লড়াইটা হলো পুরান-ঢাকার

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ama ami

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (ষষ্ঠ) আসরের প্রায় সব দলেরই পরাজয়ের স্বাদ নেওয়া হয়েছে। এই জায়গায় ব্যতিক্রম ঢাকা ডায়নামাইটস। তারকা ঠাসা শক্তিশালী দলটি রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। চার ম্যাচের সবকয়টিতেই জিতল সাকিব আল হাসানের দল।

সাবেক চ্যাম্পিয়নদের এবারের জয়টি এসেছে সিলেট সিক্সার্সের বিরুদ্ধে; ৩২ রানের ব্যবধানে। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৩ রানের শক্তিশালী সংগ্রহ করে ঢাকা ডায়নামাইটস। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভারে ১৪৯ রানে গুটিয়ে যায় ডেভিড ওয়ার্নারের সিলেট সিক্সার্স।

কাল সন্ধ্যায় শুরু হওয়া ম্যাচটা ভাগ্য অবশ্য সিলেটের ইনিংসের শুরুতেই প্রায় নির্ধারণ হয়ে গেছে। ঢাকার ছুড়ে দেওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে নেমে শুরুতেই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে সিলেটের ব্যাটিং অর্ডার। ২৯ রান তুলতেই ৪ উইকেট শেষ ওয়ার্নারদের। টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানের একজনও ছুঁতে পারেননি দুই অংক। একে একে সাজঘরে ফিরে গেলেন ওয়ার্নার (৭), আফিফ হোসেন (৯), লিটন দাশ (৪) ও নাসির হোসেন (১)।

ভয়াবহ এই বিপর্যয় সামলে ওঠার আগেই ৩৯ রানে দলের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরে যান সাব্বির রহমান। ১০ বলে ১২ রানে আউট হন তিনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট খোয়ানের মিছিলে পরে যোগ দেন অলোক কাপালি (২) ও সোহেল তানভির (৭)। ৭৫ রানে ৭ উইকেট হারানো সিলেট শতরান তুলতে পারবে কি না তানিয়েই জেগেছিল সংশয়।

একপ্রান্ত আগলে রেখে ঢাকার দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে নিষ্ফল লড়াই করে গেলেন নিকোলাস পুরান। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে অলৌকিক কিছুর আশাই দেখিয়েছিল তার ব্যাট। পুরানকে আউট করে যেন স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেলছে ঢাকা। ফেরার আগে ৪৭ বলে ৭২ রানের দারুণ একটা ইনিংস খেলেছেন পুরান। ইনিংসে ছক্কার মার ৯টি! চার মাত্র একটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিফলে গেল পুরানের রাজসিক ইনিংসটা। যা সিলেটের হারের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র, ঢাকার জয়টাকে শুধুই বিলম্বিত করেছে।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৪ রানেই ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাইকে হারায় ঢাকা। শুরুর এই ধাক্কাটা সামলে দলকে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে ঢাকার টপ ও লোয়ার অর্ডার। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সুনিল নারাইন ও রনি তালুকদার মিলে যোগ করেন ৬৭ রান। ২১ বলে ২৫ রানে নারাইন বিদায় নিলে ভাঙে জুটি। সঙ্গী হারানো রনিও সঙ্গ হারিয়েছেন একটু পরই। ফেরার আগে ৩৪ বলে ৫৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস দলকে উপহার দিয়ে গেছেন বাংলাদেশি এই ব্যাটসম্যান। ইনিংসে ৫টি চারও ৩টি ছক্কা মেরেছেন রনি। আউট হওয়ার আগে অধিনায়ক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ৩৫ রানের একটি যুগলবন্দি করেন তিনি।

১১.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১০৬ রান করা ঢাকা হঠাৎই পথ হারিয়েছে। ১৯ রান নিতে পরের ৫টি উইকেট হারিয়েছে তারা। সাজঘরে আসা-যাওয়ার মিছিল লেগে যায় রনি, সাকিব, আন্দ্রে রাসেল, কাইরেন পোলার্ড ও শুভাগত হোমের মধ্যে। ঢাকা ১৫০ রান করতে পারবে কি না এনিয়েই জেগেছিল সংশয়। শঙ্কাটা উড়িয়ে দেন ৭ ও ৯-এ ব্যাট করতে নামা নুরুল হাসান ও মোহাম্মদ নাঈম।

শেষ দিকে দুজনই ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। ১০ বলে ১৮ রান করেন নুরুল, ২৩ বলে ২৫ করেন নাঈম। ১৭ বলে ২৩ রান এসেছে সাকিবের ব্যাট থেকে। সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেছেন তাসকিন আহমেদ। বাকি ৪ উইকেটের মালিক আল আমিন হোসেন, অলোক কাপালি, আফিফ হোসেন ও সোহেল তানভীরের।

"