বিপিএল শেষ স্মিথের

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ama ami

স্টিভেন স্মিথকে নিয়ে নাটক কম হয়নি। জল অনেক দূর গড়ানোর পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরে অভিষেক হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কের। তার উপস্থিতি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে যোগ করেছিল অনন্য মাত্রা। বিপিএল খেলতে স্মিথ কতটা মরিয়া ছিলেন সেটা আসর শুরুর আগেই এক ভিডিওবার্তায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত স্মিথের বিপিএল অধ্যায় শুরু হয়েছিল অধিনায়ক হিসেবে। তার নেতৃত্বেই সাবেক চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস মাঠে নেমেছিল। অস্ট্রেলিয়ান তারকার অধিনায়কত্বে খুশি হয়েছিলেন দলের সবাই। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলটির কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন তো তার জন্য প্রশংসার ঝাঁপি খুলে দিয়েছিলেন।

বিপিএলের প্লেয়ার ড্রাফটে ছিলেন না স্মিথ। তবু তাকে দলে টানে কুমিল্লা। টুর্নামেন্ট কর্তাদের অনুমতি নিয়েই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে চুক্তি করেছিল সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু তাতে আপত্তি তোলে রংপুর রাইডার্স। পরে তাদের সঙ্গে সুর মেলায় অন্যসব ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিষয়টা ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর। বোর্ডের সভায় স্মিথকে বিপিএলে না খেলানোর সিদ্ধান্তই হয়।

পরে আবার আরেক নাটক। সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিসিবি। আইন সংশোধন করে স্মিথকে বিপিএলে নিয়ে আসে বোর্ড। যার খেলা নিয়ে এতকিছু হলো সেই স্মিথেরই চোটের কারণে শেষ হয়ে গেল টুর্নামেন্ট। স্মিথের বিপিএল অধ্যায় হলো মাত্র দুই ম্যাচে। দুই ম্যাচে ১৬ রান করেন কুমিল্লা অধিনায়ক। সর্বশেষ ম্যাচে অবশ্য রানের খাতা খুলতে পারেননি স্মিথ।

বিপিএলের পুরো আসরটা খেলার ইচ্ছা ছিল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত ক্রিকেটারের। বাংলাদেশ ছেড়ে দেশে ফিরে যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলেন, চোট গুরুতর না হলে দ্রুতই ফিরে আসবেন তিনি। স্মিথের আর ফেরা হলো না। তার কনুইয়ের চোটের গভীরতা এতটাই যে সামনের পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল), ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও (আইপিএল) তার খেলা নিয়ে রয়েছে সংশয়। নিষেধাজ্ঞা শেষে স্মিথের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতেও দেরি হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে এমআরআই করিয়েছেন স্মিথ। রিপোর্টে জানা যায়, তার কনুইয়ের লিগামেন্ট অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অস্ত্রোপচারের বিকল্পা নেই অস্ট্রেলিয়ান তারকার সামনে। আগামী মঙ্গলবার অস্ত্রোপচার করার কথা রয়েছে তার। নির্বাসন কাটিয়ে স্মিথ কবে নাগাদ ফিরতে পারেন সেটারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে অন্তত ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে কাটিয়ে দিতে হবে তাকে।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের যা অবস্থা তাতে করে নিষেধাজ্ঞা শেষে স্মিথ এবং ওয়ার্নার দুজনেরই উপস্থিতি জরুরি হয়ে উঠছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) বিশ্বকাপ পরিকল্পনাতেও নাকি আছেন এই দুজন। কিন্তু সংশয় জাগল স্মিথকে নিয়ে। আগামী ২৩ এপ্রিল বিশ্বকাপে দল ঘোষণার শেষ দিন। স্মিথ সেই দলে থাকতে পারবেন তো?

"