শেষ ষোলোতে বায়ার্ন মিউনিখ

রিয়াল-সিটির গোলবন্যার রাত

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

কয়েক দিন আগেই বিশাল ঝড় বয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদের ওপর দিয়ে। সেই ঝড়ে লা লিগায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল লস ব্লাঙ্কোসরা। চাকরি হারিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ হুলেন লোপেতেগি। অতঃপর প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর অন্তবর্তীকালীন হিসেবে ডাগআউটের দায়িত্ব তুলে দিলেন রিয়াল ‘বি’ দলের কোচ সান্তিয়াগো সোলারির কাঁধে। আর তাতেই যেন ধরে নতুন প্রাণ পেল অলহোয়াইটরা। সোলারির অধীনে তিনটি ভিন্ন রকমের টুর্নামেন্টের তিনটিতে জয় পেয়েছে তারা। পরশু আবার চেক প্রজাতন্ত্রের ক্লাব ভিক্টোরিয়া প্লাজেনের বিপক্ষে ৫-০ গোলের গোল উৎসব করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। জোড়া গোল করেন করিম বেনজেমা।

লা লিগায় অবস্থান যা হোক না কেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে এলেই যেন জ্বলে উঠে রিয়াল। গত তিন আসরের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন তারা। কিন্তু কোচ জিনেদিন জিদান ও পর্তুগিজ উইঙ্গার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়া যেন কেমন ছন্নছাড়া লাগছিল রিয়ালকে। এমনকি ব্লাঙ্কোসরা অবাক করে দিয়ে হেরে বসে রাশিয়ান ক্লাব সিএসকেএ মস্কোর বিপক্ষে। ভাগ্যিস তা ছিল গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। তবে সোলারির অধীনে এবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। পরশু তো চ্যাম্পিয়নস লিগে ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে প্লাজেনকে নিয়ে এক প্রকার ছেলে খেলাই খেলল গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা।

অবশ্য গত ম্যাচেও প্লাজেনের বিপক্ষে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে জয় পেয়েছিল রিয়াল। পরশু তুলে নিল চলতি মৌসুমের সবচেয়ে বড় জয়টিও। জোড়া গোল করেন করিম বেনজেমা। ২০ মিনিটে প্রথম গোলটি করে সপ্তম খেলোয়াড় হিসেবে ছুঁয়েছেন রিয়ালের জার্সিতে ২০০ গোলের মাইলফলক। পরে ৩৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। তার আগে ২৩ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন কাসেমিরো। ৪০ মিনিটে গ্যারেথ বেলের গোলে ৪-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে প্লাজেনের জালে শেষ বলটি জড়িয়ে দেন টনি ক্রুস।

মাইলফলক ছোঁয়ার দিনে বেনজেমা বলেন, ‘ইতিহাস পুনরায় লেখার জন্য আমি ফুটবল খেলি। মাঠে আমি কী করি তা মানুষ বোঝে না। আমি মাঠে নামলেই গোল করতে চাই। সর্বোচ্চটা দিতে চাই।’

রিয়ালের আনন্দের রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘এফ’ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটিও। ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের হ্যাটট্রিকে সিটিজেনরা ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেৎস্ককে। নিজেদের শেষ সাক্ষাতেও শাখতারের বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছিল কোচ পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত সিটিজেনদের এটিই সবচেয়ে বড় জয়। জেসুস ২৪ ও ৭২ মিনিটের গোল দুটি করেন পেনাল্টি থেকে। পরে যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। ইতিহাদকে অবশ্য ১৩ মিনিটে প্রথম উল্লাস এনে দেন ডেভিড সিলভা। ৪৮ মিনিটে চতুর্থ গোল করেন রহীন স্টার্লিং। ৮৪ মিনিটে পঞ্চম গোল করেন রিয়াদ মাহারেজ।

অন্যদিকে বার্সেলোনার পরে পরশু দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ষোলোত পা রেখেছে বায়ার্ন মিউনিখ। পরশু ঘরের মাঠ অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় রবার্ট লেভানডভস্কির (৩১ ও ৭১ মিনিট) জোড়া গোলে অ্যাথেন্সকে হারিয়েছে বাভারিয়ানরা।

"