‘ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে’

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

তার বয়সের অনেকেই জার্সিটা তুলে রেখেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিয়েছেন অবসর। একটু দেরিতে হলেও বিদায়ী সুর বেজেছে রঙ্গনা হেরাথের। নব্বই দশকের শেষ ক্রিকেটার হিসেবে আজ বিদায়ী টেস্ট খেলতে নামছেন লঙ্কান কিংবদন্তি। যে গলে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ঠিক সেই মঞ্চেই শেষের শুরু হচ্ছে তার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হওয়া হেরাথের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। আবেগঠাসা এই ম্যাচটিতে মাঠে নামার আগে ক্রিকইনফোকে হেরাথ খুলে দিয়েছেন মনের দুয়ার। পাঠকের জন্য লঙ্কান স্পিনারের বলা কথাগুলো সাক্ষাৎকার আকারে তুলে ধরা হলো :

 

* আপনি বলেছিলেন সিরিজ শেষের পরেই অবসর নেবেন, কিন্তু তার আগেই অবসর নিচ্ছেন কেন?

রঙ্গনা হেরাথ : গত ১২ থেকে ১৮ মাসের হিসাব যদি দেখেন, পুরনো সমস্যা হাঁটুর চোটের কারণে আমি তিন ম্যাচের সিরিজ খেলিনি। এটাও তিন ম্যাচের সিরিজ। সুতরাং আমি চিন্তা করেছি এই ফিটনেস নিয়ে পুরো সিরিজ খেলা আমার জন্য কঠিন হবে। তাই নির্বাচকমন্ডলী, এসএলসি, অধিনায়ক এবং কোচ আমার আমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সবার পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার মনে হয় এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।

* ২০০৯ সালে আপনি দলে স্থিতিশীল একটা জায়গা নেন। কীভাবে ডাক পেয়েছিলেন তা কী মনে আছে?

হেরাথ : আমি স্টাফোর্ডশায়ার লিগে মডারশেলের হয়ে খেলছিলাম। দলটিতে আমি তিন মাস ধরে খেলছিলাম তখন আমি কুমার সাঙ্গাকারার কল পেলাম। ওই সময় সে ছিল শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। সে বলল, ‘মুরালি (মুত্তিয়া মুরালিধরন) চোটে পড়েছে, তোমার ফর্ম কেমন?’ সে আমাকে জিজ্ঞেস করল, টেস্টটির জন্য আমি আসতে পারব কিনা এবং আমি কীভাবে সেখানে যাব তা না ভেবেই আমি হ্যাঁ বলে ফেললাম। তারা সবকিছু আমার জন্য আয়োজন করে ফেলল। বিশেষ করে ওই সময় মাঠের বাইরে আমাকে সাহায্য করেছিল। আমি কলম্বো এলাম এবং গলে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামলাম।

* কখনো ভেবেছিলেন শীর্ষ স্তরে এটাই আপনার শেষ সুযোগ হবে?

হেরাথ : আমি তখন অত্যন্ত অভিজ্ঞ যার কারণে আমি সুযোগটা পেয়েছিলাম। কারণ তার আগে ১০ বছর ধরে আমি পেশাদারিত্বের সঙ্গে খেলেছি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে সাহায্য করেছিল। কিন্তু ম্যাচটিতে যদি আমি ভালো না খেলতাম তবে তা আমার জন্য শেষ টেস্ট হয়ে থাকত। যদিও আমি ঠিক রাস্তায় ছিলাম। আমি দীর্ঘদিন ধরে ক্লাব এবং ‘এ’ দলের হয়ে খেলেছি। যার কারণে আমার মনে হয়েছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে আমার ভালো করা উচিত। বিশ্বাস ছিল আমি পারব।

* মুরালিধরন, ওয়ার্নের পর আপনি চতুর্থ ইনিংসে বেশি পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। এটা কীভাবে সম্ভব হলো?

হেরাথ : প্রথমতো আমাদের তাকানো উচিত কোথায় আমি পাঁচ উইকেট শিকার করেছিÑ তার মধ্যে অধিকাংশ হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। যেখানে চতুর্থ ইনিংসে পিচ টার্ন করে এবং আমি দীর্ঘ সময় ধরে নিজের শক্তি দিয়ে লাইন-লেংথ ঠিক রেখে বোল করতাম। আপনি যখন তা করবেন তখন আপনি পিচ থেকে অনেক সাহায্য পাবেন। আমি মনে করি, এই রেকর্ডের জন্য এসবই বড় কারণ।

* কখনো কি স্বপ্ন দেখেছিলেন একজন সফল বাঁ-হাতি স্পিনার হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করার?

হেরাথ : অতীতে আমার তেমন কোনো বড় পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু যখন আপনি দীর্ঘ সময় ধরে খেলতে থাকবেন, তখন ১০০ উইকেটÑ ২০০ উইকেট করে একেকটি মাইলফলক স্পর্শ করতে থাকবেন। তখন আপনি শিখবেন কীভাবে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ম্যাচ জিততে হয়।

* অনেক দিন আপনি চোটে ভুগেছেন। তারপরও কীভাবে আপনি ক্যারিয়ারটাকে এত দীর্ঘায়িত করলেন?

হেরাথ : স্পিনারদের একটা সুবিধা আছে। আপনি ৪০ বছর ধরে খেলতে পারবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফিটনেস বজায় রাখা। তাই আমি আমার সব ফিজিও প্রশিকক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যাদের সঙ্গে আমি প্রচুর কাজ করেছি। তাদের সহযোগিতা এবং আমার ইচ্ছা ও ত্যাগের ফলে ৪০ বছর বয়সেও আমি খেলে যাচ্ছি।

* কোনো অনুশোচনা আছে?

হেরাথ : না, আপনি যদি ওয়ানডে ক্রিকেট হিসাব করেন, আমরা বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে হেরেছি। অবসরের আগে ক্রিকেট জীবনে আমার কোনো অনুশোচনা নেই। ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে।

* আপনি কী মনে করেন দলকে আপনি একটা ভালো অবস্থানে রেখে যাচ্ছেন? আপনার বদলযোগ্য হতে পারে এমন বোলার কে আছেন ?

হেরাথ : বর্তমানে আকিলা ধনাঞ্জয়া এবং দিলরুয়ান পেরেরা খেলছে। বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে মালিন্দা পুষ্পকুমার এবং লক্ষণ সান্দাকান আছেন। তারা সবাই ভালো বোলার। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তাদের সুযোগ দিতে হবে। তাদের পারফর্ম করার জন্য আমাদের ভালো পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আমি নিশ্চিত তারা এই সমস্ত সুযোগ পাবে এবং তারা ভালো করবে।

* অবসর পরবর্তী আপনার পরিকল্পনা কী?

হেরাথ : সাম্পাথ ব্যাংকের সঙ্গে আমি ২০০০ সাল থেকে কাজ করছি। খেলা ছাড়ার পর আমি এখানে কাজ করব।

 

"