ব্যাটিং বিপর্যয়ের একদিন

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সিলেট

দ্বিতীয় দিনে সকালের শুরুটা দারুণ করেছিলেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি অর্থোডক্স বোলার তাইজুল ইসলাম। উইকেটে প্রথম দিনের অপরাজিত মুর ও রেগিস চাকাভা ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন বড় সংগ্রহের। দ্বিতীয় দিনের ১৩ ওভারে এলো ব্রেক থ্রু। তাইজুলের ঘূর্ণিতে ধরা দেন আশা চাকাভা, শর্ট লেগে ক্যাচ তুলে দেন নাজমুলের হাতে। ২৮ রানে ফিরে যান সাজঘরে। মুর ও চাকাভার ৩৫ রানের জুটিতে আঘাত হানেন বাঁ-হাতি এই স্পিনার। এরপর স্পিনারদের ঘূর্ণিতে মাত্র ১১ রান যোগ করতেই সাজঘরে ফেরেন সফরকারী দলের বাকি চার ব্যাটসম্যন। ২৮২ রানে থামে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস।

কিন্তু এমন শুরুর কথা হয় তো কল্পনায়ও ভাবেনি বাংলাদেশ! ব্যাটিংয়ে নেমেই হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ল বাংলাদেশের টপ অর্ডার। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে অলআউট মাহমুদউল্লাহর দল। দিনের শুরুটা বোলারদের সফলতায় নিজের করে নিলেও দুই সেশনে সব ছাপিয়ে জায়গা করে নেয় ব্যাটিং ব্যর্থতা! স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দ্বিতীয় দিনটি হয়ে থাকল জিম্বাবুয়ের। আর তাতেই অস্বস্তি নেমেছে বাংলাদেশ শিবিরে। দ্বিতীয় ইনিংসে পুনরায় ব্যাটিংয়ে নামলে দুই ওভারে বিনা উইকেটে এক রানে দিন শেষ করেছে জিম্বাবুয়ে। সফরকারীরা এগিয়ে থাকল ১৪০ রানে।

দ্বিতীয় সেশনে ব্যাটিং বিপর্যয় ছিল বাংলাদেশের। এই ধারাটা অব্যাহত থাকল তৃতীয় সেশনেও। জিম্বাবুয়ের ২৮২ রান তাড়া করতে নেমে ১৯ রানেই সাজঘরে ফেরেন চার ব্যাটসম্যান। স্বাগতিক শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন জিম্বাবুয়ের পেসার টেন্ডাই চাতারা। তার আগ্রাসী বোলিংয়ে ৪৯ রানে পঞ্চম উইকেট পতন ঘটলে পুরোপুরি ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। অন্যপ্রান্তে তাকে সঙ্গ দেন আরেক পেসার কাইল জার্ভিস।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারে চাতারার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ইমরুল কায়েস (৫)। বলটি ভেতরের কোণায় লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। পরের শিকার অবশ্য আরেক ওপেনার লিটন কুমার দাস (৯)। এবার জার্ভিসের বাইরের বলে লুজ শট খেলতে গিয়ে লিটন জমা পড়েন উইকেটকিপার চাকাভার গ্লাভসে। উইকেটে থিতু হতে পারেননি নাজমুলও (৫)। শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পারায় ব্যাটের কোণায় লেগে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা চাতারার কাছে।

দ্রুত উইকেট পতনে বিপদে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশের হাল ধরতে নেমেছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু বিপদ দূর করার বদলে উল্টো আরো চাপে পড়ে যায় তার দ্রুত বিদায়ে। মাত্র দুই বল খেলে চাতারার বলেই বোল্ড হয়ে তিনি ফিরলেন শূন্য রানে! মাঝে মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক মিলে ৩০ রানের জুটিতে সাময়িক কিছুটা স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা করেন।

ন্যূনতম এই প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে গেছে মুমিনুল ১১ রানে ফিরে। দলীয় ৪৯ রানে সিকান্দার রাজার বলে হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। পুরোপুরি বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়ার বাংলাদেশের ইনিংসের দিশা খোঁজার চেষ্টায় ছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিক ও অনভিজ্ঞ আরিফুল হক। এই জুটিতেই নির্ভর করছিল অনেককিছু। তাদের জুটি ২৫ রান পার হওয়ার পর তৃতীয় সেশনের দ্বিতীয় বলে মনোযোগ হারিয়ে বসেন মুশফিক। জার্ভিসের লাফিয়ে ওঠা বলে আউট সাইড এজ হয়ে ৩১ রানে তালুবন্দি হন তিনি। তখন বাংলাদেশের স্কোর ছয় উইকেটে ৭৮ রান।

আরিফুল অপর প্রান্ত ধরে খেলতে থাকেন এরপরেও। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে শেষ পর্যন্ত বৃথা যায় তার চেষ্টাটাও। মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গী করে কোনো রকম দলীয় সংগ্রহ পার করেন আরিফুল। এই জুটি আশা জাগিয়েছিল ঠিকই। কিছুটা অগ্রসর হওয়ার পর আবারও বিপর্যয়। ২১ রানে ব্যাট করতে থাকা মিরাজ বোলার শন উইলিয়ামসের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরান সাজঘরে।

‘নাইট ওয়াচম্যান’ খ্যাত তাইজুলিও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি ক্রিজে। আট রান করে সিকান্দার রাজার বলে বিদায় নেন তিনি। নাজমুলকে আবার সিকান্দার ফেরালে বড় লিডের সম্ভাবনা জাগে জিম্বাবুয়ের। শেষ উইকেটে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে আবু জায়েদ রাহি ফিরলে ১৪৩ রানে প্রথম ইনিংসের শেষ হয় স্বাগতিকদের। অপরাজিত ৪১ রানের আক্ষেপ নিয়ে উইকেট মাঠ ছাড়তে হয় আরিফুলকে। জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে সফল বোলার চাতারা ১০ ওভারে ১৯ রান খরচায় তুলে নেন তিন উইকেট। ১২ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে তিনটি শিকার করেন সিকান্দার। দুই উইকেট ঝুলিতে পুরেন জার্ভিস। একটি নেন শন উইলিয়ামস।

 

"