সিলেটের প্রথম জয়

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

পরশু সিলেট সিক্সার্সের সতীর্থ ডেভিড ওয়ার্নারের কাছে ব্যাটিংয়ের খুঁটিনাটি শেখার কথা জানিয়েছিলেন আফিফ হোসেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার বাংলাদেশের তরুণ অলরাউন্ডারকে পরামর্শ হয়তো দিয়েছিলেন। সিলেটের প্রথম জয়ে যে ব্যাটিং প্রদর্শনী ছিল এই দুজনের।

আগের ম্যাচের মতোই ব্যাটিংয়ের শুরুটা বিবর্ণ ছিলে সিলেটের। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানদের আলোক দ্যুতিতে দূর হলো আঁধার। ম্যাচের শেষ ওভারে প্রতিপক্ষের প্রয়োজন ২৪ রান। তাতেও ঘিরে ধরেছিল হারের শঙ্কা। অবশেষে ব্যাটিংয়ের শুরু আর বোলিংয়ের শেষের ধাক্কা সামলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল সিলেট সিক্সার্স। কাল মিরপুরে শেষ বলে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসকে ৫ রানে হারিয়েছে তারা।

শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা সিলেটকে উদ্ধার করেন ওয়ার্নার, আফিফ ও নিকোলাস পুরান। এই ত্রয়ীর সৌজন্যে ২০ ওভারে তোলে তারা ১৬৮ রান। চিটাগং রান তাড়ায় লেগে থেকেও শেষ করতে পারেনি কাজ। থমকে গেছে ১৬৩ রানে।

শেষ ওভারে ২৪ রানের তাড়ায় প্রথম চার বলের মধ্যে দুটি ছক্কা মারেন চিটাগংয়ের রবি ফ্রাইলিংক। শেষ ২ বলে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। সেই সমীকরণ মেলাতে পারেননি এই দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার। ম্যাচের শুরুটাও ছিল ফ্রাইলিংকের দাপট। আগের ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে চিটাগংকে জিতিয়েছিলেন। কাল অবার নতুন বলে দলকে এনে দেন দারুণ সূচনা। কোনো রান করতে না দিয়ে নিজের প্রথম ওভারে ফেরান লিটন দাসকে। পরের ওভারে সাব্বির রহমানকে।

মাঝে হাঁটুর চোট কাটিয়ে ৯ মাস পর মাঠে ফেরা নাসির হোসেনকে ফেরান স্পিনার নাঈম হাসান। ৩ ওভার শেষে সিলেটের রান তখন ৩ উইকেটে ৭। সেখান থেকে এক প্রান্ত আগলিয়ে ওয়ার্নার লড়াই করেন আফিফকে নিয়ে।

চাপের মধ্যেও দারুণ সব শটে চমকে দেন আফিফ। ওয়ার্নার-আফিফ জুটিতে ৫০ আসে ৩১ বলে। ৪৭ বলে ৭১ রানের জুটি শেষ হয় আফিফের বিদায়েই। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ২৮ বলে ৪৫ রান করে আউট হন ১৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।

এরপর ওয়ার্নার শুরু করেন পুরানকে সঙ্গে নিয়ে। এই দুজনের জুটিতে ৭০ রান আসে ৪৭ বলে। ওয়ার্নার ২ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ বলে করেন ৫৯ রান। তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৩২ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থেকে যান পুরান। শেষ ৬ ওভারে সিলেট তোলে ৬৭ রান।

ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মোহাম্মদ শাহজাদের ছক্কায় শুরু হয় চিটাগংয়ের রান তাড়া। বোলার তাসকিন আহমেদ শোধ নেন এক বল পরই। ওয়ার্নারের দারুণ ক্যাচে ফেরেন বিপজ্জনক এই আফগান ব্যাটসম্যান। তবে শাহজাদের অভাব বুঝতে দিচ্ছিলেন না ক্যামেরন ডেলপোর্ট। তাসকিনের এক ওভারে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান মারেন দুই চার ও এক ছক্কা। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য নাসিরের অফ স্পিন এনেও কাজ হয়নি, ডেলপোর্ট জবাব দেন চার ও ছক্কায়।

অপ্রতিরোধ্য ডেলপোর্ট থামেন সন্দিপ লামিচানের সরাসরি থ্রোতে রান আউটে। তিনে নেমে ২৩ বলে ২২ রান করে দলকে চাপে ফেলে আউট হন মোহাম্মদ আশরাফুল। অলক কাপালির বলে মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেন আউট হন বাজে দুটি শটে। চিটাগংয়ের মিইয়ে যাওয়া সম্ভাবনা আবার জাগিয়ে তোলেন সিকান্দার রাজা। ২৮ বলে ৩৭ রান করা ব্যাটসম্যানকে নিজের শেষ ওভারে থামান তাসকিন। এরপর ফ্রাইলিংক চেষ্টা করে যান শেষ পর্যন্ত। সঙ্গ না পাওয়ায় প্রোটিয়া অলরাউন্ডার অপরাজিত থাকেন ৪ ছক্কায় ২৪ বলে ৪৪ রান করে। ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন।

"