রাজশাহীকে জেতাল রংপুর

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

প্রিন্স রাসেল

দুটো ম্যাচই হাতের মুঠোয় ছিল। রংপুর রাইডার্সের জয়টা অনায়াসে প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু প্রত্যাশার প্রতিফলন সব সময় হয় না। ক্রিকেট বিধাতা দুটো ম্যাচের ভাগ্যই নির্ধারণ করে দিলেন মাশরাফিদের বিপক্ষে। ঢাকা ডায়নামাইটসের পর এবার রাজশাহী কিংসের কাছেও শেষ ওভারে হারল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। কালকের হারটা ৫ রানের। একদিন আগেই সাকিবদের কাছে ২ রানে।

হারের ব্যবধানটা একটু এদিক-সেদিক; কিন্তু হারের ধরন একই। শেষ বলে টানা দুই ম্যাচে যাওয়াটা নিয়তি নাকি নিজেদের ভুল? ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার কথায় দুটো উত্তরই এলো। তবে ১৩৫ রান তাড়া করে জিততে না পারাটা যে হতাশার সেটা মাশরাফির অভিব্যক্তিতেই বোঝা গেছে।

আসলে ভুলটা হতে পারে রাইলি রুশোর। মুস্তাফিজের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে ফরহাদ রেজাকে স্ট্রাইকে না পাঠালে হয়তো ৯ রানের সমীকরণটা মেলাতে পারত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। শেষ ওভারে মাশরাফির দল নিতে পারল মাত্র ৩ রান। মুস্তাফিজের প্রথম ও শেষ বলটি মোকাবিলা করেছেন রুশো। ‘কাটার মাস্টার’র যে ৪টি বল খেলেছেন ফরহাদ তার একটিতেও ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি। রংপুর রাইডার্স ভক্তদের সবচেয়ে বড় হতাশাটা এখানেই। সতীর্থের এমন নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আফসোস ঝরেছে অধিনায়ক মাশরাফির কণ্ঠেও।

শেষ বলে অলৌকিক কিছুর আশায় ছিল রংপুর। ছক্কা মারতে হতো রুশোকে। কিন্তু জয়ের জন্য সেটাও যথেষ্ট ছিল না। বড় জোর ম্যাচ গড়াত সুপার ওভারে। তবে আশা থাকত। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাঁ-হাতি পেসার ষষ্ঠ বলেও দুর্দান্ত ডেলিভারি দিয়েছেন। রুশো এক রান নিতে সক্ষম হলেন। সেটাও আবার রান আউট শঙ্কা এড়িয়ে!

দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান অজেয় থাকলেন ৪৫ বলে ৪৪ রানে। ঘুমপাড়ানি ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ৩টি চারে। দলীয় সর্বোচ্চ এই ইনিংস খেলার পথে তৃতীয় উইকেট জুটিতে মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে রুশো যোগ করেন ৪০ রান। জুটি ভাঙে ৩১ বলে ৩০ রান করা মিঠুনের বিদায়ে। অথচ একাদশ ওভার শেষ হওয়ার আগে ২ উইকেটে ৭১ রান তোলা রংপুর সহজ জয়ই দেখছিল। রংপুরের সামনে ৫৯ বলে ৬৫ রানের সহজ সমীকরণ। হাতে ছিল ৮টি উইকেট। এমন অবস্থায় রাজশাহী কিংসের পক্ষে বাজি ধরার লোক খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর ছিল। এখান থেকেও যে রাজশাহী জিততে পারে সেটা বোধহয় দলটির পাঁড় ভক্তদের ভাবনাতেও ছিল না। অভাবনীয় কাজটা সম্পন্ন করে দিয়েছেন মুস্তাফিজ, মোহাম্মদ হাফিজ, কামরুল ইসলাম রাব্বি। কৃতিত্ব প্রাপ্য ইসুরু উদানা, মেহেদী হাসান মিরাজ, আরাফাত সানিরও। তাদের আঁটসাঁট বোলিং নৈপুণ্যেই রংপুরকে চেপে ধরে রাজশাহী কিংস। সম্মিলিত প্রচেষ্টার সেরা পুরস্কারটা শেষ বলেই পেয়েছে তারা।

লড়াকু পুঁজি আগলে রাখার চেষ্টা বোলিং ইনিংসের শুরু থেকেই করেছেন মিরাজরা। যার শুরুটা হয়েছিল চমক দিয়ে। তবে সেটা রংপুর রাইডার্সের ব্যাটিং অর্ডারে। ক্রিস গেইলের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে নেমে পড়েন মাশরাফি। বাজিটা কাজে আসেনি। প্রথম ওভারের শেষ বলে উইকেটরক্ষক জাকিরের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন রংপুর অধিনায়ক। রানের খাতাও খুলতে পারেননি তিনি।

রংপুর ভক্তদের সেই হতাশা কিছুটা হলেও দূর করে দিয়েছেন গেইল। ক্যারিবীয় ড্যাশিং ওপেনার ইনিংসের শুরুটা করেন ধীর গতিতে। পরে বেরিয়ে এলেন খোলস ছেড়ে। চড়াও হলেন রাজশাহী কিংসের বোলারদের ওপর। কিন্তু ঝড়টাকে প্রলয়ে পরিণত করার আগেই ১৪ বলে দুটি করে চার-ছক্কায় ২৩ রানে ফিরে যান গেইল। রাজশাহী খুশি যে, ‘অল্প’তেই টি-টোয়েন্টির রাজাকে ফেরানো গেছে। রংপুরের দুই ওপেনারকেই ফিরিয়েছেন কামরুল হাসান রাব্বি।

দিনের প্রথম লড়াইয়ে অবশ্য রাজশাহীই হেরেছিল। টস হেরে ব্যাট করতে নামা দলটার শুরুটা ছিল বিপর্যয় দিয়ে। ৩৬ রানের মধ্যে তারা হারিয়ে ফেলে টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে। মুমিনুল হক ১৪ এবং ১৮ রানে সাজঘরে ফিরে যান সৌম্য সরকার। পরে চতুর্থ উইকেট জুটিতে উইকেটের লাগাম টেনে ধরেন মোহাম্মদ হাফিজ ও জাকির হাসান। এ দুজনের ৫৪ রানের জুটির সুবাদে কোনো রকম লড়াকু পুঁজি তুলেছে রাজশাহী কিংস। দুর্ভাগ্যবশত, রান আউট হওয়ার আগে ২৯ বলে হাফিজ করেছেন ২৬। ৩৬ বলে ৪২ রানে অজেয় থাকলেন জাকির। শেষ দিকে তাকে সঙ্গ দেওয়া রায়ান টেন ডেসকাটের ব্যাট থেকে এসেছে ১৪ রান। রাজশাহীর পতন হওয়া উইকেটের সমান দুটি শিকার মাশরাফি ও ফরহাদ রেজা। সোহাগ গাজী ও শফিউল ইসলামের ঝুলিতে গেছে একটি করে উইকেট।

"