কুমিল্লার ম্যাড়ম্যাড়ে জয়

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ama ami

সচরাচর নতুন বলে মেহেদি হাসান মিরাজকে দেখা যায়। জাতীয় দলের পর রাজশাহী কিংসের বোলিং ইনিংসেও তাই হয়ে থাকে। আবার দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে টপ অর্ডারেও দেখা যায় তাকে। কিন্তু কাল রাজশাহী কিংসের ইনিংসের শুরুটাই ছিল চমক দিয়ে। আগের ম্যাচে তিনে নামা মিরাজ কাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে ব্যাট হাতে নেমে পড়লেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে রীতিমতো আগ্রাসী হয়ে উঠলেন রাজশাহী কিংসের তরুণ অধিনায়ক। ঝড় তুললেন ব্যাট হাতে।

ইনিংসের দ্বিতীয় বলে স্ট্রাইক পেয়েই আবু হায়দারের বলে চার হাঁকিয়ে শুরু করলেন। বাঁ-হাতি পেসারের প্রথম ওভার শেষ হওয়ার আগে আরো দুবার বল সীমানা ছাড়া করলেন মিরাজ। অধিনায়কের এমন ঝোড়ো শুরু এনে দেওয়ার পরও মাত্র ১২৪ রান করেছে রাজশাহী কিংস। ইনিংসের ৭ বল বাকি থাকতে তাদের গুটিয়ে দেওয়ার একক কা-ারী শহিদ আফ্রিদি। রাজশাহীর বিপক্ষে কাল ৪ ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেছেন এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার। বাকি তিন বোলার আবু হায়দার, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও লিয়াম ডসন শিকার করেছেন দুটি করে উইকেট।

মিরাজ এক প্রান্তে ঝড় তুললেও ২০ রানের মধ্যে মুমিনুল হক ও সৌম্য সরকারকে হারিয়ে শুরুতে চাপে পড়ে রাজশাহী। পরে চাপটা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক মিরাজ। ৫ ওভারের মধ্যেই ১০ বলে ৬ চারে ২৫ রান তুলে ফেলেন তিনি। মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৪৬ রান তুলে ফেলার পর মনে হচ্ছিল রাজশাহী ভালো একটা স্কোর গড়তে যাচ্ছে। কিন্তু সপ্তম ওভারে ডসনের অপূর্ব সুন্দর এক বলে হাফিজের স্টাম্প ভেঙে যাওয়ার পর পথ হারায় রাজশাহী। পরিস্থিতি প্রতিকূলে চলে যাওয়ায় ধীরে-সুস্থে ব্যাট চালাতে থাকেন মিরাজ। শেষ পর্যন্ত ১৭ বলে ৬ চারের সুবাদে ৩০ রানে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। ইনিংসের শেষ দিকে রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ বলে ৩২ রান করেন উদানা। পাঁচটি চার ও এক ছক্কায় ইনিংসটা সাজিয়েছেন তিনি। ২৬ বলে ২৭ রান এসেছে জাকির হাসানের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া হাফিজ দুই-চারের সাহায্যে ১৭ বলে ১৬ রান করেন।

রাজশাহীকে স্বল্প রানে বেঁধে ফেলার পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস জিতেছে ৮ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই। অথচ সহজ জয়ের ম্যাচটা কুমিল্লা খেলেছে তাদের নিয়মিত অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে ছাড়া। দলটি খেলেছে ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে। নেতৃত্বে ভালো করলেও ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ১২ বল খেলে মাত্র ৬ রানে ফিরে গেছেন ইমরুল। কুমিল্লার জয়ে ফেরার জন্য তাতে অবশ্য কোনো সমস্যা হয়নি। টপ অর্ডার যে দলকে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছে। উদ্বোধনী জুটিতে এনামুল হক ও এভিন লুইস করেন ৬৫ রান। পরে ঘুমপাড়ানি ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের আরো কাছে নিয়ে যান তামিম। অথচ জয়ের খুব কাছে এসে কয়েকটা উইকেট হারিয়েছেন সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। ২ উইকেটে ১০১ থাকা কুমিল্লার পরের ৮ রান নিতে খুইয়েছে তিনটি উইকেট। ৩২ বলে ৪০ রানে ফিরেছেন এনামুল। ২১ বলে ২৮ রান এসেছে লুইসের ব্যাট থেকে। তামিম ২১ রান করতে গিয়ে খরচ করেছেন ২৫ রান।

"