রংপুরের জয়ের নায়ক ফরহাদ

সাব্বির ঝড়েও হারল সিক্সার্সরা

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সিলেট পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় স্কোর গড়েও হেরেছে সিলেট সিক্সার্স। বিপিএলের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে সিলেটকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্স।

দুঃসময়ের পেছনে জ্বলে উঠলেন সাব্বির রহমান। শেষ দিকে ঝড় তোলেন নিকোলাস পুরান। সিলেট ২০ ওভারে তোলে ১৯৪ রান। তখনো পর্যন্ত যা এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ দলীয় রান। কিন্তু ক্রিকেট বিধাতা দিনটি লিখে রেখেছিল রংপুরের জন্য। পরের ইনিংসেই সেই বিশাল রান পেরিয়ে যায় তারা। সিলেটের বাজে ফিল্ডিং আর নিজেদের দারুণ ব্যাটিংয়ে রংপুর জিতে যায় তিন বল হাতে রেখে।

শেষ দুই ওভারে রংপুরের প্রয়োজন ছিল ২৪ রান। আগের ম্যাচের খলনায়ক তকমাটাকে ভুলে জ্বলে উঠলেন ফরহাদ। বাঁ-হাতি পেসার মেহেদী হাসান রানার বলে মাশরাফির বাউন্ডারিতে ১৯তম ওভারের শুরু, পরে ফরহাদের চার ও ছক্কায় ম্যাচ চলে এলো নাগালে। শেষ ওভারে ফরহাদের আরেকটি বাউন্ডারিতে জয়। ৬ বলে অপরাজিত ১৮!

বিপিএলের ছয় আসরে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। ২০১৩ বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের ১৯৭ রান তাড়ায় সিলেট রয়্যালসের জয় এখনো রান তাড়ার রেকর্ড।

রংপুর জিতল টানা ৩ ম্যাচ পর। ৭ ম্যাচে তৃতীয় জয়ে জিইয়ে রাখল শেষ চারের আশা। সমান ম্যাচে পাঁচ হারে সিলেট পড়ে রইল টেবিলের তলানিতে।

বড় স্কোর গড়েও হারের জন্য দায়টা নিজেদেরই দিতে পারে সিলেট। রাইলি রুশোকে ২০ রানের মধ্যেই আউট করার সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা চারবার! ১ ও ১২ রানে ক্যাচ ছেড়েছেন কিপার জাকের আলি। ১৬ রানে রুশো হতে পারতেন রান আউট। ২০ রানে সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন পুরান। সেই রুশো ৩৫ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলে হয়েছেন ম্যাচের সেরা।

বড় রান তাড়ায় রংপুর ক্রিস গেইলকে হারায় শূন্য রানেই। কিন্তু অ্যালেক্স হেলস ও রুশোর ব্যাটে রংপুর ধরে রাখে রানের গতি। ৩৯ বলে ৬৩ রানের জুটি ভেঙেছে হেলসের বিদায়ে। ইংলিশ ব্যাটসম্যান ২৪ বলে করেছেন ৩৩ রান। বিপিএলে অভিষিক্ত এবি ডি ভিলিয়ার্স ব্যাটিংয়ে নেমে ধরে রাখেন মোমেন্টাম। রুশোর সঙ্গে ডি ভিলিয়ার্সের জুটিতে আসে ৩৮ বলে ৬৮ রান।

দুজনের ব্যাটে ম্যাচের ভাগ্য যখন রংপুরের দিকে হেলে, মোড় বদলে দেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম ২ ওভারে ২৫ রান দিলেও জুটি ভাঙতে তাকে বোলিংয়ে ফেরান ডেভিড ওয়ার্নার। ওভারের প্রথম বলেই তাসকিন ফিরিয়ে দেন রুশোকে, শেষ বলে বোল্ড ডি ভিলিয়ার্স! ২১ বলে ৩৪ করে ডি ভিলিয়ার্স আউট হন ক্রস ব্যাটে খেলে।

মোহাম্মদ মিঠুন ও নাহিদুল ইসলামের ব্যাটে রংপুর ধরে রাখে আশা। কিন্তু এই দুজনকেও একই ওভারে ফিরিয়ে দেন তাসকিন। কিন্তু তার ওভার শেষ হতেই আর বাধা হতে পারেনি কেউ। শেষের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন ফরহাদ।

অথচ ম্যাচটির নায়ক হতে পারতেন সাব্বির। আগের ৬ ইনিংস মিলিয়ে করেছিলেন ৫৬ রান। এদিন ফিরলেন স্বরূপে।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা সিলেট দ্বিতীয় ওভারে হারায় লিটন দাসকে। তবে তিনে নেমে স্বপ্ন দেখাতে থাকেন আফিফ হোসেন।

বার বার বেঁচে যাওয়া আফিফকে (১১ বলে ১৯) দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে সরাসরি থ্রোয়ে ফেরান রুশো। সাব্বির ততক্ষণে ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন। ফরহাদ, সোহাগ, নাহিদুল, গেইল, সবাইকে দিয়েছেন ছক্কার স্বাদ। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিপিএলে পেরিয়ে যান ৫০ ছক্কা। নিজের ফিফটি স্পর্শ করেন ৩৪ বলে।

দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে মাশরাফি ফিরিয়ে দেন ওয়ার্নারকে। সিলেট অধিনায়ক করেছেন ২১ বলে ১৯। আসেন পুরান।

৫ চার ও ৬ ছক্কায় ৮৫ করে সাব্বির আউট হন ইনিংসের শেষ ওভারে। শেষ দুই বলে ব্যাট ছোঁয়াতে না পারায় ফিফটি হয়নি পুরানের। অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৪৭ রানে। শেষ ৪ ওভারেই সিলেট তোলে ৬১ রান। কিন্তু তাতেও সিলেটের সিলেট পর্ব শেষ হলো হতাশায়।

"