ঢাকা টেস্টে তিন পেসার?

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জিম্বাবুয়ের কাছে সিলেট টেস্টে বিব্রতকর হার। বাংলাদেশের হারের ধরনটা যেমন সমালোচিত তেমনি একাদশ নির্বাচনটাও ছিল বেশ প্রশ্নবিদ্ধ। ১৫১ রানের হারের হতাশাটা ভালোই পেয়েছে বসেছে খেলোয়াড় থেকে শুরু করে নির্বাচকদের পর্যন্ত। ঘুরে দাঁড়াতে কেমন হবে বাংলাদেশের ঢাকা টেস্টের একাদশ? এ নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। সব গুঞ্জন উড়ে গেছে। তামিম ইকবালের ফেরা হচ্ছে না জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তুষার ইমরানের দলে ঢোকারও নেই সম্ভাবনা। উদ্বোধন জুটিতে এক সময়কার তার সঙ্গী সৌম্য সরকারের প্রত্যাবর্তন হচ্ছে না লাল বলের ক্রিকেটে।

বিভিন্ন সূত্রের খবরে এটাও নিশ্চিত হয়ে গেছে। সমতায় ফেরার টেস্টে এক পেসার নিয়ে খেলার ঝুঁকিতে যাবে না বাংলাদেশ দল। সিলেটের অভিষেক টেস্টে টাইগারদের একাদশে মাত্র একজন পেসার নিয়ে খেলার জন্য যথেষ্ট মুন্ডুপাত হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। এবার অমন আত্মঘাতী নির্বাচন থেকে স্বাভাবিক দল নির্বাচনে ফিরে আসছে ম্যানেজমেন্ট। শোনা যাচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে তিনজন বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে মাঠ নামছে টাইগাররা।

এদের একজন মুস্তাফিজুর রহমান। সবকিছু ঠিক থাকলে কাল থেকে শুরু হওয়া ঢাকা টেস্ট দিয়ে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ফিরবেন কাটার মাস্টার। কাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলনে বেশ মনোযোগী মুস্তাফিজেরই দেখা মিলল। শুধু বাঁ-হাতি পেসারই নন, পরশু সিলেট থেকে ঢাকায় পা রাখা পুরো বাংলাদেশ দলই গা গরমের মিশনে নেমে পড়েছে পরের ম্যাচের জন্য। ঢাকা টেস্টের একাদশ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে দলের ভেতরের আবহটা এক রকম পরিষ্কার। এই টেস্টে কয়েকটা পরিবর্তনই আসছে।

বাংলাদেশের প্রধান কোচ স্টিভ রোডসের অভিযোগ ছিল সিলেট টেস্টের উইকেটই বোঝেনি দল। ঢাকা টেস্টের উইকেট কেমন হবে সেটা নিয়েও কৌতুহল আছে যথেষ্ট। তবে উইকেট যেমনই হোক, তিন স্পিনারে খেলতে যাচ্ছে না টাইগাররা। একজন স্পিনার যদি বাদ পড়েন সিলেট টেস্টে চার উইকেট পাওয়া নাজমুল ইসলাম অপু ছিটকে যেতে পারেন একাদশ থেকে। তার পরিবর্তে দলে ঢুকে পড়ার কথা মুস্তাফিজের। দলের সেরা উইকেটশিকারি বোলার, অথচ তিনিই কিনা খেললেন না সিলেট টেস্ট। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট চায়, চোট প্রবণ মুস্তাফিজকে সতর্কভাবে ব্যবহার করতে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে ‘ফিজ’কে তাই একটি টেস্ট খেলানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

মুস্তাফিজ যদি ফেরেনই, তখন দলে দেখা যেতে পারে তিন পেসার। দুজন বিশেষজ্ঞ পেসার তো থাকবেনই, সঙ্গে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে থাকবেন আরিফুল হক। অভিষেক টেস্টে ৪১* ও ৩৮ রানের দুটি ইনিংস খেলে ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশা পূরণ করলেও তার বোলিং সেভাবে কাজে লাগাতে দেখা যায়নি। তাতে তারও খুব একটা দায়ও নেই। প্রথম ইনিংসে মাত্র চার ওভার বোলিং করার সুযোগ পেয়েছেন, পরে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তাকে আর ব্যবহারই করেননি।

আরিফুল অবশ্য অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে যথার্থ বলছেন। তিনি বরং নিজের উন্নতির অনেক কিছু দেখছেন, ‘যে উইকেটটা ছিল (সিলেটে) সেখানে আমার বোলিং মানানসই ছিল না। উইকেট পেস বোলিং-সহায়ক থাকলে হয়তো বোলিং করতাম। মনে করি আমাকে ঘরোয়া ক্রিকেটে আরো ভালো বোলিং করতে হবে। বিপিএল বা অন্য টুর্নামেন্টে যদি আমি ভালো বোলিং করি, তাহলে অবশ্যই জাতীয় দলে টানা বোলিংয়ের সুযোগ পাব।’

অভিষেকে নজরকাড়া কিছু করার সুযোগ না হলেও যেটুকু পেরেছেন, তাতে আরিফুল পাচ্ছেন সামনে এগোনোর আত্মবিশ্বাস। কাল অনুশীলনের আগে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘প্রথম টেস্ট ভালোই গিয়েছে আসলে। আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বোলাররা বাজে বল দেবে না, সেটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যেটা বোঝা দরকার, সেটি বুঝতে পেরেছি। এই পর্যায়ে খেললে চিন্তা-ভাবনায় যে পরিবর্তন আসে, সেটা আমার হয়েছে। চিন্তা-ভাবনায় পরিবর্তন এসেছে।’

যতটুকু করার ছিল, করেছেন আরিফুল। দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাব অন্তত দিতে পেরেছেন সীমিত সুযোগে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তৃপ্ত নন এতটুকুতেই। অভিষেকের স্বস্তিকে তাই ভেতরে বাসা বাঁধতে চান না। স্বপ্ন তার অনেক বড়। আরিফুল বলেছেন, ‘এখনো ওরকম কিছু করিনি। আমার চিন্তা বড় কিছু করার। যা খেলেছি, ভুলে যাচ্ছি। সামনে কীভাবে ভালো করা যায়, সেটাই মূল ভাবনা। আমার স্বপ্ন ছিল টেস্ট খেলার। আমি চাই যে দীর্ঘদিন টেস্ট খেলতে বা জাতীয় দলে থাকতে। সব ফরম্যাটেই খেলার ইচ্ছা আছে। আমার চাওয়া হলো, যে ফরম্যাটে যেভাবে দরকার, সেভাবেই খেলব।’

 

"