চ্যালেঞ্জ দেখছে উইন্ডিজ

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ভারতে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে নাস্তানাবুদ হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই বাংলাদেশে সফরে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু ক্যারিবিয়ানরা ঘুরে দাঁড়ানো তো দূরে থাক, উল্টো সর্বশেষ দুই টেস্টের সিরিজ খুইয়েছে টাইগারদের বিপক্ষে। চট্টগ্রামের পর ঢাকা টেস্টেও উইন্ডিজরা হার মেনেছে তিন দিন শেষ হওয়ার আগেই। অথচ গত জুলাইয়ে ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত জয় পেয়েছিল তারা। কিন্তু সেই সুখ স্মৃতি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি ক্যারিবীয়দের মনে। ঘরের মাটিতেই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা জাদুতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।

আজ থেকে আবার টাইগারদের বিপক্ষে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। টেস্ট হারের অভিজ্ঞতা ভুলে সাদা বলে জয়ের ধারায় ফেরার আশা করছেন রভমেন পাওয়েল। টাইগারদের বিপক্ষে সিরিজটা সমান-সমান লড়াই হবে জানিয়ে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক কাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই সিরিজে লড়াইটা হবে সমানে-সমানে। দুই দলেই ভালো স্পিনার, পেসার এবং ব্যাটসম্যান আছে। এটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সিরিজ হবে।’

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ সব সময় সমীহ জাগানিয়া দল। কিন্তু ২০১৮ সালে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ক্যারিবীয়দের সাফল্য হাতে গোনা। ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২-১ ম্যাচে হারের পর ভারতের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডেতে তারা সিরিজ খুইয়েছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে। তবে উইন্ডিজদের ভরসা বলতে দলে ফেরা দুই অভিজ্ঞ তারকা ড্যারেন ব্রাভো ও মারলন স্যামুয়েলস। দলে দুই অলরাউন্ডারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে রভম্যান বলেন, ‘এই দুই অভিজ্ঞ (ব্রাভো ও স্যামুয়েলস) তারকার ফেরা আমাদের শক্তি যোগাবে। তারা বোলিং ও ব্যাটিংয়েও নিঃসন্দেহে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। এ ছাড়া দুই তরুণ হেটমায়ার ও শাই হোপও দলকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।

তবে ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের ভয় প্রতিপক্ষের সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবালকে নিয়ে। টাইগারদের দুই তারকাই দলে ফিরেছেন চোট কাটিয়ে। সাকিব চোট থেকে ফিরে নেতৃত্ব দিয়েছেন টেস্টে। অন্যদিকে তামিম প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জানান দিয়েছেন রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের। সাকিব-তামিম ছাড়াও রভমেনের ভয় শিশির নিয়ে। তবে শিশিরের কারণেই ম্যাচ এক ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। শিশিরের ভয়টা তিনি লুকাননি ম্যাচের আগে, ‘আমি মনে করি বাংলাদেশকে হারানো মতো আমরা যথেষ্ট ভালো দল। তারা এখন পূর্ণ শক্তিতে আছে। আমারদেরও সামর্থ্য আছে। এটা উত্তেজনাপূর্ণ একটি সিরিজ হতে যাচ্ছে। সাকিব-তামিমের ফেরা তাদের শক্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।’

রভম্যান আরো বলেন, ‘শিশির একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে সিরিজে। আমি এখানে বিপিএল খেলেছিলাম, তখনই দেখেছি শিশির কীভাবে ম্যাচে প্রভাব ফেলে। এটা আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।’

অবশ্য ওয়ানডের আগে কাল সংবাদ সম্মেলনে বারবার ঘুরেফিরে এসেছে উইন্ডিজকে টেস্টে নাস্তানাবুদ হওয়ার কথাটা। তার কারণটা জানালেন রভম্যান, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা টেস্টে মনোযোগ নেই। আমরা এখন পূর্ণ মনোযোগ সাদা বলের ক্রিকেটের দিকে। দলের বাকিরা এখন অনুপ্রাণিত, আশা করি আমরা সম্ভাব্য একটি ফলাফল গড়ে দিতে পারব।’ দীর্ঘদিনের জয় খরা কাটাতে যে মরিয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারই প্রতিফলন দেখা গেলো রভম্যানের কণ্ঠে, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা ওয়ানডে সিরিজ জিতিনি। সতীর্থরা সেই খরা ঘুচাতে চায়। বাংলাদেশে সেই সুযোগ আছে আমাদের। ভারতের বিপক্ষে চমৎকার ক্রিকেট উপহার দেওয়ার পরও আমরা সিরিজ জিতিনি। তবে বিশ্বকাপের আগে তা করে দেখাতে চাই। আর বিশ্বকাপের জন্য এটিই আমাদের আত্মবিশ্বাস যোগাবে।’

"