স্বপ্নের মঞ্চে তামিমের শতক

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ama ami

আন্দ্রে রাসেলকে স্কয়ার লেগ দিয়ে সীমানা দড়ি ছাড়া করলেন তামিম ইকবাল। নন স্ট্র্রাইকিং প্রান্তে গিয়ে দেশসেরা ওপেনার যে উদ্যাপনটা করলেন, সেটা অনেক দিন মনে থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। চোখেমুখে তৃপ্তির ছাপ। ভেতরে ভেতরে যে একটা ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন সেটা তার আগ্রাসী উদ্যাপনেই বোঝা গেছে। তৎক্ষণাৎ তামিমের ক্ষোভের নেপথ্য কারণ জানা যায়নি, তবে ব্যাট হাতে যেভাবে বিস্ফোরণ ঘটালেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ওপেনার, সেটা বিপিএলের ফাইনালের দর্শকদের চোখে ভালোই প্রশান্তি এনে দিয়েছে।

আগের পাঁচ আসরের একটিতেও ফাইনাল খেলার সৌভাগ্য হয়নি তামিমের। কাল ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে বিপিএল ক্যারিয়ারের প্রথম শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তামিম যে এমন একটা টর্নেডো ইনিংস খেলবেন, সেটা ছিল কল্পনারও বাইরে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে সাকিব-রাসেলদের করলেন কচুকাটা। শেষ পর্যন্ত ৬১ বলে ১৪১ রানের হার না মানা বিস্ফোরক ইনিংস খেলে বিপিএলের ফাইনাল মাতালেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ওপেনার।

বিপিএলের ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলা ক্রিস গেইলের রেকর্ডটা তো রীতিমতো নড়বড়ে হয়ে উঠেছিল। ৫০ বলে তামিম ছুঁয়েছেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। সেঞ্চুরি করার পর তামিম যেভাবে রাসেল-সাকিবদের পেটালেন, সেটার বিশেষণ খুঁজতে গেলে শব্দের অভিধানেও টান পড়তে পারে। চার-ছক্কার বৃষ্টি ঝরিয়ে ইনিংসজুড়ে গ্যালারি মাতিয়ে রাখলেন তামিম। অবিশ্বাস্য ইনিংসে তামিম ছক্কা হাঁকিয়েছেন ১১টি। চারের সংখ্যা ১০টি।

ফাইনালের আগে এবারের বিপিএলে পাঁচটি সেঞ্চুরি দেখেছিলেন দর্শকরা। পাঁচটি শতকের মালিক অবশ্য বাংলাদেশিদের একজনও নন। তামিম যেন সেই হাহাকার দূর করার জন্য ফাইনালকেই বেছে নিলেন। তামিমের বিস্ফোরক ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান করেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দলের অর্ধেক কাজটা প্রায় একাই করে দিয়েছেন তামিম। ঢাকা ডায়নামাইটসের কাঁধে কুমিল্লা যেভাবে রানের পাহাড় চাপিয়ে দিয়েছে, তাতে করে তামিমের পিঠ চাপড়ে দেওয়াই যায়।

অথচ এমন অবিশ্বাস্য ইনিংসটা তামিম খেলেছেন চাপের মুখে। শুরুতেই যে সঙ্গী এভিন লুইসকে হারিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। এলবিডব্লিউর রিভিউ চেয়েও শেষ রক্ষা হয়নি ক্যারিবিয়ান ওপেনারের। ধাক্কাটা এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে সামলে নিয়েছেন তামিম। উইকেট আগলে রাখার দায়িত্বটা পড়েছে বিজয়ের কাঁধে। আর রানের চাকার গতি ত্বরান্বিত করার মুখ্য কাজটা করলেন দেশসেরা ওপেনার। বাঁ-হাতি ড্যাশিং ওপেনার এক প্রান্ত আগলে রেখে তুললেন ঝড়; চার-ছক্কার বৃষ্টিতে মাতলেন মিরপুরের দর্শকরা।

৯৮ রানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরে যান বিজয়। ফেরার আগে ৩০ বলে ২৪ রানের ম্যাড়মেড়ে ইনিংস খেলেছেন তিনি। দলের অধিনায়ক ইমরুল কায়েসও ব্যাটিং করলেন টি-টোয়েন্টি ধারার বিপরীতে। ২১ বলে ১৭ রানে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেন বাঁ-হাতি এ ব্যাটসম্যান। ইমরুল-বিজয় এ রকম ধীরগতির ব্যাটিং না করলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের সংগ্রহটা আরো বড় হতে পারত। সেই আফসোস অবশ্য ঘুচে গেছে তামিমের ব্যাটে।

১০০ ছোঁয়ার আগে তিন উইকেট শেষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের। প্রথম বল খেলেই রান আউট হয়ে গোল্ডেন ডাক নিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন শামসুর রহমান শুভ। তামিমের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে ফাইনালে শূন্য রানে ফিরতে হলো তাকে। ইনিংসের মাঝপথে জোড়া ধাক্কার পরও থমকে যাননি তিনি। ইনিংসের আগা-গোড়া একই মেজাজে ব্যাটিং করেছেন। তাতে রীতিমতো বিস্ময় ভর করছিল দর্শকদের মধ্যে। টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেকে হারিয়ে খোঁজা তামিম যে স্বপ্নের মঞ্চটা এভাবে রাঙিয়ে তুলবেন সেটা হয়তো ভাবার লোক খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর ছিল।

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটা তামিমের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছিলেন দেশসেরা ওপেনার। তবে এবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন তামিম। বিপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনিই এখন এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের মালিক। অবশ্য এ সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে আরো দুবার শতকের আভাস দিয়েও পারেননি তামিম। দুটি ম্যাচেই অবশ্য হাফসেঞ্চুরি করে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাকে।

 

"