হেরাথের দুঃস্বপ্নের বিদায়

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

নব্বই দশকের শেষ ক্রিকেটার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন রঙ্গনা হেরাথ। জয় দিয়েই বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চেয়েছিলেন বাঁ-হাতি স্পিনার। সতীর্থদেরও ইচ্ছে ছিল হেরাথকে বিদায়ী অর্ঘ্য হিসেবে জয় উপহার দিতে। কিন্তু সেটা পারেনি শ্রীলঙ্কা। হেরাথের বিদায়ী টেস্টে কাল ইংল্যান্ডের কাছে ২১১ রানে হেরে গেছে লঙ্কানরা।

গল টেস্টে জিততে হলে স্বাগতিকদের গড়তে হতো ৪৬২ রান তাড়া করে জয়ের বিশ্ব রেকর্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ১৫ রানে তৃতীয় দিন শেষ করে আশাটা জিইয়ে রেখেছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু সেই আশা হার মেনেছে বাস্তবতার কাছে। চতুর্থ ইনিংসে ২৫০ রানেই গুটিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা।

পরশু ইংল্যান্ড তৃতীয় দিনে ইনিংস ঘোষণা করায় হেরাথের টেস্ট ক্যারিয়ার ৪৩৩ উইকেটে থেমে যায়। ৪০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি স্পিনার ত্রিশোর্ধ্ব ক্রিকেটারদের প্রেরণা হয়েই থাকবেন। ১৯৯৯ সালে ২১ বছর বয়সে তার টেস্ট অভিষেক। কিন্তু মুত্তিয়া মুরালিধরনের সময়ে জন্মেছিলেন। মুরালি খেলাকালীন শ্রীলঙ্কা দলে খুব কমই সুযোগ পেয়েছেন। মুরালি অবসর নেওয়ার পর হেরাথের মূল্যটা বুঝতে পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। টেস্টে হেরাথ তার ৪৩৩ উইকেটের প্রায় অর্ধেকসংখ্যক (২১৬) উইকেটই শিকার করেছেন ছত্রিশে পা রাখার পর!

এমন খেলোয়াড়কে প্রাপ্য সম্মান দিতে ভোলেনি ইংল্যান্ড। ৭৯.৩ ওভারে দিলরুয়ান পেরেরা আউট হওয়ার সময় শ্রীলঙ্কার স্কোর ৯ উইকেটে ২৩৯। অর্থাৎ হাতে আরো একদিন থাকায় হার নিশ্চিত হয়েছে বেশ আগেই। কিন্তু শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে হেরাথ মাঠে ঢুকতেই হর্ষধ্বনিতে ফেটে পড়েন লঙ্কান সমর্থকেরা। হেরাথের শেষবারের মতো মাঠে নামার দৃশ্যটা ক্যামেরাবন্দি করে রাখেন অনেকে। মাঠে ঢুকে পেয়েছেন গার্ড অব অনারও। প্রায় ৬ ওভারের মতো উইকেটে ছিলেন হেরাথ। ৮৫.১ ওভারে তার রান আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা, সেই সঙ্গে গুটিয়ে গেল হেরাথের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও।

তার আগে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। লাঞ্চের আগে ৯৮ রান তুলতেই ফিরেছেন তিন টপ অর্ডার দিমুথ করুণারতেœ, কুশল সিলভা ও ধনঞ্জয়া সিলভা। এরপর আর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। সর্বোচ্চ ৫৩ রান এসেছে অ্যাঞ্জেলা ম্যাথুসের ব্যাট থেকে। ৪ উইকেট নিয়েছেন ইংলিশ স্পিন অলরাউন্ডার মঈন আলী। অভিষেক টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান বেন ফোকস ম্যাচসেরা।

আউট হওয়ার পর দুই দলের নেতৃত্ব দিয়েই মাঠ ছেড়েছেন হেরাথ। নব্বই দশকের সর্বশেষ টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে নিজের প্রিয় মাঠ থেকেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানোর সুযোগ পেলেন তিনি। বিদায়লগ্নে সংবাদমাধ্যমকে হেরাথ বলেন, ‘বেশ আবেগপূর্ণ মুহূর্ত। তবে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়াটা ছিল ভীষণ সম্মানের ব্যাপার। এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে চাই।’ হেরাথের আশাটা পূরণ হোক এটাই প্রত্যাশা ভক্তদের।

 

"