কলঙ্কিত মেয়েদের ব্যালন ডি’অর

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

১৯৫৬ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর বা বর্ষসেরা পুরস্কার ছেলেদের হাতে তুলে দিচ্ছে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকী। মেয়েদের জন্য পুরস্কারটি চালু করা হয়েছে এ বছর থেকে। আর অভিষেক বছরেই কিনা মেয়েদের ব্যালন ডি’অর যাত্রা শুরু করল ‘যৌন হয়রানি’ বিতর্কের ঝড় তুলে!

পরশু প্যারিসে এক জমকালো অনুষ্ঠানে অভিষেক ট্রফিটা তুলে দেওয়া হয় লিঁওর নরওয়েজিয়ান তারকা আডা হেগেরবার্গের হাতে। গত মৌসুমে ফরাসি ক্লাবটির হয়ে লিগ জয়ের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাও জিতেছেন ২৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। কিন্তু পরশু তার ক্যারিয়ারের ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিতর্কের কালি ছিটিয়েছেন ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ডিজে (ডিস্ক জকি) মার্টিন সলভেইগ।

ট্রফি জয়ের পর মঞ্চে কথা বলেন হেগেরবার্গ। এ সময় সঞ্চালক সলভেইগ কিছু করে দেখাতে বলেন হেগেরবার্গকেÑ এমন কিছু যা তার ‘দক্ষতা’র বাইরে। এই কথা বলে হেগেরবার্গকে ‘টুয়ের্ক’ (কোমর দুলিয়ে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী নাচ) করতে বলেন সলভেইগ।

হেগেরবার্গ এই প্রস্তাবের জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে ‘না’ বলে মঞ্চে ছেড়ে যাচ্ছিলেন। যদিও কিছুক্ষণ নাচতে হয় তাকে। হেগেরবার্গের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল ব্যাপারটা খুব একটা উপভোগ করছেন না। এদিকে, সলভেইগ ওই প্রস্তাব দেওয়ার পরপরই ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ক্রীড়াঙ্গনের খ্যাতিমান তারকারা সমালোচনা করেছেন সলভেইগের এই আচরণের। সলভেইগের ওই আচরণের সময় অতিথি আসনে বসে থাকা তারকা ফুটবলাররাও ব্যাপারটি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি। কিলিয়ান এমবাপ্পের মুখের চাহনিই বলে দিচ্ছিল তার কাছে ব্যাপারটি ভালো লাগেনি। সলভেইগ অবশ্য পরে ক্ষমা চেয়েছেন হেগেরবার্গের কাছে। তার টুইট, ‘আডাকে বুঝিয়ে বলেছি এবং সে ব্যাপারটি মজা হিসেবে মেনে নিয়েছে। তারপরও কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে ক্ষমা চাচ্ছি।’

হেগেরবার্গ নিজেও ঘটনাটি হালকা চোখে দেখছেন। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ব্যাপারটি ওভাবে (যৌন হয়রানি) দেখছি না। আমার কাছে ব্যালন ডি’অর বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ এতেও বিতর্ক থামছে না। খ্যাতনামা ফুটবল ব্লগার শন ওয়াকার এক টুইটে ধুয়ে দিয়েছেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালককে।

 

"