আজ মুখোমুখি রংপুর-ঢাকা

বিপিএল জমানোর চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ama ami

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরটা শুরুই হয়েছে নিরুত্তাপভাবে। প্রচার-প্রচারণার ঘাটতির প্রভাবটা পড়েছে গ্যালারিতে। এখন পর্যন্ত ভরে উঠতে পারেনি। আটটিই ম্যাচেই খাঁ খাঁ করেছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি।

একদিনের বিরতি দিয়ে আজ শুরু হচ্ছে ঢাকা পর্বের পঞ্চম দিনের খেলা। বিপিএলের এদিনের ম্যাচের জন্য টিকিটের চাহিদা ভালোই দেখা দিয়েছে। কারণটা শুক্রবার। আজ সরকারি ছুটির দিন। ছুটির দিনে দর্শকরা স্টেডিয়ামে আসবে এটাই তো স্বাভাবিক।

কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই কী টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ মাঠে দর্শকদের টানতে পারছে? উত্তরে থাকবে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। ঢাকার প্রথম পর্বে যে চার দিন খেলা হয়েছে একদিনও স্টেডিয়াম ভরে ওঠেনি। অবস্থা এমন যে, তিন দিনের দর্শক গ্যালারির মাথাও গোনা যাচ্ছিল।

আরো হতাশার হচ্ছে স্টেডিয়ামমুখি দর্শকদের বড় একটা অংশ বাড়ির ফিরে যাচ্ছেন ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই। এর কারণ নিষ্প্রাণ লড়াই, ব্যাটসম্যানদের অসহায়ত্ব। রান তোলার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের। নিজেদের হারিয়ে খুঁজছেন ব্যাটসম্যানরা।

টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি এই টুর্নামেন্টে দর্শক টানার মূল উপাদান চার-ছক্কার ফুলঝুরি। কিন্তু চার-ছক্কার বদলে চলমান বিপিএল দেখছে উইকেট বৃষ্টি। তাই উইকেট বাঁচাতে শম্বুক গতিতে ব্যাট চালাচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা। কেউ কেউ তো প্রস্তর যুগের ব্যাটিংও করেছে!

এর যতটা না সমস্যা ব্যাটসম্যানদের তারচেয়েও বেশি উইকেটের। মিরপুরের উইকেট বরাবরই রহস্যময়ী। নতুন বলে স্পিন বোলিং যে কেমন হবে সেটা বোঝা দুষ্কর। বোলারদের দাপটে পাওয়ার প্লে কিংবা, সøগ ওভারে প্রত্যাশিত রান হচ্ছে না। বিচ্ছিন্ন দুই একটা ম্যাচে কোনো দল শক্তিশালী সংগ্রহ গড়ে তুললেও ধসে পড়ছে প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটিং।

বিপিএলের চলতি অসরের বেশির ভাগ ম্যাচই হয়েছে এক তরফা। ১২০-৩০ রান যেন আদর্শ হয়ে উঠছে! ইনিংসে রান সংখ্যা বাড়াতে চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নতুন করে আরো দুটি উইকেট তৈরি করেছেন ব্যাটিং-বান্ধব করার জন্য।

দর্শক টানতে প্রতিদিনের ম্যাচের সময়সূচিও বদল করেছে বিসিবি। এক ঘণ্টা পিছিয়েছে ম্যাচের সময়। আগামীকাল থেকে প্রথম ম্যাচে শুরু হবে দুপুর দেড়টায়। পরের ম্যাচটা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবারের খেলাগুলো অবশ্য সাধারণ দিনের চেয়ে আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রংপুর রাইডার্স ও ঢাকা ডায়নামাইটসের বিগ ম্যাচটা শুরু হবে দুপুর দুটো নাগাদ। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৭টায়। এবারের বিপিএলের প্রত্যেক শুক্রবারের সময়সূচি এটাই।

এভাবে সূচি বদলের উদ্দেশ্য শিশির এবং দর্শকদের আসা-যাওয়ার সময় বিবেচনা। ম্যাচ শুরু হয় এমন সময়ে দর্শকেরা আগ্রহ পাচ্ছেন না মাঠে আসতে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সময় বদলে একটা চেষ্টা চালাচ্ছে দর্শক টানতে। দর্শকদের অনেকের মত, শুধু সময় পরিবর্তন করলেই হবে না, টিকিটের দাম নিয়েও ভাবতে হবে আয়োজকদের। সাধারণ গ্যালারির টিকিট ২০০ টাকা, যেটি অনেকেই বেশি মনে করেন। বিসিবিরও পাল্টা যুক্তি আছে, ২০০ টাকায় দুটি ম্যাচ দেখার সুযোগ পায় দর্শকেরা। ম্যাচ দুটি হোক আর একটি হোক, জমজমাট-আকর্ষণীয় টুর্নামেন্ট না হলে টাকা খরচ করে ঢাকা শহরের নিত্য যানজটের ধঁকল সামলে এসে এমন নিষ্প্রাণ বিপিএল দেখতে আসবে কেন?

নিয়মিত একপেশে ম্যাচ হওয়ায় বিপিএল চলছে দর্শকশূন্য গ্যালারিতে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ভালোকিছু করতে পারছেন না। যা একটু আধটু আলো ছড়াচ্ছেন বিদেশি ক্রিকেটাররাও। কিন্তু টুর্নামেন্ট জমিয়ে তুলতে এসবকিছু মোটেও যথেষ্ট নয়। এর মধ্যে আবার ডিআরএস নিয়ে কত নাটক! বিপিএল এখনো ঠিক জমে ওঠেনি। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল অবশ্য নানা চেষ্টা করছে আসর জমিয়ে তুলতে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাল ডিআরএসে আলট্রা এজ প্রযুক্তি যোগ করা হচ্ছে।

"