দলের দুটো গোলেরই কারিগর তিনি। ৫৩ মিনিটে ডিফেন্ডার প্রেসনেল কিমপেমবে দারুণ যে গোলটা করেছেন, সেটা হয়েছে ডি মারিয়ার পাস থেকে। সাত মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান এমবাপ্পে। এবারও গোলের রূপকার ডি মারিয়া।

সতীর্থকে দিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করানোর পরই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলেন ডি মারিয়া। তার উদ্যাপনে মিশে থাকল ক্ষোভের বিস্ফোরণ। দুই গোলে পিছিয়ে পড়া ওলে গানার সুলশারের দল আর ফিরতে পারেনি। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে পল পগবা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখায় দশজনের দল নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউনাইটেড। ইউরোপের মঞ্চে অভিষেকটা এর চেয়ে বাজে হতো পারত না কোচ সুলশারের। পরশু রীতিমতো বাজি ধরেছিলেন পিএসজি কোচ টুখেল। আক্রমণের ডান প্রান্তে তিনি মাঠে নামান আলভেজকে! উইঙ্গার ভূমিকায় দুর্দান্ত খেলেছেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার।

পিএসজির জয়ের রাতে সঙ্গী হয়েছে এএস রোমা। পরশু শেষ ষোলোর প্রথম লেগের অন্য ম্যাচে পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইতালিয়ান ক্লাবটি। পোর্তর আশা এখন দ্বিতীয় লিগ। ওই ম্যাচটা যে তাদেরই মাঠে। সঙ্গে একটি অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা তো আছেই।

"