উপলক্ষ রাঙালেন মাশরাফি

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

গোটা দেশে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়েছে পড়েছে ক্রিকেট অঙ্গনেও। ক্রীড়াঙ্গনের এই অংশেও যে কয়েকজন প্রার্থী আছে। কিন্তু নাজমুল হাসান কিংবা নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে ছাপিয়ে আলোচনায় আওয়ামী লীগের নড়াইল-২ আসনের মনোনীতপ্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজা। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে মাশরাফির রাজনীতির মাঠে নেমে পড়াটা দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

ঠিক এমন সময়, যখন প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হাতছানি দিচ্ছিল ‘নড়াইল এক্সপ্রেসকে। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজে সাদামাটা পারফরম্যান্স, বিশেষ এক মাইলফলক এবং রাজনৈতিক ইস্যুÑ সবমিলিয়ে কিছুটা হলেও চাপে ছিলেন মাশরাফি। চাপটা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বিশেষ উপলক্ষটা ডানহাতি এই পেসার রাঙিয়ে দিয়েছেন বল হাতে, নেতৃত্ব গুণে।

কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অধিনায়কের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যের ওপর দাঁড়িয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সহজেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। টাইগাররা জিতেছে পাঁচ উইকেট ও ৮৯ বল হাতে রেখেই। এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক শিবির। কাল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে ক্যারিবীয়দের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে রাখে বাংলাদেশ। পুরো দল তো বটেই, বোলিং বিভাগকেও আলাদাভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি। মাত্র ৩০ রান খরচায় ১০ ওভারে তিন উইকেট তুলে নিয়েছেন টাইগার পেসার। দুর্দান্ত এই বোলিংয়ে ক্যারিবীয়দের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়েছেন স্বাগতিক অধিনায়ক।

অথচ তার বোলিংয়ের শুরুটা ছিল একটা ধাক্কা দিয়ে। প্রথম বলেই তাকে কাভার দিয়ে বাউন্ডারি মেরে স্বাগত জানান দুই বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে নামা ড্যারেন ব্রাভো। মাশরাফিকে সীমানা দড়ি ছাড়া করাটাই বোধহয় কাল হয়ে উঠেছিল ক্যারিবীয়দের জন্য। টাইগার কাপ্তান জ্বলে উঠলেন এরপরই।।

অপর প্রান্তে অধিনায়ককে সঙ্গ দেওয়া মুস্তাফিজুর রহমানও করলেন স্বভাবসুভল বোলিং। এর মধ্যে বোলিংয়ে যোগ দিয়েছেন সাকিব আল হাসানও।

টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় বাউন্ডারির জন্য অপেক্ষা করতে হলো ৮২টি বল। তন্মধ্যে ৪২ বলের ৩৪টিতেই ডট দিয়েছেন মাশরাফি। কৌশলি বোলিং করেছেন মুস্তাফিজও। সেøায়ার, কাটারে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস উঠিয়ে ফেলেছিলেন বাঁ-হাতি পেসার।

স্কোর বোর্ড চলছে মন্থর গতিতে। অতিথি ব্যাটসম্যানদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। মাশরাফিকে হাত খুলে মারতে গিয়ে দুবার জীবন পাওয়া ব্রাভো অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ঝুঁকি নিয়ে খেলতে গিয়ে তামিম ইকবালের হাতে ধরা পড়েছেন এক্সট্রা কাভারে। অবশ্য যেভাবে লং অফ থেকে ছুটে গিয়ে ক্যাচটা শূন্যে ভেসে ভেসে লুফেছেন বাঁ-হাতি ওপেনার, তাতে উইকেটের মূল কৃতিত্বের দাবিদার তামিমই।

উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া শাই হোপকেও একই ফাঁদে ফেলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মিরাজের ক্যাচে পরিণত করে ফিরিয়েছেন মাশরাফি। প্রথম স্পেলে সাত ওভারে যেন অবিশ্বাস্য মাশরাফিরই দেখা মিলল। মাত্র ১৪ রান খরচায় অধিনায়ক তুলে নিয়েছেন দুই উইকেট। পরের তিন ওভারে ১৬ দেওয়া মাশরাফির শিকার আরো একটি। তিন উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের লোয়ার অর্ডারে ধস নামিয়েছেন মাশরাফি। সাকিব এবং মিরাজ একটি করে শিকার করলেও বল হাতে যথেষ্ট মিতব্যয়ী ছিলেন। সব বোলার যেখানে আলো ছড়িয়েছেন সেখানে বাজে বোলিং করেছেন রুবেল হোসেন। কিন্তু মাশরাফিদের দাপুটে বোলিংয়ে সেটা আড়াল হয়ে গেছে।

মাশরাফি দ্বিতীয় স্পেল করতে এসেছেন ৩৭তম ওভারে। বাংলাদেশ অধিনায়ক এসেই মিড অফে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়েছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলকে। এই স্পেলে করা দুই ওভারে পাঁচ রান দিয়ে পেয়েছেন এক উইকেট। অবিশ্বাস্য বোলিং করতে থাকা মাশরাফি নিজের শেষ ওভারটা করলেন ব্যয়বহুল। দশম ওভারে দিয়েছেন ১১ রান। চার খেয়ে বোলিং শুরু করা মাশরাফির শেষটা হয়েছে ছক্কা হজম করে! তবু ক্যারিবীয়দের ৯ উইকেটে ১৯৫ রানে বেধে ফেলার কান্ডারী হিসেবে প্রত্যাশিতভাবেই ম্যাচ সেরা হয়েছেন টাইগার অধিনায়ক।

"