বাজে ব্যাটিংয়ে লজ্জার হার

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সিলেট

কাগজে-কলমের হিসেবে সিলেটের অভিষেক টেস্টে স্বাগতিক বাংলাদেশ হেরেছে চার দিনে। কিন্তু সময়ের হিসেবে প্রায় সাড়ে তিন দিনে! দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় অসহায় আত্মসমর্পণ করল টাইগাররা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল দীর্ঘ ১৭ বছর পর জিম্বাবুয়েকে দিয়েছে বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ। আর পাঁচ বছর পর টেস্টে জয়ে ফিরলেন মাসাকাদজা-টেলররা।

সিরিজের প্রথম টেস্টে জিম্বাবুয়ে জিতেছে ১৫১ রানে। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা। এই ম্যাচে জয় পেতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়তে হতো বাংলাদেশকে। রেকর্ড গড়া দূরে থাক, মাহমুদউল্লাহর দল যেতে পারেনি ধারে-কাছেও। ৩২১ রান তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের এক সেশন বাকি থাকতেই অলআউট হয়েছে ১৬৯ রানে।

৩২১ রানের বিশাল লক্ষ্যে চতুর্থ দিনে ব্যাট করে জেতাটা স্বাগতিকদের কাছে ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। পরিসংখ্যানও বিপক্ষে ছিল বাংলাদেশের। চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করে ২৩ টেস্টের মাত্র তিনটিতে জিতেছে টাইগাররা। এদিন সকালে পুরো ১০ উইকেট হাতে রেখে ২৯৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। দিনের শুরুটা কোনোভাবে কাটিয়ে দিয়েছিলেন আগের দিনের অপরাজিত দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস। গড়েছিলেন ম্যাচে টাইগারদের সর্বোচ্চ ৫৬ রানের জুটি। ইনিংসের ২৩তম ওভারে লিটন সাজঘরে ফেরার পরেই শুরু হয় ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার মিছিল। ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৩ রান আসে ইমরুলের ব্যাট থেকে। এ ছাড়া অভিষিক্ত আরিফুল ব্যতীত বাকি সবাই করেন প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তি।

ইমরুল-লিটনের প্রতিরোধ গড়া এই জুটি ভাঙেন সিকান্দার রাজা। আর তাতেই শনির দশা দেখা দেয় বাংলাদেশ শিবিরে। রাজার বলে পুল করতে গিয়ে পরাস্ত হন লিটন। বল গিয়ে লাগে সরাসরি উরুতে। সিকান্দার রাজা আপিল করলে অনফিল্ড আম্পায়ার নট আউটের সিদ্ধান্ত দেন। অবশ্য জোরালো এই আবেদনের রিভিউ নেয় জিম্বাবুয়ে। তখনই ড্রেসিংরুমের পথ ধরতে হয় ২৩ রান করা বাংলাদেশের এই ওপেনারকে।

বাংলাদেশের টেস্টের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুমিনুল এই ইনিংসেও ব্যর্থ ছিলেন। কাইল জার্ভিসের বাড়তি বাউন্সে ভারসাম্য রাখতে না পারায় বল ভেতরের কোণায় লেগে আঘাত করে স্টাম্প। নিজের নামের পাশে ৯ রান যোগ করে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল।

অপর প্রান্ত আগলে রাখা ওপেনার ইমরুল কায়েস লড়াইয়ের লক্ষ্যেই ব্যাট করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সিকান্দার রাজার ঘূর্ণি বলে শেষ রক্ষা হলো না তার। ৪৩ রানে ব্যাট করতে থাকা ইমরুল আচমকা প্যাডল সুইপ করতে গিয়েছিলেন লেগ স্টাম্প ফাঁকা রেখে। সেই সুযোগে সিকান্দার রাজার ঘূর্ণি বল সরাসরি আঘাত হানে স্টাম্পে।

ম্যাচে টাইগাররা যে হারবে তা আরো স্পষ্ট হয় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সিকান্দার রাজার বল গ্লাভস ছুঁয়ে চলে যায় শর্ট লেগে থাকা মিডফিল্ডারের হাতে। ব্যক্তিগত ১৬ রানে বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ।

প্রথম সেশনের আর এক বল বাকি থাকতে পরের আবারও উইকেটের পতন। মাহমুদউল্লাহর দেখানো এবার হাঁটলেন নাজমুল হাসান শান্ত। ব্রেন্ডন মাভুতার শর্টার লেন্থের লাফিয়ে ওঠা ঘূর্ণি বলটিতে অযথাই লুজ শট খেলেন। পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা রাজা তার ক্যাচ লুফে নিতে ভুল করলেন না। শান্ত ফেরেন ১৩ রান করে।

এরপর মুশফিকের ওপর পড়ে দলকে টেনে নেওয়ার মূল দায়িত্ব। কিন্তু পুরোপুরি মনোযোগ রাখতে না পারায় চাপের কাছেই নতি স্বীকার করলেন মুশি। সøগ সুইপ খেলতে গেলে ব্যাটে বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি ঠিকমতো। মাভুতার বাড়তি বাউন্সের স্পিন খেলতে গেলে টপ এজ হয়ে ধরা পড়েন ওয়েলিংটন মাসাকাদজার হাতে। তাতে ৪৪ বল খেলা মুশফিকের ইনিংসটি ইতি ঘটে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার মিছিলে। নতুন নামা মেহেদী হাসান মিরাজও সুবিধা করতে পারে নি। মাভুতার লেগ স্পিনে খোঁচা মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন উইকেট রক্ষককে। এরপর দ্রুত যাবার পালা। ওয়েলিংটনের বলে তাইজুল পরের ওভারে মাভুতার বলে লেগ বিফোর হয়ে ফেরেন নাজমুল ইসলাম। অপর প্রান্তে লম্বা শট খেলতে গিয়ে আরিফুল ৩৮ রানে ওয়েলিংটনের বলে ধরা পড়েন রেগিস চাকাভার হাতে।

জিম্বাবুয়ের স্পিনাররই বেশ সফল ছিলেন কালকের ইনিংসে। ব্রেন্ডন মাভুতা ১০ ওভারে ২১ রান দিয়ে নেন চার উইকেট। ৪১ রান দিয়ে তিনটি নেন সিকান্দার রাজা, দুটি নেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। ম্যাচসেরা হয়েছেন শন উইলিয়ামস।

 

"