ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপ

পাকিস্তানকে উড়িয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল একটা ধাক্কা দিয়ে। প্রথম ম্যাচেই হেরে বসে টাইগাররা। সেই ধাক্কাটা দারুণভাবেই সামলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তুলে নিয়েছে পরপর দুই জয়। দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশের জয়ের নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে উঠে গেল বাংলাদেশ। টাইগাররা আগের ম্যাচটি জিতেছিল ৮৪ রানের বিশাল ব্যবধানে। তবে হারলেও চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ চারে উঠেছে স্বাগতিক শিবির। গ্রুপ থেকে বিদায় নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং হংকং।

কাল পাকিস্তানের বিপক্ষে তার সঙ্গে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন জাকির হাসান এবং ইয়াসির আলিও। এ ত্রয়ীর ব্যাটিং নৈপুণ্যের সুবাদে নির্ধারিত ওভারে পাঁচ উইকেটে ৩০৯ রানের বিশাল সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নামা পাকিস্তানকে ২২৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে দারুণ জয় তুলে নেয় নুরুল হাসানের দল।

করাচি জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মিজানুর রহমানের সঙ্গে ৪৮ রানের জুটিতে দলকে ভালো শুরু এনে দেন জাকির হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তার ৯৮ রানের জুটিতে বাংলাদেশ পায় বড় সংগ্রহের দৃঢ় ভীত। পাঁচ রানের মধ্যে থিতু দুই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলেন মোহাম্মদ মুসা। আটটি চারে ৬৯ বলে ৬৯ রান করেন জাকির। ৫৪ বলে ৪৯ রান করে বিদায় নেন শান্ত।

পঞ্চম উইকেটে ইয়াসির আলির সঙ্গে ১২৬ রানের জুটিতে দলকে ৩০০ রানের দিকে নিয়ে যান মোসাদ্দেক। ছয় নম্বরে নামা ইয়াসির ৪৬ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় খেলেন ৫৬ রানের ঝড়ো ইনিংস। ৭৪ বলে চারটি ছক্কা ও তিনটি চারে অপরাজিত ৮৫ রানের ইনিংসে দলকে ৩০০ ছাড়ানো সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক। আগের ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। অফ স্পিনার নাঈম হাসানের ২৩ রানের মধ্যে ফিরিয়ে দেন টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানকে। ৮৮ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন জিশান মালিক ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৬৭ বলে ৪৭ রান করা মালিককে ফিরিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙেছেন শরিফুল ইসলাম। ৫১ বলে ৪৬ রান করা অধিনায়ক রিজওয়ানকে বিদায় করেন মোসাদ্দেক। এরপর আর তেমন কোনো জুটি পায়নি পাকিস্তান। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পরাজয়ের ব্যবধান কমান খুশদিল শাহ। ৫৮ বলে এই অলরাউন্ডার করেন ৬১ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে অফ স্পিনার নাঈম ৩৬ রানে নেন তিন উইকেট নেন। দুটি করে উইকেট মোসাদ্দেক ও শফিউল ইসলাম। অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন মোসাদ্দেক।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ৫০ ওভার, ৩০৯/৫ (মিজানুর ২৫, জাকির ৬৯, শান্ত ৪৯, মোসাদ্দেক ৮৫*, ইয়াসির ৫৬; মুসা ২/৫৫, খুশদিল ৩/৪৮)

পাকিস্তান : ৪৬.৫ ওভার, ২২৫ (মালিক ৪৭, রিজওয়ান ৪৬, সাদ ১০, তালাত ১০, খুশদিল ৬১, শাফকাত ১৬; শফিউল ২/৪১, নাঈম ৩/৩৬, শরিফুল ১/৪৪, তানভীর ১/২৭, আফিফ ১/৪১, মোসাদ্দেক ২/৩২)

ফল : বাংলাদেশ ৮৪ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা : মোসাদ্দেক হোসেন

"