শুরুর আগেই শেষ বোল্টের ফুটবল ক্যারিয়ার

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক
ama ami

ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে যখন নামতেন, তখন প্রতিদ্বন্দ্বীরা আগেই ধরে নিতেন যে, উসাইন বোল্টই চ্যাম্পিয়ন হবেন। ১০০ মিটার, ২০০ মিটার বলেন বা ৪০০ মিটারের রিলে; সব জায়গায় ছিল জ্যামাইকান স্প্রিন্টারের আধিপত্য। ঝুলিতে ভরেছেন আটটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক। পূর্বসূরিদের রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিয়ে পেয়ে গিয়েছিলেন সর্বকালের সেরা অ্যাথলেটের খেতাব। বার্লিনে ৯.৫৮ সেকেন্ডে ১০০ মিটারের রেকর্ড অক্ষুণœ আছে এখনো।

খেয়ালি বোল্ট একসময় হুট করে ট্র্যাক থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে নাম লেখালেন ফুটবলে। অবশ্য তার ফুটবলপ্রীতি নতুন নয়। পেশাদারি ফুটবলে নাম লেখানোর জন্য অনুশীলন শুরু করেন জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের খেলোয়াড়দের সঙ্গে। স্প্রিন্টের মতো ক্ষিপ্র গতিতে বল দখলের জন্য তার খেলায় মুগ্ধ হয়েছিলেন মারিও গোটশে, মার্কো রয়েসের মতো ফুটবলাররা। এমনকি নরওয়ের দল স্ট্রমসগডসেটের হয়ে নরওয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষেও মাঠে নেমেছিলেন তিনি। সেবার তার জার্সি নম্বরই ছিল ৯.৫৮!

গত বছর ট্রায়াল দিতে অস্ট্রেলিয়ান ‘এ’ লিগের ক্লাব সেন্ট্রাল কোস্ট ম্যারিনার্সে যোগ দেন বোল্ট। ক্লাবটিতে বেশ উন্নতিও করেন তিনি। অক্টোবরের এক প্রীতি ম্যাচে জোড়া গোল করে ফুটবল বিশ্বে সাড়াও জাগান। বোল্টকে দলে ভেড়ানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইউরোপের দেশ মাল্টার ক্লাব ভেল্লেত্তি। কিন্তু রাজি হননি তিনি। এদিকে ম্যারিনার্সও অর্থনৈতিক কারণ দেখিয়ে পেশাদারি চুক্তি করেনি বোল্টের সঙ্গে। ৩২ বছর বয়সি জ্যামাইকান অনেক দিন অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে কাল হতাশা থেকেই স্প্রিন্টের মতো ঘোষণা দেন বোল্ট, ‘আমার ক্রীড়া জীবন শেষ।’

ফুটবলের ক্লাব সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি বলেই এই সিদ্ধান্ত তার, ‘আমি বলব না যে আমার সময়টা খুব একটা খারাপ গেছে, কিংবা আমি মানিয়ে নিতে পারিনি। তবে যেমনটা চেয়েছি, তেমনটা হয়নি। তবে ফুটবল জীবনটা আসলেই খুব ভালো একটা অভিজ্ঞতা। একটা দলের সঙ্গে এভাবে থাকতে পারা আসলেই অনেক বড় অভিজ্ঞতা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড থেকে এটা অনেক আলাদা। যত দিন ছিলাম, তত দিন খুবই উপভোগ করেছি।’

মাঠ-পরবর্তী জীবন নিয়েও চিন্তাভাবনা করে ফেলেছেন জ্যামাইকান তারকা, ‘আমি সম্ভবত ব্যবসায় মনোযোগ দিচ্ছি। মাঠের খেলা বাদেও আরো অনেক কিছু করার মতো আছে জীবনে। সামনে অনেক সম্ভাবনা আছে। তবে আমি ব্যবসাটাই বেছে নেব।’

"