আজ বিপিএলের ফাইনাল

ঢাকার চার নাকি কুমিল্লার দুই

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রস্তুত লড়াইয়ের মঞ্চ। প্রস্তুত প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল ঢাকা ডায়নামাইটস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন ভক্ত-সমর্থকরা। তাদের অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার। আজ সন্ধ্যায় যে বিপিএলের ফাইনাল! প্রায় মাস খানেকের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার লড়াই শেষে টুর্নামেন্ট দাঁড়িয়ে এখন একটা ম্যাচের ওপর। জিতলেই স্বপ্নপূরণ; হবে রাজত্ব উদ্ধার। হারলে শিরোপার জন্য অপেক্ষা বাড়বে অন্তত আরো এক বছর।

বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তিনবার চ্যাম্পিয়ন ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি (ঢাকা ডায়নামাইটস ও ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স)। একবার করে শিরোপা স্বাদ পেয়েছে রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। ব্যক্তিগতভাবে হিসাব করলে মাত্র দুজন অধিনায়কই হাতে তুলতে পেরেছেন স্বপ্নের শিরোপা। একবার ট্রফি স্বাদ নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। তবে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সর্বোচ্চ চারবার দলকে শিরোপা জিতিয়েছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলপতি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস প্রথম ও শেষবার যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেটা মাশরাফির নেতৃত্বের ওপর দাঁড়িয়ে।

সময়ের বিবর্তনে দুই মৌসুম ধরে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক। গত আসরে সাকিবের ঢাকাকে কাঁদিয়ে রংপুর রাইডার্সের স্বপ্নপূরণ করেছিলেন মাশরাফি। সেই হারের মধুর একটা প্রতিশোধই এবার নিল ঢাকা ডায়নামাইটস। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে সাকিবের দল। মাশরাফির দল প্রথম কোয়ালিফায়ারও ম্যাচও হেলেছিল। সেটা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে। অন্যদিকে প্লে-অফ ম্যাচে দুটিতে জিতেই হারানো শিরোপা উদ্ধারের শেষ প্রান্তে চলে এসেছে ঢাকা ডায়নামাইটস।

ঢাকা জিতলে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি হাতে তুলবেন। তবে কুমিল্লা চ্যাম্পিয়ন হলে সেটা ইমরুল কায়েসের জন্য হবে বিশেষ কিছু। বিপিএলের ট্রফি ওঠবে তৃতীয় কোনো অধিনায়কের হাতে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছে ভিক্টোরিয়ানস শিবির। কাগজে-কলমে এবারের আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল তারাই। এই দলে শুরুর দিকে খেলে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাসিত ক্রিকেটার স্টিভেন স্মিথ। চোটের কারণে শুরুতেই আসর থেকে ছিটকে গেছেন তিনি।

পরে স্মিথের পরিবর্তিত হিসেবে ইমরুলের কাঁধে পড়ে নেতৃত্বের জোয়াল। অধিনায়ক হিসেবে ভালোভাবেই দলকে পথ দেখিয়েছেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান। তাই আজকের লড়াই সাকিবের সঙ্গে ইমরুলের নেতৃত্বেরও। দুই দলের বিদেশি ক্রিকেটারদের খন্ড খন্ড লড়াইগুলো গড়ে দিতে পারে এবারের বিপিএলের শিরোপা ভাগ্য। দুই দলের বোলিং বিভাগ দারুণ ছন্দে আছে। মিডল অর্ডারেও তাদের পর্যাপ্ত ফিনিশার আছে। ফর্মে আছে দুই দলই। অপেক্ষা এখন জমজমাট এক ফাইনালের। গত বছর ফাইনালটা অবশ্য একতরফা বানিয়ে দিয়েছিলেন রংপুর রাইডার্সের বাঁ-হাতি ওপেনার ক্রিস গেইল। করেছিলেন বিস্ফোরক এক সেঞ্চুরি। সেই তিনিই এবার পুরো আসরে খেললেন নিজের ছায়া হয়ে। অবশ্য গেইল না থাকলেও আজকের ফাইনালে আছে ক্যারিবীয় তারকারা। ঝড় উঠতে পারে তাদের ব্যাটেও।

মাঠে ভেতরে ২২ জনের লড়াই। এর বাইরেও আছে অন্য লড়াই। দুই দলের দুই বিদেশি কোচের লড়াই। বিদেশি কোচদের ভিড়ে এবারের বিপিএলে দলকে ফাইনালে উঠিয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও খালেদ মাহমুদ সুজন। প্রথমজন কুমিল্লার পরের জন ঢাকা ডায়নামাইটসের কোচ হিসেবে দায়িত্বে আছেন। দুই কোচই একবার করে বিপিএল শিরোপার স্বাদ পেয়েছেন। তাদের ওপর আস্থা রেখেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি দুটি। তাতে মøান হয়ে গেছেন নামি-দামি বিদেশি কোচ টম মুডি, ওয়াকার ইউনিস, মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো কোচরা।

নিজেদের এই সাফল্যে খুশি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস কোচ সালাহউদ্দিন। তার আশা সামনের আসরগুলোতে দেশি কোচরা বেশি বেশি সুযোগ পাবে। কাল ফাইনালের আগে তিনি বলেছেন, ‘আমি খুবই খুশি যে দুজন দেশি কোচের দল ফাইনাল খেলছে। আমি আশা করি, দেশের কোচদের অনেক লাভ হবে এতে। প্রথমবার যেভাবে শুরু হয়েছিল, এরপর আস্তে আস্তে দেশি কোচরা হারিয়ে যাচ্ছিল প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে। এমনকি সহকারী কোচ যারা ছিল, তাদেরও কাজের পরিধি কমে যাচ্ছিল। এবার যেহেতু আমরা দুই ফাইনালিস্ট দেশি, ফ্র্যাঞ্চাইজিরা হয়তো পরবর্তীতে চিন্তা করবে আমাদের দেশি কোচদের আরেকটু সুযোগ দেওয়া উচিত।’

"