ওয়ানডেতে চোখ পেসারদের

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টেস্ট সিরিজ শেষ হয়েছে। দুইটি ম্যাচেরই নিষ্পত্তি হয়েছে দুই দিন বাকি থাকতেই। চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে ৬৪ রানে জয়। পরেরটাতে তো ঐতিহাসিক জয়। প্রথমবারের মতো এক ইনিংস বাকি রেখেই জিতেছিল টাইগাররা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক শিবির ইনিংস ও ১৮৪ রানের রাজসিক জয় তুলে নেন সাকিব-মিরাজ-মাহমুদউল্লাহরা। এই জয়ে ক্যারিবীয়রা হয়েছে হোয়াইটওয়াশ। সফরকারীদের স্পিন ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশ নিয়েছে মধুর প্রতিশোধ।

স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাসিত বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম। অবিস্মরণীয় এই জয়ে দলের পেসারদের নেই কোনো ভূমিকা। প্রথম টেস্টে একাদশের একমাত্র পেসার হিসেবে খেলেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। দুই ইনিংসে তিনি মাত্র চার ওভার বোলিং করেছেন। ঢাকা টেস্টে তো দলে কোনো পেসারই ছিল না। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ খেলেছে বিশেষজ্ঞ কোনো পেসার ছাড়াই।

কন্ডিশন এবং উইকেটের সুবিধা নিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য উইকেটে স্পিন বিষ ঢেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই স্পিন বিষে নীল হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টাইগার দলে থাকা চার স্পিনার রীতিমতো খেলেছেন সফরকারী ব্যাটসম্যানদের নিয়ে। উইকেট উৎসবে স্পিনাররা খুশি হলেও মন ভালো নেই পেসারদের। একাদশে কোনো পেসার না থাকায় হতাশ হয়েছেন পেসাররা। কাল মিরপুরে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে পেসারদের হতাশাটা তুলে ধরলেন রুবেল হোসেন। বলেছেন, ‘একজনও পেস বোলার না নিয়ে আমরা ঢাকা টেস্ট খেলছি। অবশ্য আমাদের কন্ডিশন, উইকেট ওই রকমই ছিল। দেশের মাটিতে এভাবে খেলে সফল হয়েছি। দলের পরিকল্পনা হয়তো সেভাবেই হয়েছিল। পেস বোলারদের জন্য একটু তো খারাপ লেগেছেই। টেস্ট সিরিজে আমাদের পরিস্থিতি তেমনই ছিল। স্পিনারদের জন্য সহায়ক উইকেট তৈরি করা হয়েছিল। স্পিনাররা খুব ভালো করেছে। তবে পেস বোলারদের খেলতে না পারাটা একটু দুঃখজনক।’

রুবেল আশাবাদী ওয়ানডে সিরিজে বদলাবে উইকেটের চরিত্র। তাই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের জয়ে অবদান রাখতে চান পেসাররা। পেসারদের প্রতিনিধি হিসেবে কাল রুবেল যেমনটি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, ওয়ানডেতে এমন হবে না। ওয়ানডেতে উইকেটে ওইভাবে স্পিন থাকবে না। আমার কাছে মনে হয় না ওরকম হবে। আমাদের পেসারদের সামর্থ্য আছে এবং ওয়ানডে আগে জিতিয়েছেন পেস বোলাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও তা হয়েছে। আর নিজেদের এই কন্ডিশনে তো অবশ্যই জেতাতে পারবে। আমাদের যে পেস বোলার আছে তারা যেকোনো কন্ডিশনে দলকে জেতানোর সামর্থ্য রাখে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পেস আক্রমণে আছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুস্তাফিজুর রহমান, আবু হায়দার রনি, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন এবং রুবেল। সতীর্থদের ওপর আস্থা রেখে রুবেল বলেছেন, ‘আমাদের টেস্ট ক্রিকেটে সব সময় স্পিনাররাই রাজত্ব করে আসছে। আর ওয়ানডে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ফরম্যাট। এই ফরম্যাটে আমাদের পেসাররা যেভাবে খেলে আসছে আমার মনে হয় সেটা ঠিক আছে।’

আসন্ন সিরিজে ব্যক্তিগতভাবে রুবেলেরও একটা লক্ষ্য আছে। ডেথ ওভারে নিজেকে নতুন করে প্রমাণের সুযোগ নিতে চান তিনি। কারণ ইনিংসের শেষের দিকে বল হাতে একের সময় একেক রকমের পারফরম্যান্স করেন তিনি। মিতব্যয়ী খুব কমই দেখা যায় তাকে। ডেথ ওভারে বল হাতে উদার রুবেলকেই দেখা যায়। এটার প্রভাবটা কম-বেশি তার ক্যারিয়ারেও পড়েছে। দল থেকে বাদও পড়েছিলেন তিনি। এভার ধারাবাহিকতায় নজর দিতে চান রুবেল। সে লক্ষ্যে বাড়তি পরিশ্রম এবং অনুশীলনও করেছেন তিনি, ‘শেষ দুই-তিনটা সিরিজে আমি খুব ভালো ছন্দে ছিলাম। সব সময় যা করি, সুযোগ পেলে নিজের সেরা ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব। এবার অনেক কষ্ট করছি ডেথ ওভারের বোলিং নিয়ে। আমার মূল শক্তিই হচ্ছে ডেথ ওভারের বোলিং। আমাকে শেষ ১০ ওভারে বোলিং করতেই হবে। এমন পরিস্থিতিতে ভালো বোলিং করে দলকে জেতানো যায়, আবার খারাপ করলে দল হেরেও যায়। তাই আমাকে আরো বেশি মনোযোগ দিতে হয়। এখন আরেকটু বেশি জোর দিচ্ছি ডেথ ওভারের বোলিংয়ে।’

 

"